Sunday, 5 January 2014

অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ সরে দাঁড়ালেন ৫ জেলার ৭ প্রার্থী

নতুন বার্তা ডেস্ক
ঢাকা: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপিসহ বিভিন্ন অভিযোগে এখন পর্যন্ত ঢাকা, লক্ষ্মীপুর, ব্রাক্ষ্মণবাড়ীয়া, বরিশাল, জামালপুরের ৭ জন প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন।

সরে দাঁড়ালেন ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী এখলাস উদ্দিন মোল্লা
কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন ঢাকা-১৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেতা এখলাস উদ্দিন মোল্লা।

রোববার সকালে তিনি নির্বাচন কমিশনে এসে চিঠি দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ১২৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭০টি কেন্দ্র থেকে তার পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়েছে সরকার দলীয় প্রার্থী কামাল মজুমদার। এছাড়াও তিনি কারচুপি ও ভয়ভীতির অভিযোগ করেছেন।

লক্ষ্মীপুরে ২ প্রার্থীর নির্বাচন বয়কট
অর্ধ শতাধিক ভোটকেন্দ্রে কারচুপির অভিযোগ এনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এ কে এম আজাদ চৌধুরী ও এ কে এম শরিফ উদ্দিন। ওই আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আবদুল্লাহ আল মামুন।

নির্বাচন বর্জনের পর শরিফ উদ্দিন বলেন, প্রচুর কারচুপি ও ভোট জালিয়াতি হচ্ছে। ২৫টি কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। একটি কেন্দ্রে তার নিজের বোন পোলিং এজেন্ট ছিলেন। তাকে ঢুকতেই দেয়া হয়নি। কারচুপি ও জাল ভোটের প্রতিবাদে তিনি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী আজাদ উদ্দিন চৌধুরী নির্বাচন বর্জন করার পর তার সমর্থকদের নিয়ে রামগতি উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল থেকে ‘এ নির্বাচন অবৈধ’, ‘মানি না মানব না’ বলে স্লোগান দেওয়া হয়। পরে র্যাব লাঠিপেটা করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

জামালপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন
অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ, সরকারি দলের বাধা, বিভিন্ন কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে না দেয়া, পোলিং এজেন্ট অবরুদ্ধ ও এজেন্টদের কাছ থেকে ভোটার তালিকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে ভোটগ্রহণ শুরুর এক ঘণ্টা যেতে না যেতেই নির্বাচন বর্জন করেছেন জামালপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজ আহাম্মদ হাসান।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি সাংবাদিকদের জানান, রাতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা তার মনোনীত পোলিং এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কেন্দ্রে যেতে নিষেধ করে। এছাড়া অনেক কেন্দ্রেই তার এজেন্টকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে এসব অভিযোগ দেয়ার পরেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। তাই আমি তিনি নির্বাচন থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

এ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ।

জামালপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন
জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনে স্বতন্ত্রপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম লুইস ভোট কারচুপি ও এজেন্ট বের করে দেয়ার অভিযোগ এনে নিবার্চন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

বেলা সোয়া ১১টায় তিনি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোট কারচুপি ও তার এজেন্টদের বের করে দেয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় নিবার্চন সুষ্ঠ হওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই।

বরিশাল-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন
বরিশাল-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবিনা আকতার ব্যাপক কারচুপি, জাল ভোটসহ ভুরি ভুরি অনিয়মের প্রতিবাদে বেলা সোয়া ১১টায় সাংবাদিক সম্মেলন করে নির্বাচন বয়কট করেছেন।


তার স্বামী মহাজোটের শরীক জাসদের কেন্দ্রীয় সাংগঠিনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বাদল বলেন, নির্লজ্জভাবে কারচুপি ও অনিয়ম করে যাচ্ছে সরকারী দলের নেতাকর্মীরা এবং প্রশাসনেরও সহায়তা রয়েছেন তাদের পক্ষে।

ব্রাক্ষ্মণবাড়ীয়া সদর আসনের জেপি প্রার্থীর নিবার্চন বর্জন
সরকারের প্রহসনের নির্বাচনের সঙ্গী জাতীয় পার্টি (জেপি)র ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া সদর-৩ আসনের প্রার্থী ডা. ফরিদ আহম্মেদ নিজ ভোট দিতে না পারায় নিবার্চন বজনের ঘোষণা দিয়েছেন।

ব্রাক্ষ্মণবাড়ীয়া শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে সকাল সোয়া ১০টায় প্রার্থী ডা. ফরিদ আহম্মেদ ভোট দিতে এসে দেখেন তার ভোট দেয়া হয়ে গেছে। এ ঘটনায় তিনি ব্রাক্ষ্মণবাড়ীয়া জেলা প্রশাসক ও রির্টানিং অফিসার ড. মো. মোশারফ হোসেনকে বিষয়টি মুঠোফোনে অবগত করলে রির্টানিং অফিসার তার পোলিং এজেন্ট না দেয়ায় ভোট দেয়া হয়ে যেতে পারে বলে প্রার্থী ফরিদকে জানান।

রিটাংনিং অফিসারের এ ধরনের বক্তব্যে প্রার্থী ফরিদ আহম্মেদ জানান, এটি নির্বাচন নয়, এটি সিলেকশন। এ নির্বাচন থেকে তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন এবং নিবার্চনকে তিনি বর্জন করেছেন বলে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।