Tuesday, 14 January 2014

রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৩ শ’;.. প্রতিদিন গড়ে খুন হয়েছে ১২ জন..মহাজোট সরকারের ৫ বছরে ২২ হাজার মানুষ খুন

মহাজোট সরকারের পাঁচ বছরে সারা দেশে ২২ হাজার মানুষ খুন হয়েছেন। সে হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ১২ জন খুন হয়েছেন। এর মধ্যে সরকারের শেষ বছর ২০১৩ সালে খুনের ঘটনা ঘটেছে সবচেয়ে বেশি। এ বছর খুন হন চার হাজার ৪২৮ জন। গত বছর এবং চলতি বছরের শুরুতে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। গত ২৫ নভেম্বর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে গতকাল পর্যন্ত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে প্রায় ১৫০। এত খুনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ সদর দফতর এবং বিভিন্ন মানবাধিকার ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সূত্র অনুযায়ী, সরকারের শেষ বছর ২০১৩ সালে দেশে খুনের ঘটনা ঘটে চার হাজার ৪২৮টি। ২০১২ সালে চার হাজার ৪১২ জন খুন হয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০০৯ সালে সারা দেশে খুন হয়েছেন চার হাজার ২১৯ জন। ২০১০ সালে তিন হাজার ৯৮৮ জন খুন হয়েছেন এবং ২০১১ সালে খুন হয়েছেন তিন হাজার ৯৭০ জন। সব মিলিয়ে গত পাঁচ বছরে ২২ হাজার মানুষ খুন হয়েছেন। এ সময় অন্তত ২০ জন সাংবাদিককে খুন করা হয়েছে। পুলিশ ও বিজিবি সদস্যসহ বেশ কিছু হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এই সময়ে। সূত্র জানায়, বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা ঘটেছে গত পাঁচ বছরে। বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) সদর দফতর পিলখানায় বিদ্রোহের নামে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে ৫৭ সেনাকর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে। সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড, যুবলীগনেতা ইব্রাহীম, পল্টনে সাংবাদিক ফরহাদ খাঁ দম্পতি, গুলশানে স্বামী-স্ত্রী, নরসিংদীর মেয়র লোকমান হোসেন, পুরান ঢাকায় পুলিশ কর্মকর্তা গৌতম, যুবলীগনেতা মিল্কী, রামপুরায় ফটো সাংবাদিক আফতাব আহমেদ, পুলিশের সাবেক এডিশনাল এসপি ফজলুর রহমান, চামেলীবাগে পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান এবং তার স্ত্রী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জুবায়ের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু বকর, পুরান ঢাকায় ছাত্রলীগের হাতে বিশ্বজিৎ, নারায়ণগঞ্জে ত্বকি, ব্লগার রাজিব হত্যাকাণ্ডসহ বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা ঘটেছে। সন্তানের হাতে বাবা-মা খুন, বাবা বা মায়ের হাতে সন্তান, স্বামীর হাতে স্ত্রী, স্ত্রীর হাতে স্বামী, ভাইয়ের হাতে ভাই, বন্ধুর হাতে বন্ধুখুনসহ নানাভাবে এসব খুনের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ রাজধানীর গোপীবাগ এলাকায় এক বাড়িতে ছয় খুনের ঘটনা বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর প্রতিটি ঘটনায়ই মামলা হয়। কিন্তু চাঞ্চল্যকর বেশির ভাগ মামলার কোনো কূলকিনারা হচ্ছে না।
বেশ কিছু খুন হয়েছে রাজনৈতিক সহিংসতায়। গত পাঁচ বছরে রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রায় ১৩ শ’ মানুষ নিহত হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ২৫১ জন, ২০১০ সালে ২২০, ২০১১ সালে ১৩৫, ২০১২ সালে ১৮৪ জন এবং ২০১৩ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন চার শতাধিক মানুষ। 
গত পাঁচ বছরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন প্রায় ৭০০ মানুষ। তার মধ্যে গত বছরেই ঘটেছে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড। চলতি বছরের শুরুতেও বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০০৯ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মৃত্যু হয়েছে ১৫৪ জনের, ২০১০ সালে ১২৭, ২০১১ সালে ৮৪, ২০১২ সালে ৯৪ এবং ২০১৩ সালে তিন শতাধিক মানুষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের গুলিতে নিহত হন। এর মধ্যে রাজনৈতিক নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষসহ অনেক শ্রেণী-পেশার মানুষ রয়েছেন। 
গত পাঁচ বছরে সাত শতাধিক মানুষ গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এসব হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন অনেক নিরপরাধ মানুষও। সাভারের আমিনবাজারে ছয় শিার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর কথা স্মরণ করে এখনো আঁতকে ওঠেন অনেকে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৯ সালে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ১২৭, ২০১০ সালে ১৭৪, ২০১১ সালে ১৬১, ২০১২ সালে ১২৬ এবং ২০১৩ সালে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ১২৮ জন।