Sunday, 5 January 2014

কেন্দ্রের বাইরে মুহুর্মুহু ককটেল, ভেতরে দেদারসে জাল ভোট

ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম ব্যুরো
নতুন বার্তা ডটকম
চট্টগ্রাম: কেন্দ্রের আশেপাশে চলছে ভোট বিরোধীদের মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ, হামলার চেষ্টা আর পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পাশাপাশি চলছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ আর আওয়ামী লীগ কর্মীদের কেন্দ্রে ঢুকে জোর করে দেদারসে সীল মারার মহোৎসব। এ চিত্র জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম-১৫ সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রের। চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনের জাতীয় পার্টি প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম জাল ভোট ও প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও সংবাদকর্মীরা জানান, লোহাগাড়ায় সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন কেন্দ্রে ১০ থেকে ১৮টি করে ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন প্রিসাইডিং অফিসার। কিন্তু সাড়ে ১০টা থেকে আধ ঘন্টার মধ্যেই প্রায় ৪০০ ভোট কাষ্ট দেখানো হয় লোহাগাড়ার পুটিবিলা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে। একই অভিযোগ এসেছে পূর্ব তাতীপাড়া কেন্দ্র থেকেও। আধ ঘণ্টার ব্যবধানে ১২ ভোট থেকে কাস্ট ভোটের সংখ্যা দেখানো হয় ৭০০টি।


এই কেন্দ্রে দুদু মেম্বার, মো. আলী ও পুলন শীলসহ আরো কয়েকজন নৌকা সমর্থক জাল ভোট নিচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ভোট কেন্দ্রে ভোটার না থাকায় চুনতি উচ্চ বিদ্যালয়, বড়হাতিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, লোহাগাড়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, চুনতি ৮ নং ওয়ার্ড ভোট কেন্দ্র, পানত্রিশা প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে নৌকা সমর্থকরা ব্যাপকহারে ঘুরে ফিরে জাল ভোট দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নৌকা প্রার্থী আবু রেজা নদভীর ভাগিনা মো. ইব্রাহিম ও নৌকা সমর্থক মিনহাজ নারিশ্চা কেন্দ্রে পুলিশের সামনেই ব্যালট পেপারে সিল মেরে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সাতকানিয়ার মাদার্শা ইউনিয়নের দেউদিঘী উচ্চ বিদ্যালয়, আবু হুরায়রাহ মাদ্রাসা ও মাদার্শা রেজি. প্রাথমিক বিদ্যালয়েও ব্যাপক জাল ভোটের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের সামনেই এ কর্মকান্ড করা হলেও পুলিশ বরাবরই নিরব। এ ছাড়া সাতকানিয়ার কাঞ্চনায় একদল সশস্ত্র নৌকা সমর্থক ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার অপরাধে পাড়ার ভিতরে ঢুকে লোকজনের ওপর হামলা করেছে বলে ও খবর পাওয়া গেছে।

লোহাগাড়ার পশ্চিম কলাউজান খালাসীপাড়া কেন্দ্রে দুপুর ১২টার দিকে ইট-পাটকেল, ককটেল নিক্ষেপ করে হামলা চালালে প্রিসাইডিং অফিসারসহ পাঁচজন আওয়ামী লীগ কর্মী আহত হন। এরপর কেন্দ্রটি ভোটারশূন্য হয়ে পড়ে। আহত আওয়ামী লীগ কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন সোনা মিয়া , ঈসমাইল ও জামাল মেম্বার। ভোটার না থাকায় দুপুর সোয়া ১২টার দিকে জাল ভোট দেয়ার সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ-বিজিবি এলাকায় অবস্থান নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনার পর ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়ে যায়।

সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশার বড়ুয়াপাড়া স্কুল কেন্দ্রে সব ব্যালট পেপার ও বাক্স বের করে এনে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা । এ কেন্দ্রর আশেপাশে আরো দুটি কেন্দ্রে হাঙ্গামার কারণে ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। ২০/২৫ জনের একটি গ্রুপ এসে বড়ুয়াপাড়া কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ব্যালট পেপার ও বাক্স এনে উঠানে অগ্নিসংযোগ করে। এসময় কর্তব্যরত পুলিশ পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।

এদিকে পটিয়ায় ভোট কেন্দ্রে জোর করে জাল ভোট প্রদান, কর্মীদের মারধর আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন পটিয়া আসনের জাতীয় পার্টি প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম। দুপুরে পটিয়া সদরে এক তাৎক্ষনিক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সিরাজুল ইসলাম।

 তিনি জানান, তার সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি লিখিতভাবে পটিয়ার ইউএনও রোকেয়া পারভিনকে জানানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ার যে অভিযোগ বিএনপি এতদিন করে আসছিল আজ নির্বাচন কেন্দ্রের পরিবেশ দেখে তার সত্যতা পাওয়া গেছে।
http://www.natunbarta.com/chittagong-barta/2014/01/05/62620/%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B0%E0%A7%87+%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%B9%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%B9%E0%A7%81+%E0%A6%95%E0%A6%95%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%B2,+%E0%A6%AD%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A7%87+%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%87+%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B2+%E0%A6%AD%E0%A7%8B%E0%A6%9F