Thursday, 2 January 2014

সাতকানিয়ায় যৌথবাহিনীর অভিযানকালে জামায়াত বিএনপির বাড়িঘর ভাংচুর লুটপাট লীগ ক্যাডারদের


সাতকানিয়ার চরতীতে আওয়ামী ক্যাডারদের তা-বে বহু বাড়িঘর ভাংচুর লুটপাট
সংগ্রাম রিপোর্ট : চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কয়েকটি এলাকায় বুধবার দিবাগত রাতে যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময় যুবলীগ, ছাত্রলীগ ক্যাডাররা ও স্থানীয় কিছু পেশাদার ডাকাত প্রায় ২৪টি ঘরে হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে। ফলে ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় লোকজন অভিযোগে জানায়, বুধবার গভীর রাতে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার চরতী ইউনিয়নের তালগাঁও ও দরদুরী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ক্যাডাররা হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে ২৪ পরিবারের জিনিসপত্র তছনছ করে। এতে অংশ নিয়েছে পেশাদার কিছু ডাকাতও। ভয় ও আতংকের জনপদে পরিণত হয়েছে ওই এলাকা। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাত ১টার দিকে সাতকানিয়া উপজেলার চরতী ইউনিয়নের তালগাঁও ও দরদুরী গ্রামে ১৮টি গাড়িতে করে যৌথ বাহিনীর প্রায় ২শ’ সদস্য বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালায়। তাদের সাথে ছিলো ৫০ জনের আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একটি ক্যাডার গ্রুপ, স্থানীয় কিছু ডাকাতও । তারা তালগাঁও ও দরদুরী নামের দু’টি গ্রামে রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা ধরে তা-ব চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যৌথ বাহিনীর প্রায় ২শ’ সদস্যের পাশাপাশি যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৫০ ক্যাডারসহ প্রায় আড়াইশ’ জনের একটি অভিযান দল এই দু’টি গ্রাম ঘিরে ফেলে। তারা বিএনপি ও জামায়াতের ২৪ নেতা-কর্মীর ঘরের দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে।
অভিযানের সময় ঘরে কোন পুরুষ সদস্যকে না পেয়ে তারা আরো হিংস্র হয়ে ওঠে। তারা নিরীহ মহিলাদের চড়-থাপ্পড় মারে ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে। ছোট শিশুরাও তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। তারা ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে। আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা নগদ টাকা ও দামী জিনিসপত্র লুটপাট করে। এ সময় মাওলানা আহমদ হোসেন (৪৫) নামের একজন প্রবাসীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। তিনি কিছুদিন পূর্বে বিদেশ থেকে দেশে ফিরেন। এই প্রবাসীও তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। তার ঘরে ঢুকে তাকে আটক করে মারধর করে। পরে তাকে গ্রেফতার করে যৌথ বাহিনী। তাদের রোষানল থেকে বাদ পড়েনি চরতী ইউনি চেয়ারম্যান ডা. রেজাউল করিমের পরিবার। তার ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে অভিযান দল। তাকে না পেয়ে তার ঘরের আসবারপত্র ভাংচুর ও লুটপাট করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডার বাহিনী। অভিযোগ পাওয়া গেছে, এ সময় তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে মারধর ও গালিগালাজ করে তারা। অভিযানের সময় চরতী ইউপি চেয়ারম্যান ডা. রেজাউল করিম, নুরুল ইসলাম, আক্তার হোসাইন সওদাগর, প্রবাসী মহিউদ্দিন, ব্যবসায়ী মো. শোয়াইব, মো. হারুন, নুরুল হক, ওবাইদুল হক, নেজাম উদ্দিন, খুল্যামিয়া, আহমদ হোসাইন, নুর হোসেন, আবু তাহের, মো. হাশেম, কাঠ ব্যবসায়ী জেবল হোসেন, মো. আয়ুব, মনিরুল্লাহ, ছাবের আহমদ, নোমান, জামাল উদ্দিন, ফয়সাল, মাহমুদুর রহমান ও লেদু মিয়াসহ ২৪টি ঘরের জিনিসপত্র তছনছ করে দেয় তারা।
স্থানীয় লোকজন জানায়, গ্রেফতার আতঙ্কে দীর্ঘদিন ধরে পুরুষশূন্য ছিল এলাকাটি। এতে ২৪টি ঘরের দরজা, জানালা ও আসবাবপত্রের পাশপাশি দু’টি মোটর সাইকেল, একটি জীপগাড়ি ভাংচুর করেছে তারা। এ সময় আওয়ামী ক্যাডাররা ঘরের বিভিন্ন দামী আসবাবপত্র ও নগদ টাকা লুটপাট করে নিয়ে যায়। তাদের বর্বর হামলা ও ভাংচুরের সময় ভয় ও আতঙ্কে নারী-শিশুরা তটস্থ হয়ে পড়ে। তারা মহিলা ও শিশুদের মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। বর্বর এই হামলা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হামলাকেও হার মানিয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। অভিযানের পর ওই এলাকার নিরীহ নারী-শিশুরা চরম আতঙ্কে রয়েছে। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে সেখানকার সাধারণ মানুষ। বাড়ি-ঘরে এ ধরনের হামলা ও ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। দল ও মত নির্বিশেষে সেখানকার সাধারণ মানুষ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এদিকে সীতাকু- থেকে প্রাপ্ত সংবাদে জানা গেছে, সীতাকু-ে যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময় আওয়ামী ক্যাডাররা কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লায়ন আসলাম চৌধুরী এফসিএ’র অফিস ভাংচুর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ফৌজদারহাট এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার দলীয় ক্যাডাররা যৌথ বাহিনীর সহায়তায় গত বুধবার গভীর রাতে উত্তর জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আসলাম চৌধুরীর ফৌজদারহাটস্থ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সোনালী সিএনজিতে হামলা চালিয়েছে। হামলার সময় তারা স্টেশনে কর্মরত ক্যাশিয়ার আবুল হাসনাত, স্টেশন ইঞ্জিনিয়ার মোঃ তানভীরকে চাবির জন্য মারধর করে আহত করেছে। সেই সাথে স্টেশনের গার্ড মোহাম্মদ আলী, আনোয়ার নজেলম্যান সুধাংশু ও আলমগীরকে মারধর করে আহত করে। তারা স্টেশনের মূল গেইট ভেঙ্গে উপরে উঠে জিনিসপত্র তছনছ করে কাউকে খুঁজে না পেয়ে নিচে এসে তা-ব চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন রাইজিং গ্রুপের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর আমজাদ হোসেন চৌধুরী। এদিকে আসলাম চৌধুরীসহ বিএনপি নেতা-কর্মীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন সীতাকু- উপজেলা বিএনপিসহ অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।