Sunday, 15 December 2013

আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির তীব্র নিন্দা জাতিসংঘের

সংগ্রাম ডেস্ক : জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। একইসঙ্গে সব পক্ষকে শান্ত ও সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রাইম নিউজ।
এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বান কি মুনের মুখপাত্র মার্টিন নেসিরকি বলেছেন, কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মহাসচিব। তিনি বলেন, মহাসচিব ফাঁসি কার্যকর করাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে স্পর্শকাতর মুহূর্তে এমন মৃত্যুদ- না দিতে বলেছিলেন তিনি। এছাড়া যে কোনো পরিস্থিতিতে মৃত্যুদ-ের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ। এমনকি আন্তর্জাতিক অপরাধের ক্ষেত্রেও জাতিসংঘ মৃত্যুদ-ের বিরুদ্ধে বলে জানিয়েছেন নেসিরকি।

বাংলাদেশ নামের জেলখানা

ফাইল ছবিনির্বাচন প্রক্রিয়াকে সুকৌশলে ব্যবহার করে বাংলাদেশকে একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর শীর্ষ ৬ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে একই সময়ে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আয়কর ফাঁকি দেয়া ও পুলিশের বিরুদ্ধে হামলা উস্কে দেয়া। তাদের জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এর অর্থ হলো নির্বাচনে তাদেরকে অংশগ্রহণ করতে না দেয়া। বিরোধীদলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে এভাবে অভিযোগ এনে তাদেরকে নীরব করে দেয়া একটি পরিচিত খেলা। গতকাল বৃটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত ‘দ্য প্রিজন দ্যাট ইজ বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। শিরোনামটির বাংলা করলে দাঁড়ায়- বাংলাদেশ নামের জেলখানা। এর লেখক জন পিলজার। এতে তিনি আরও লিখেছেন, সমপ্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের হাতে নিয়েছেন আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর অর্থ হলো, তার দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টের বিরোধীদলীয় এসব শীর্ষ নেতা নির্বাচন করতে পারবেন নাকি তাদেরকে জেলেই ভুগতে হবে তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়ার মালিক প্রধানমন্ত্রী নিজে।

স্ত্রীকে লেখা আব্দুল কাদের মোল্লার শেষ চিঠি(মুল কপি)

16 Dec, 2013
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম 
প্রিয়তমা জীবন সাথী পেয়ারী,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ

আজ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ার পর খুব সম্ভব আগামী রাত বা আগামীকাল জেলগেটে আদেশ পৌছানোর পরই ফাঁসির সেলে আমাকে নিয়ে যেতে পারে। এটাই নিয়ম। সরকারের সম্ভবত শেষ সময়। তাই শেষ সময়ে তারা এই জঘন্য কাজটি দ্রুত করে ফেলার উদ্যোগ নিতে পারে। আমার মনে হচ্ছে তারা রিভিউ পিটিশন গ্রহণ করবে না। যদি করেও তাহলে তাদের রায়ের কোন পরিবর্তন হওয়ার দুনিয়ার দৃষ্টিতে কোন সম্ভাবনা নেই।

সুপ্রিমকোর্টে আব্দুল কাদের মোল্লার গায়েবানা জানাযা

শীর্ষ নিউজ ডটকম,ঢাকা: জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাসহ দেশব্যাপী সংহিংসতায় নিহত নেতাকর্মীদের স্মরণে সুপ্রিম কোর্টে  গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার জোহরের নামাজের পর সর্বস্তরের আইনজীবীদের অংশগ্রহণে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এ জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। সুপ্রিম কোর্টের  আইনজীবী অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম জানাযায় ইমামতি করেন।

Saturday, 14 December 2013

ইতিহাসের কসাই কাদের, মিডিয়া কতৃক একটি মৃত্যুদণ্ড এবং প্রগতিশীলতার উল্লাস

imageইতিহাসের কসাই কাদের, মিডিয়া কতৃক একটি মৃত্যুদণ্ড এবং প্রগতিশীলতার উল্লাস

নিউজ অর্গান ডেস্ক, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩ : যারা বলছে কসাই কাদের। তারা এখন কি বলবে জানি না , তবে সত্য কথা হলো , কসাই কাদের বলে শেষ করে দিলাম একজন নিরীহ মেধাবীকে।

☛ একটু দেখুন একজন লেখিকার কথা। তাই আদালতের সব রায় নিয়ে এমন হাজার প্রশ্ন আছে। থামবে কি রক্তের খেলা ?

☛ ইতিহাসের কসাই কাদের, মিডিয়া কতৃক একটি মৃত্যুদণ্ড এবং প্রগতিশীলতার উল্লাস

☛ ঝিনুক,কলকাতাঃ কাদের মোল্লা আসলেই যুদ্ধ অপরাধী ছিল কিনা? কসাই কাদের আর কাদের মোল্লা আসলেই এক ব্যাক্তি কিনা? যুদ্ধ অপরাধীর বিচার রাষ্ট্র করছে? নাকি কোন রাজনৈতিক সংগঠন করছে? আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল নাকি আওয়ামীলীগ ট্রাইব্যুনাল? আব্দুল কাদের মোল্লা র একমাত্র সাক্ষী মোমেনা বেগম কে? মোমেনা বেগম কি সাক্ষী দিতে গিয়েছিল না যায় নি? এই প্রশ্নগুলো যখন উঠেছে তখন এই প্রশ্নগুলোর নিস্পত্তি না করে একজন মানুষ কিংবা অমানুষের মৃত্যুদণ্ডে শাহবাগে আমাদের উল্লাস আর যাই হক কোনদিন প্রগতিশীলতা অথবা মানবতা কোনটাই বহন করে না। 

মোমেনার সাক্ষী আবদুল কাদের মোল্লার দণ্ড ও বিচারের নীতি..অলিউল্লাহ নোমান

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী মহাসচিব আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হওয়ায় শাহবাগিদের নগ্ন উল্লাস প্রচারে ব্যস্ত ইন্ডিয়াপন্থী’ আওয়ামী-বাম মিডিয়াগুলো। এক তরফা প্রচারণায় শাহাদাতের পথযাত্রী আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগের ফিরিস্তি ও বয়ানও অব্যাহত আছে। আবদুল কাদের মোল্লার রুহের মাগফিরাত কামনায় দেশজুড়ে আয়োজিত গায়েবানা জানাজার হাজারও মানুষের উপস্থিতি তাদের চোখে পড়ে না। শুধু দেশজুড়ে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেশে গায়েবানা জানাজা হয়েছে আবদুল কাদের মোল্লার জন্য। কাশ্মীর থেকে ফিলিস্তিন, তুরস্ক থেকে ইংল্যান্ড, আমেরিকা থেকে আফ্রিকা মুসলমানের আবাস রয়েছে এমন কোনো দেশ বাদ নেই আবদুল কাদের মোল্লার জন্য গায়েবানা জানাযা হয়নি।
আবদুল কাদের মোল্লার স্ত্রী-সন্তানরা ফরিদপুরে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছার আগেই লাশ দাফন, পাড়া-প্রতিবেশীদের বাড়িতে ঢুকতে পুলিশের বাধা, লাশের মুখ দেখতে না দেয়ার মতো অমানবিক আচরণ করেছে পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষ দেখায় দাফনের বিষয়ে বলে যাওয়া ইচ্ছাটুকু পূরণের সুযোগ দেয়া হয়নি। পারিবারিক ঘনিষ্ঠ একজন জানান, শেষ দেখায় তার অছিয়ত ছিল হজের সময়ে গায়ে জড়ানো এহরামের কাপড়টি দিয়ে কাফনের পোশাক লাগানো, বড় মেয়ের জামাইকে দিয়ে জানাজায় ইমামতি করানো এবং কবরে বড় মেয়ের জামাইসহ দুই ছেলেকে দিয়ে লাশ কবরে নামানো। এর কোনো সুযোগ না দিয়ে কড়া পুলিশ পাহারায় ভোরের আগেই রাতের আঁধারে দাফনের সব আয়োজন হয় সরকারি হেফাজতে। ফাঁসির পরও প্রাণহীন আবদুল কাদের মোল্লার দেহকে ভয় পেয়েছে সরকার। সেজন্যই হয়তো নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় রাতের আঁধারে এতসব আয়োজন। এমনকি স্থানীয় সাংবাদিকদেরও রাস্তায় আটকে রাখা হয় লাশ গ্রামের বাড়িতে না পৌঁছা পর্যন্ত।

Friday, 13 December 2013

আয়রনি


মূল: সাদিয়া হোসেইন
সম্পাদনা: শরীফ আবু হায়াত অপু


بِسْــــــــــــــــــمِ اﷲِالرَّحْمَنِ اارَّحِيم


আবদুল কাদের মোল্লার মৃত্যুতে যারা খুশি, তারা কেউ তাঁকে খুন করতে দেখে নি, ধর্ষণ করতে দেখে নি, এমন কি দুই চোখেও তাঁকে দেখে নি। আর তাঁর মৃত্যুতে যারা অখুশি, তাদের একটা বড় অংশ তাঁকে কাছ থেকে দেখেছে, তার সাথে এক জীবন কাটিয়েছে, তাঁর একটা বক্তৃতা শুনেছে কিংবা কারাগারে এক সাথে কিছু বিকাল কাটিয়েছে! 

অথবা আমার মতো যারা মনে করত জামাতের নেতা মাত্রই শুওরের বাচ্চা। রাজাকার। যুদ্ধাপরাধী। আমরা অবাক বিস্ময়ে আবিষ্কার করলাম কাদের মোল্লার বিচার এবং হত্যা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। 

Thursday, 12 December 2013

কাদের মোল্লার স্ত্রীর আক্ষেপ...


নাসির আহমাদ রাসেল, ঢকা : জনপ্রিয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি’র কাছে যেভাবে কাউকে না বলা কথা চিরকুটে লিখে গেছেন আব্দুল কাদের মোল্লা। ঠিক তেমনি না বলা কথা রয়েছে তার স্ত্রী সানোয়ারা জাহানেরও।কাশিমপুর কারাগারে  গোলাম মাওলা রনির উদ্দেশ্যে  চিরকুট বার্তায় আব্দুল কাদের মোল্লা  লিখেছিলেন, “প্রিয় রনি, যদি কখনও সময় পাও এবং তোমার ইচ্ছা হয় তবে আমার ফাঁসির পর একবার হলেও বলো বা লিখো- কাদের  মোল্লা আর কসাই কাদের এক ব্যক্তি নয়। আমার আত্মা কিয়ামত পর্যন্ত কাঁদবে আর কসাই কাদের তখন কিয়ামত পর্যন্ত অট্টহাসি দিবে।”

Why I am against the execution of Abdul Kader Mollah...David Bergman

In his blog, Bergman has chronicled the events as they occurred for the last few days. Within those narratives he has aptly pointed out the problems within the way the trial was held. I am just juxtaposing them together so that everyone can have a quick look at it.
 Bergman starts by making it clear that his issues with trial are not that of some minor nuances. The problem is at the very core of a trial - that of evidence. He says:
 Yes I do not support the death penalty, but that is not why I am against the execution of Molla.

Yes, I think there are many legal inadequacies in the International Crimes (Tribunal) Act 1973, but that is also not the reason? Yes, I am aware of the many controversies and scandals that have taken place at the tribunal (including the abduction of a defence witness, the release of skype conversations/e-mails showing, b at least one of the tribunal judges in collusion with the prosecution and the government, and at least 6 tribunal investigators and prosecutors seeking last month Awami League parliamentary seats) – but again these controversies, and there are many more, are not in themselves the reason why I object to Molla's death penalty.

The reason for thinking that it is outrageous to put Molla to death is because of the flimsiness of the evidence on the charge which he has been sentenced to death and the fact that the tribunal simply did not allow him to put forward his defence, restricting his witnesses to five.

The Evidence Issue

Bergman writes:

It is important to remember the following: the case on which Molla is being hung involves the murder of six members of one family.

There was only one witness to the incident, a daughter of the family who was the sole survivor. She was 13 years at the time. In her testimony in court, she said that on 26 March 1971 her father ran towards the house and said “Qader Molla will kill me” and that Quader Molla pulled her father by the collar, and draged him out of the house, The men then killed her mother, three sisters (one of whom was first raped) and baby brother. After the incident, she said, ‘A person called Kamal Khan who served tea to freedom fighters told me, “Quader Molla killed my parents.” My Ukil Baba [marriage witness] Akkas Molla also told me the same thing ...’

Wednesday, 11 December 2013

ছয় সাংবাদিক ও বিচারপতি মানিক মিলে কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় লেখেন !

বঙ্গদেশের বিচারালয় ও তার বিচারপতিরা কতটা নিচে নামতে পারে উপরের শিরোনাম দেখে চিন্তা করতে পারেন? বাস্তবে তাই হয়েছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসির দণ্ড দিয়ে যে পূর্ণাঙ্গ রায় লেখা হয়েছে তা মূলত লেখেন হাইকোর্টে কর্মরত আওয়ামী সমর্থক ছয় সাংবাদিক। রায়ে কি থাকলে ভাল হয়, ভাষা কেমন হওয়া উচিৎ, রায় কত পৃষ্ঠার হবে এমন নানা বিষয় সাংবাদিকরা মানিককে ঠিক করে দেন। মানিক তাদের কথামতো সাহিত্য মিশিয়ে একটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করার চেষ্টা করেন। যা পাঁচ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হয়। আর ইহা এমন এক অমৃত যা বিচারপতিদের সাইন হয়ে প্রকাশ হওয়ার আগেই সাংবাদিকদের হাতে হাতে হাতে পাওয়া যাচ্ছিল! চার ডিসেম্বর সাংবাদিকদের হাতে ছিল মানিকের লেখা কাদের মোল্লার পূর্ণাঙ্গ রায়..

এই সাংবাদিকরা হলেন, ডেইলি স্টারের আশুতোষ সরকার, ঢাকা ট্রিবিউনের জুলফিকার আলী মানিক, চ্যানেল আইয়ের মান্না, সমকালের আবু সালেহ রনি, নিউ এজ এর মিশন ও এটিএন নিউজের চিফ রিপোর্টার মাশুদুল হক।

মানিক এর বাইরেও বিভিন্ন সময় সাংবাদিক ডেকে এনে রায় লেখার ব্যাপারে পরামর্শ চান! এদের মধ্যে রয়েছে প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান ও প্রথম আলোর ট্রাইব্যুনাল রিপোর্টার কুন্তল রায়।

জানা যায়, বিচারপতি মানিক প্রথমে ফাঁসি দণ্ড দিয়ে লেখা রায়ের একটি খসড়া করেন। এরপর এটি তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, আইন উপষ্টো শফিক ও আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুলকে দেখান। তাদের পরামর্শ নেয়ার পর রায়টি কিভাবে সাজালে সুন্দর হয় এ নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। সাংবাদিকরা ভাষাগত বিভিন্ন দিক নিয়া মানিককে পরামর্শ দেন। রায় লেখার পর তার প্রুফ দেখে দেন। 
শুধু রায় লেখা নয় , রায়ের বাংলা অনুবাদ করেন ও ওই সব সাংবাদিকরা।


কাদের মোল্লার রায় প্রকাশের আগের দিনই মানিকের রুমে বসে ইংরেজি রায়ের বাংলা করেন সাংবাদিকরা! জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দণ্ডাদেশের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের আগের দিন অর্থাৎ চার ডিসেম্বর বিচারপতি মানিকের কক্ষে বসে সাংবাদিকরা ইংরেজি রায়টার বাংলা অনুবাদ করেন। পরদিন রায়টি প্রকাশের পর তা যাতে দ্রুত মিডিয়ায় প্রচার করা যায় এ জন্য মানিক তার কাছের সাংবাদিকদের দিয়ে এ কাজ করান। অথচ তখনও রায় প্রকাশের একদিন বাকি। এরপর তা বেশ কয়েকজন সাংবাদিক পেনড্রাইভে করে নিয়ে যান! পাঁচ ডিসেম্বর রায় প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথেই রায়ের বাংলা অনুবাদ বিভিন্ন কোর্ট রিপোর্টারের মেইলে পাঠানো হয়. 

বিচারপতি মানিকের রুমে বসে ছয়জন ওই ৬ জন সাংবাদিক তার লেখা পূর্ণাঙ্গ রায় ইংরেজি থেকে বাংলা করেন-। টোটাল রায় তৈরিতেও এদের কয়েকজনের ভূমিকা আছে । পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের আগেই তা ফাঁস হয়ে যাওয়া ও বিচারপতির দ্বারা অনুবাদের ঘটনায় হাইকোর্ট চত্বরে ওই দিনই কানাঘোষা শুরু হয়। এ নিয়ে অন্য সাংবাদিকদের হাসাহাসি ও টিটকারি মারতে দেখা যায়।

এভাবেই রচিত হয় রায় নামক একটি মহাকাব্য। যার রচয়িতা মানিক ও ছয় সাংবাদিক। এবার আপনারাই বলুন এই প্রহসনের বিচারের শেষ কোথায়? 

Tuesday, 10 December 2013

কাদের মোল্লার রায় : নেপথ্যে ভয়াবহ অবহেলার অভিযোগ ::তিনি ফরিদপুরে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নিয়েছেন !

golam-mawla-roni.jpgগোলাম মাওলা রনি ,এমপি : অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার রায় ঘোষিত হলো ৫ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার। এ রায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ রায়ে পক্ষ-বিপক্ষের কেউই খুশি হয়নি।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, মুক্তিযুদ্ধের সময় যাদের জন্ম হয়নি সে সব লাখ লাখ তরুণ-তরুণী বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন।

তাদের তরুণ মনের আকুতি, 'কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই'।তারা অনেকে বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস জানানে না । রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছ থেকে শুনা আর বাংলাদেশ ছবির গল্প কাহীনি থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সম্পর্কে জেনেছে ।   বিভিন্ন সামাজিক সাইট বিশেষত ফেসবুকের প্রায় ২০ লাখ সদস্য রায় ঘোষণার পর তাদের তির্যক মতামত ব্যক্ত করেছেন নিজস্ব ওয়ালে। এর পর তারা রাস্তায় নেমে আসেন। এখনো পর্যন্ত সবাই শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। আমার প্রশ্ন, এমনটি কেন হলো। এভাবে চললে ভবিষ্যতে রায়ে আরও হতাশাব্যঞ্জক কিছু আসতে পারে। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী কিংবা গোলাম আযম যদি খালাস পান তাহলে সেই দায় কে নেবে? চিন্তা করতেই ক্ষোভ, ভয় এবং একই সঙ্গে হতাশায় মানুষ হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। এ পর্যন্ত যতজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠেছে তাদের মধ্যে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সবচেয়ে ভয়াবহ এবং গুরুতর। তার বিচারের রায় যদি এরূপ হয় তাহলে অন্যদের ব্যাপারে আশঙ্কা করাই স্বাভাবিক।

Monday, 9 December 2013

কাদের মোল্লার মামলা : সাক্ষী নিয়ে ভয়াবহ জালিয়াতির অভিযোগ (ভিডিও

09 Dec, 2013
অন্য এক মহিলাকে মোমেনা বেগম সাজিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ হাজির করে ট্রাইব্যুনালে

* আসল মোমেনার ছবি পাওয়া গেছে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে

আব্দুল কাদের মোল্লার মামলায় সাক্ষী নিয়ে চরম জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। হযরত আলী পরিবার হত্যাকাণ্ডে আব্দুল কাদের মোল্লাকে আপিল বিভাগ সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়। এ ঘটনায় রাষ্ট্রপক্ষ একমাত্র সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে হযরত আলী লস্করের একমাত্র বেঁচে যাওয়া মেয়ে মোমেনা বেগমকে। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাষ্ট্রপক্ষ ট্রাইব্যুনালে মোমেনা বেগম নামে যাকে হাজির করেছে এবং সাক্ষ্য গ্রহণ করিয়েছে সে হযরত আলী লস্করের মেয়ে আসল মোমেনা বেগম নয়। অপর এক মহিলাকে হযরত আলী লস্করের মেয়ে মোমেনা বেগম সাজিয়ে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী বানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ চাঞ্চল্যকর এ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে।

ভিন্নমত পোষণকারী বিচারপতির রায়ে ৫ অভিযোগ থেকেই খালাস মোল্লা

06 Dec, 2013
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে পাঁচ অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা। এছাড়া ট্রাইব্যুনালের দেয়া একটি অভিযোগের রায় তিনি বহল রেখেছেন।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রীম কোর্ট এর আপিল বিভাগ আবেদন শুনানি শেষে আবদুল কাদের মোল্লাকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেন। ওইদিন মৃত্যুদন্ডের সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণার আড়াই মাস পর গতকাল পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।

Saturday, 7 December 2013

সিকিম কিভাবে স্বাধীনতা হারালো

সিকিম ভারতের উত্তরাংশে অবস্থিত তিব্বতের পাশের একটি রাজ্য। রাজ্যটির স্বাধীন রাজাদের বলা হত চোগওয়াল। ভারতে বৃটিশ শাসন শুরুর পুর্বে সিকিম তার পার্শ্ববর্তী নেপাল আর ভুটানের সাথে যুদ্ধ করে স্বাধীন অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিল। বৃটিশরা আসার পর তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে নেপালের বিরুদ্ধে অবস্থান   নেয় সিকিম। এসময় রাজা ছিলেন নামগয়াল। কিন্তু বৃটিশরা তিব্বতে যাওয়ার জন্য এক সময় সিকিম দখল করে নেয় এবং ১৮৮৮ সালে রাজা নামগয়াল আলোচনার জন্য কলকাতা গেলে তাঁকে বন্দী করা হয়।পরবর্তী সময়ে ১৮৯২ সালে তাকে মুক্তি দেয়া হয় এবং সিকিমের স্বাধীনতাকে মেনে নেয়া হয়। প্রিন্স চার্লস ১৯০৫ সালে ভারত সফরে আসলে সিকিমের চোগওয়ালকে রাজার সম্মান দেয়া হয়। চোগওয়ালপুত্র সিডকং টুলকুকে অক্সফোর্ডে লেখাপড়া করতে পাঠানো হয়।

Thursday, 5 December 2013

খুলনায় রেলের ফিসপ্লেট খোলার সময় হাতে নাতে ধরা পড়েছে যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর

খুলনা মহানগরীর নয়াবাটি এলাকায় রেল লাইনের ফিসপ্লেট খুলে ফেলার সময় মেহেদী হাসান জাহাঙ্গীর (২৬) নামের এক যুবলীগ নেতাকে হাতে নাতে ধরে এলাকাবাসী গণপিটুনী দিয়ে পুলিশী সোপর্দ করেছে। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে। পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে ভর্তি করা হলেও বৃহস্পতিবার দুপুরে গিয়ে তার সাথে কথা বলতে চাইলে সে এখানে নেই বলে অজ্ঞাত কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দেয়। এ নিয়ে খুলনায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

Tuesday, 3 December 2013

পেলেন না কিন্তু কিনে বিতর্কিত হলেন


সাক্ষী অপহরণ, স্কাইপে কেলেঙ্কারি, রায় ফাঁস ইত্যাদি ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে বিতর্ক সমালোচনার মাঝে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করলেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধানসহ প্রসিকিউশনের নয় কর্মকর্তা। এরা আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত তালিকায় তারা স্থান পাননি। কিন্তু দলীয় আনুগত্য দেখিয়ে বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে ঠিকই প্রশ্নের জন্ম দিলেন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই নয় কর্মকর্তার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা- সমালোচনার ঝড় বইছে।
কর্মকর্তাদের অনেকেই অফ দ্য রেকর্ডে বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরোধের বিচার করার জন্য ট্রাইব্যুনালে দলীয় কর্মীদের নিয়োগ দিয়েছে সরকার।জানা গেছে, ট্রাইব্যুনালের বিচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০ জন সরকারি দল আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন। প্রসিকিউশন টিমের সদস্যরা ছাত্রজীবনে বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের নেতৃত্বে, পরে পর্যায়ক্রমে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অপরদিকে তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা পুলিশ বহিনী থেকে অবসরে গিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। তাদের দ্বারা পরিচালিত বিচার পক্ষপাত দুষ্ট হচ্ছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

Sunday, 1 December 2013

বিএনপির উপলব্ধি না হলে ও জামায়াতের যে উপলব্ধি আবশ্যক


মাহবুব জামান
বিএনপি একটি মিডিয়া প্রতিবন্ধী প্লাটফর্ম। গোটা বিএনপি’তে একজনও সক্রিয় মিডিয়া বিশেষজ্ঞ পাওয়া যাবে না।এ নিয়ে তাদের মধ্যে লক্ষণীয় কোনো ভাবনাও নেই।আজকের বিএনপি’র মূল দল, ছাত্রদল, যুবদল সহ অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের কেউই মিডিয়ার সাথে নিবিড় সম্পর্ক বা যোগাযোগ রাখে না।

তারা জানেই না মিডিয়াতে সক্রিয়ভাবে কারা আছে বিএনপিমনা, আর কারা আওয়ামীমনা। বিএনপিমনার সংখ্যা এতো কম কেন? বাড়াতে হলে কী করতে হবে। আওয়ামী লীগ এক্ষেত্রে কী করছে। এসব নিয়ে তারা মাথাই ঘামান না। শুধুমাত্র ক্ষমতায় গিয়ে কয়েকটা চ্যানেল আর একটা-দুইটা পত্রিকা বের করে ওই আওয়ামীমনা সাংবাদিকদের হাতেই তুলে দিয়ে খালাস। একবার জানার চেষ্টাও করে না যাদের হাতে চ্যানেলটা বা পত্রিকাটা দিলাম এরা কোন মাইন্ডের লোক। বিএনপি’র না হোক।অন্তত  আওয়ামী ঘেঁষা যেন না হয়। এটাও নিশ্চিত করে না। ভাবে এইতো হয়ে গেছে। আর প্রেস ক্লাবের নেতৃত্ব নিয়ে বিএনপি তৃপ্তির ঢেকুর তোলে।একবার তলিয়ে দেখে না সাংবাদিকতা পেশায় তাদের অধিকাংশের অবস্থান কোথায়। সে জন্যই রাতারাতি ৭১ টিভি দ্বিতীয় বিটিভি হয়ে যায়, কেউ তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে না। অথচ এনটিভি, বাংলাভিশনকে প্রতিদিন পেশাদারিত্ব বা নিরপক্ষেতার প্রমাণ দিতে হয়।

Tuesday, 26 November 2013

ধানমণ্ডিতে আড়াইশ কোটি টাকার সরকারি বাড়ি হাতছাড়ার পথে ,ফেঁসে যাচ্ছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান সচিব


সাবেক গৃহায়ন ও পূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান এবং কর্মরত পূর্ত সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেনের ক্ষমতা অপব্যবহার করার কারণে রাজধানীর ধানমণ্ডির অভিজাত এলাকায় সরকারের প্রায় আড়াইশ’ কোটি টাকা মূল্যের বাড়ি হাতছাড়া হতে বসেছে। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আপত্তি উপেক্ষা করে বাড়িটি সরকারের পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকা থেকে ভুয়া ব্যক্তির অনুকূলে অবমুক্ত করে দেয়া হয়। সরকার ও জনস্বার্থের পরিপন্থী এ সিদ্ধান্ত ফাঁস হয়ে গেলে অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত পরে বাতিল করা হয়। কিন্তু পরে এ সংক্রান্ত নোটশিট ফাইল থেকে গায়েব করে স্থিতাবস্থার সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ ফাইলটি প্রতিমন্ত্রীর বাসায় পাঁচ মাস ধরে পড়েছিল। এর মধ্যে ফাইলটির একরকম কোনো হদিসই ছিল না। ফাইল মুভমেন্টের রেজিস্টার থেকেও রহস্যজনকভাবে পাতা ছিঁড়ে ফেলা হয়। এমনকি ফাইলে দুজন যুগ্ম সচিবের গুরুত্বপূর্ণ মতামতের নোটশিটও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

জ্বালানি মন্ত্রনালয়ের দুর্নীতির বরপুত্র তৌফিক,মনসুর সিন্ডিকেটের দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র


জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী আর পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুরের দ্বন্দ্ব, একগুঁয়েমি, ঘুষ-দুর্নীতি আর লুটপাটের কারণে জ্বালানি খাতে সরকারের ব্যাপক সাফল্য থাকলেও ম্লান হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এক কথায় জ্বালানি খাতের বারোটা বাজিয়েই উপদেষ্টার পদ থেকে সরে গেছেন তৌফিক-ই-ইলাহী। আর এখনও ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে সরকারের বাকি সাফল্য ধ্বংস করতে পেট্রোবাংলাতে বসে আছেন অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেক্টরে সরকারের দৃশ্যমান ব্যাপক সাফল্য থাকলেও এই দুই ক্ষমতাধর ব্যক্তির কালো থাবায় অধিকাংশ অর্জনই ধ্বংস হয়ে গেছে।

Monday, 25 November 2013

টিকফা কী? কেন আমরা টিকফা চুক্তির বিরোধিতা করি?

টিফা’ বা ‘টিকফা’-এর বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী গতকাল গার্মেন্টস এক্সেসরিজ এবং প্যাকাজিং উৎপাদকদের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবার সময় জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশ ‘টিকফা’ চুক্তি স্বাক্ষর আমেরিকার বাজারে জি এস পি সুবিধা অক্ষুন্ন রাখার জন্য জরুরী হয়ে পড়েছে। চুক্তিটিকে চূড়ান্ত আকার দেয়ার কাজ শেষ হয়েছে এবং তা এখন স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত।

টিকফা কী?

টিকফা শব্দটি নতুন। আগে এর নাম ছিল টিফা।‘টিফা’ চুক্তি হলো Trade and Investment FrAবা সংক্ষেপে TIFA, যেটিকে বাংলায় অনুবাদ করলে হয় — ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত কাঠামোগত সমঝোতা’ চুক্তি। ‘টিফা’ চুক্তি নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে দশক কালেরও আগে থেকে। এই চুক্তির খসড়া প্রণয়নের কাজ শুরু হয় ২০০১ সালে। ১৩টি ধারা ও ৯টি প্রস্তাবনা সম্বলিত চুক্তিটির প্রথম খসড়া রচিত হয় ২০০২ সালে। পরে ২০০৪ সালে এবং তারও পরে আবার ২০০৫ সালে খসড়াটিকে সংশোধিত রূপ দেয়া হয়। দেশের বামপন্থি শক্তিসহ অন্যান্য নানা মহলের তীব্র প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি স্বাক্ষর করা এখনো সম্ভব হয়নি। চুক্তির খসড়া প্রণয়নের পর সে সম্পর্কে নানা মহল থেকে উত্থাপিত সমালোচনাগুলো সামাল দেয়ার প্রয়াসের অংশ হিসেবে এর নামকরণের সাথে Co-operation বা সহযোগিতা শব্দটি যোগ করে এটিকে এখন ‘টিকফা’ তথা TICFA বা Trade and Investment Co-operamework Agreement (‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সংক্রান্ত কাঠামোগত সমঝোতা’ চুক্তি) হিসাবে আখ্যায়িত করার হচ্ছে।

গৌরনদীতে যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে হিন্দু বাড়িতে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর


জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বরিশালের  পৌর কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে এক হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।

গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় গৌরনদী পৌরসভার দক্ষিণ  বিজয়পুর এলাকার অধিবাসী রতন ভৌমিকের বাড়িতে এই হামলার ঘ্টনা ঘটে। হামলাকারীরা এ সময় ওই বাড়িতে মনসা মন্দিরের নির্মাণাধীন মনসা প্রতিমা ভাঙচুর ও ২ নারীকে আহত করে বাড়িতে তিনটি সাইন বোর্ড টাঙ্গিয়ে দেয়।

রতন ভৌমিক জানান. গৌরনদী পৌরসভার দক্ষিণ  বিজয়পুর এলাকায় তার পৈত্রিক বাড়ির ২ একর ৭৭ শতক জমি স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ফিরোজ আহম্মেদ ও তার স্বজনরা  দাবি করে আসছেন। এ নিয়ে বরিশাল আদালতে দেওয়ানি  মোকদ্দমা  বিচারাধীন রয়েছে।

ঠিকানা জালিয়াতি করে এক হাজার কনস্টেবল নিয়োগ


ঢাকা: ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা সাজিয়ে এক হাজার লোককে পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ হয়েছে ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভুয়া জমির দলিল ও জাল নাগরিক সনদের ভিত্তিতে অন্য জেলার লোকদের ধামরাই উপজেলার বাসিন্দা দেখিয়ে কনস্টেবল পদে এঁদের নিয়োগের ব্যবস্থা করেছে একটি চক্র। এর সঙ্গে পুলিশের কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তা সক্রিয়ভাবে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ কনস্টেবল জানান, চাকরি দেওয়ার জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে। এ হিসাবে এক হাজার প্রার্থীর কাছ থেকে ৩০-৪০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

Wednesday, 20 November 2013

‘নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পেতেই টিকফা চুক্তি’

20 Nov, 2013
জিএসপি ফিরে পেতে টিকফা চুক্তিতে সই করতে যুক্তরাষ্ট্র বারবার চাপ দিয়ে গেলেও মেয়াদের শেষ সময়ে এসে বিতর্কিত টিকফা চুক্তি না করার পক্ষেই ছিল সরকার। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রধানমন্ত্রী নিজের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পেতে টিকফা সই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে বর্তমান নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে টিকফা চুক্তি সই করাকে অবৈধ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আনু মোহাম্মাদ নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রসন্ন চেহারা পাওয়ার জন্য টিকফা চুক্তি করার জন্য তাড়াহুড়া করছে সরকার। টিকফা চুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানোর মতো ব্যাপার। বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি করার অধিকার কোনো সরকারের নেই। ”

ভারতে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ শৌচাগার ব্যবহার করে না

odপ্রায় সোয়াশ’ কোটি জনসংখ্যার দেশ ভারতে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ শৌচাগার ব্যবহার করেন না, তাদের মূত্র বা মলত্যাগের মতো কাজগুলো সারতে হয় খোলা আকাশের নিচেই। মঙ্গলবার বিশ্ব শৌচাগার দিবসে এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব ব্যাঙ্ক। ভারতের অর্থনীতি যেখানে বিগত দুই দশকে প্রভূত উন্নতি করেছে, সেখানে কেন এখনও দেশের এত মানুষকে খোলা আকাশের নিচেই শৌচাগারের কাজ সারতে হচ্ছে? ভারতে শৌচাগারের ব্যবহার নিয়ে বিশ্ব ব্যাঙ্ক যে তথ্য দিয়েছে, তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। গোটা দুনিয়ায় আড়াইশ’ কোটিরও বেশি মানুষের কোনও শৌচাগার নেই – আর তার মধ্যে একশ’ কোটিকেই মলত্যাগ করতে হয় চার দেওয়ালের বাইরে। এদের মধ্যে অন্তত ষাট কোটিই ভারতে, যেটা এ দেশের জনসংখ্যার ৫৩ শতাংশ। শৌচাগারের অভাবে বাইরে মলত্যাগ করতে যেতে হচ্ছে, আর তা মৃত্যু ডেকে আনছে অসংখ্য শিশুর। কিন্তু মুশকিল হল – স্বাস্থ্যসম্মত একটা শৌচাগারের অভাব যে একটা সমস্যা ও বিরাট স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি, বহু ভারতীয়র মধ্যে এখনও এই সচেতনতাই তৈরি হয়নি। শৌচাগার ব্যবহারের অভ্যাস নিয়ে গবেষণা করেছেন সুস্নাত চৌধুরী। তিনি বলছেন ভারতে ধনী-দরিদ্র, শহর-গ্রাম নির্বিশেষে অনেকেই এই একই মানসিকতার শরিক। শুধু গ্রামে নয়, মুম্বাই শহরেও একটু ভেতরের দিকেই খোলা রাস্তায় বা সমুদ্রের ধারেও লোককে মলত্যাগ করতে দেখা যায়।

Sunday, 17 November 2013

মাওলানা নিজামীর রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তির পর পুনরায় আর্গুমেন্ট শুরু,সরকার পক্ষের ৩ জন সাক্ষী আড়াইশ’বার মিথ্যা কথা বলেছে -মিজানুল ইসলাম

# জুলাই-আগস্টে স্থাপিত মোহাম্মদপুর ক্যাম্পে মে থেকেই নিজামী সাহেবের যাতায়াত থাকে কিভাবে?
# আল বদর বাহিনীর গঠন সম্পর্কে ৪ জায়গায় চার কথা বলেছে সরকার পক্ষÑ কোনটি সত্য?
# বুদ্ধিজীবী হত্যার ব্যাপারে ৩ ধরনের বক্তব্যের কোনটি সত্য?
শহীদুল ইসলাম : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যে কোনোদিন রায় মর্মে ট্রাইব্যুনালের প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে দাখিলকৃত রিভিউ আবেদনের নিষ্পত্তি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। গতকাল রোববার, আজ সোমবার, বৃহস্পতিবার এবং আগামী রোববার আসামী পক্ষকে আর্গুমেন্টের জন্য সময় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আবেদন নিষ্পত্তির পর গতকালই পুনরায় আর্গুমেন্ট শুরু করেছেন মাওলানা নিজামীর আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলাম। মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে আনীত ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ৭টি অভিযোগের উপর তিনি আর্গুমেন্ট করেন। বাকিগুলোর উপর আজ সোমবার আর্গুমেন্ট করবেন মিজানুল ইসলাম। গতকাল ৭টি অভিযোগই মিথ্যা এবং সাজানো বলে অভিহিত করে তিনি যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ ৩ জন সাক্ষী কমপক্ষে আড়াইশ’বার মিথ্যা বলেছেন সাক্ষ্য প্রদানকালে। এই ৩ জন হলেন ১নং সাক্ষী মিছবাহুর রহমান চৌধুরী, ২নং সাক্ষী জহির উদ্দিন মোহাম্মদ জালাল ওরফে বিচ্ছু জালাল এবং ২৬ নং সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক। তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই বলেছেন বুদ্ধিজীবী হত্যাকা-ের সাথে নিজামী সাহেব জড়িত মর্মে কোনো তথ্য প্রমাণ পাইনি। আল বদর একটি সামরিক সংগঠন ছিল। তার প্রধান একজন বেসামরিক ব্যক্তি মতিউর রহমান নিজামী কি করে হতে পারেন। মাওলানা নিজামী বুদ্ধিজীবী হত্যার সাথে জড়িত ছিলেন মর্মে কোনো দালিলিক প্রমাণই সরকার পক্ষ দিতে পারেননি। আর মৌখিক সাক্ষ্য যারা দিয়েছে তারা মিথ্যা বলেছে। তারা নানান জায়গায় নানান  কথা বলে নিজেদেরকেই মিথ্যাবাদী প্রমাণ করেছেন। তাদের মৌখিক সাক্ষ্যের কোন অংশ বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে আসামীকে অভিযুক্ত করা যাবে না।