Showing posts with label প্রেম ভালবাসা. Show all posts
Showing posts with label প্রেম ভালবাসা. Show all posts

Monday, 14 October 2013

এরশাদের প্রেমিকারা কে কোথায়??

যৌবন একটা গোল্ড লিফ সিগারেট। আমার যৌবন আর বেশি দিন নেই। কয়েক বছর পর আমি মধ্যবয়স্ক হয়ে যাব। তাই যতোদিন পারি, এই ক্ষণস্থায়ী যৌবনকে উপভোগ করতে চাই।’ কথাগুলো যুক্তরাজ্যে গিয়ে বলেছেন ৮২ বছরের সাবেক স্বৈরাচারী রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। তার এসব কথায় বোঝা যায়, তিনি কতোটা ‘রোমান্টিক’ ও ‘প্রেমিক পুরুষ’!
ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের অন্যতম শরীক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ রাজনীতি নিয়ে সকালে বলেন এক কথা, বিকেলে আরেক কথা আর রাতে বলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। সকালে সরকারের সমালোচনা করেন, বিকেলে বিরোধী দলকে নানা উপদেশ দেন। রাতে হেফাজতে ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার খোয়াব দেখেন। তেমনি ক্ষমতায় থাকাকালে তার সকালে, বিকেল, রাতে পাল্টে যেত কথিত প্রেমিকার তালিকা। তার প্রেমিকার তালিকাও অনেক দীর্ঘ। ক্ষমতায় থাকাকালে ও গণঅভ্যুত্থানে পতনের পর তার প্রেম, পরকীয়া, সেক্স কাহিনী দেশ-বিদেশে আলোচনার ঝড় তোলে। কোথায় আছেন এরশাদের আলোচিত, সমালোচিত সেসব ‘প্রেমিকা’ ও ‘ফার্স্ট লেডি’রা? তারা এখন কেমন আছেন?
প্রেস ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত ‘নিরীক্ষা’ পত্রিকায় সম্প্রতি প্রকাশিত এক নিবন্ধে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস এরশাদের প্রেমিকাদের পক্ষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এরশাদ সরকারের পতনের পর দেশের গণমাধ্যমগুলো তার প্রেমিকাদের সঙ্গে সেক্স কাহিনী ছাপিয়ে নারীর প্রতি অবিচার করেছে বলে রোবায়েত ফেরদৌসের অভিযোগ। তার এ অভিযোগের পর অনেকের বক্তব্য, এরশাদের প্রেমিকারা উচ্চশিক্ষিতা, সামাজিক মর্যাদার দিক থেকেও অনেক উঁচুতে ছিলেন। সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ভুলে গিয়ে তারা এরশাদের সঙ্গে প্রেম, পরকীয়া, সেক্সে মেতে উঠতে পারেন। আর তা লিখলেই তাদের প্রতি অবিচার? অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রিয় দেশ’র এ প্রতিবেদন সাজানো হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধু সামরিক স্বৈরশাসক হিসেবেই নয়, রাজনৈতিক দাবাড়ু এরশাদ দুর্নীতিপরায়ণ হিসেবে, বহুবিবাহ, অসংখ্য প্রেমিকা, সন্তানসহ নানা দুর্ঘটনায় দেশ-বিদেশে আলোচিত, সমালোচিত। ক্ষমতা দখল করে একদিকে তিনি রাজনীতিতে ধর্মকে টেনেছেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ঘোষনা করেছেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারে করেছেন। এমনকি পরদিন কোন মসজিদে নামাজ পড়বেন, তা আগের রাতে স্বপ্নেও দেখেছেন। অন্যদিকে এদেশের কোনো নেতা বহুগামিতা নিয়ে রাজনীতিতে এমন সংযোজন-বিয়োগের দ্বিতীয় নজির তার মতো সৃষ্টি করতে পারেননি।
নারীদেরকে কথিত প্রেমের ফাঁদে ফেলতে এরশাদ ক্ষমতা দখল করে কবিতা লেখাও শুরু করেন। বলা হয়ে থাকে, রোমান্টিক কবিতা ও কবির প্রতি নারীরা দুর্বল। নারী, গোলাপফুল, সেক্স বিষয়ক এসব কবিতা ছাপাতে বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকদেরকে বাধ্যও করেন রাষ্ট্রপতি এরশাদ। অভিযোগ আছে প্রয়াত বরেণ্য কবি শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, সৈয়দ আলী আহসান, সৈয়দ শামসুল হক, ফজল শাহাবুদ্দীন প্রমুখ ভাড়ায় এরশাদের কবিতা লিখতেন। তাদের রোমান্টিক ও যৌন কবিতা পত্রিকায় ছাপা হতো এরশাদের নামে। এরশাদের পরকীয়া কাহিনী সাপ্তাহিক যায়যায়দিন এ ছেপে তখন দেশ ছাড়তে হয় পত্রিকাটির সম্পাদক শফিক রেহমানকে।
এরশাদের প্রেমিকার তালিকায় ছিলেন মেরি, শাকিলা জাফর, জিনাত মোশাররফ, নাশিদ কামাল, নীলা চৌধুরী, সালমা বীল হেনা, আমেনা বারী, বিদিশা প্রমুখ। এরশাদ ১৯৯৭ সালে জেল থেকে বের হওয়ার পর সাক্ষাৎকারে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমি একজনকে ভালোবাসতাম।’ সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, ‘তিনি কি জিনাত মোশাররফ?’ জবাবে এরশাদ বলেন, ‘অফকোর্স, তোমরা আমার ছেলের মতো। তার নামটা লিখো না প্লিজ!’
ক্ষমতায় থাকাকালে জিনাতের সঙ্গে এরশাদের পরকীয়া কাহিনী ছিল অনেকের মুখে মুখে। তার নামের সঙ্গে মিল রেখে জিনাত মোশাররফ নতুন নামকরন করেছিলেন জিনাত হুসেইন! তার সঙ্গে পরকীয়া নিয়ে দৈনিক সংবাদের সাংবাদিক রাশেদ আহমদের কাছে খোলামেলা সাক্ষাৎকার দেন এরশাদ। এতে ঘর ভাঙ্গে জিনাতের। ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় সাবেক মন্ত্রী মোশারফের সঙ্গে। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করলে এরশাদের ইচ্ছায় সংরক্ষিত আসনে মহিলা সংসদ সদস্য হন জিনাত।
এরশাদের আলোচিত আরেক প্রেমিকা কণ্ঠশিল্পী শাকিলা জাফর। এরশাদ ক্ষমতায় থাকাকালে এক পর্যায়ে বিটিভির পর্দা দখলে থাকত তার। এরশাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান শুরু হতো তার গান দিয়ে। ১৯৮৩ সালে বিটিভির ‘যদি কিছু মনে না করেন’ অনুষ্ঠানে ‘তুলা রাশির মেয়ে’ গানটির মাধ্যমে শাকিলার পরিচিতি ঘটে দর্শক, শ্রোতাদের সঙ্গে। এরশাদ সরকারের পতনের পর তিনি বেশ কয়েক বছর আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি এখন ব্যস্ত থাকেন সঙ্গীতচর্চা নিয়ে।
এরশাদের আরেক প্রেমিকা নাশিদ কামাল সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামালের মেয়ে। এরশাদের সাথে সম্পর্কের অবনতির পর ক্যাপ্টেন মুসাকে বিয়ে করেন। তবে বিয়েটি টেকেনি। মুসা ও নাশিদ কামালের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায। নাশিদ কামাল এখন টিভি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন। তিনি নর্থ সাউথ ইউনির্ভিসিটিতে শিক্ষকতাও করেন।
এরশাদের আরেক প্রেমিকা মেরি। লন্ডনি এ সুন্দরী গতবছর লন্ডনে মারা গেছেন। প্রয়াত চিত্র নায়ক সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীও ছিলেন এরশাদের আলোচিত পরকীয়ার তালিকায়। বছর কয়েক আগে তার স্বামী কমল চৌধুরী মারা গেছেন। তিনি এখন সিলেটে থাকেন।
প্রেম করে এরশাদ তার নিজের বয়সী শিক্ষক আবুবকর সিদ্দিকের মেয়ে বিদিশাকে বিয়ে করেন। বিদিশার সঙ্গে তার ছাড়াছাড়িও হয়ে যায়। গত চারদলের জোট সরকারের আমলে আলোচিত নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে বিদিশার সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়।
তখন অভিযোগ উঠে, দুই বউকে দিয়ে এরশাদ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। রওশন রাখছিলেন ক্ষমতাসীন বিএনপির সঙ্গে, আর বিদিশা রাখছিলেন তখনকার জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে। বিদিশা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে লন্ডনে বৈঠকও করেন।
বিষয়টি জানতে পারেন চার দলের জোট সরকারের নীতি নির্ধারকরা। এরপর সরকার থেকে এরশাদকে চাপ দেয়া হয়, তার দ্বিতীয় বউ বিদিশাকে তালাক দিতে। তখন এরশাদের দেয়া চুরির মামলায় জেলে যান বিদিশা, মুক্তিও পান। গত তিন বছর ধরে দেশে অবস্থান করছেন তিনি। এরশাদের সঙ্গে দাম্পত্য জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি ‘শত্রুর সঙ্গে বসবাস’ নামে একটা বইও লিখেছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। পরের বছর জেনারেল এরশাদ রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেন। ১৯৮৬ সালে তিনি জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তার সরকারের পতন ঘটে। এরপর তাকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি জেল থেকে অংশ নেন। ছয় বছর আবরুদ্ধ থাকার পর ১৯৯৭ সালের ৯ জানুয়ারি তিনি জামিনে মুক্তি পান।

Saturday, 29 June 2013

এত ভালোবাসা তবু আমিনা হয়নি ম্যান্ডেলার


আমিনা ক্যাচালিয়া। হতে পারতেন নেলসন ম্যান্ডেলার জীবনসঙ্গী। নিজ মুখে ম্যান্ডেলা তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। গ্রহণ করেননি আমিনা। সবিনয়ে বলে দিয়েছেন, না, ম্যান্ডেলা এ সম্ভব নয়। জগৎজোড়া খ্যাতি যার, যার মাথায় শান্তির নোবেল মুকুট সেই ম্যান্ডেলার বিয়ের প্রস্তাব মুখে মুখে ফিরিয়ে দিলেন আমিনা। কে এই আমিনা? কেন তিনি ফিরিয়ে দিলেন ম্যান্ডেলাকে? প্রথম প্রশ্নের উত্তর হয়তো অনেকেরই জানা। আমিনা ক্যাচালিয়া ছিলেন ম্যান্ডেলার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। যার রান্নাঘর পর্যন্ত প্রবেশ ছিল ম্যান্ডেলার। গভীর ভাবাবেগ নিয়ে আমিনার বাড়ি ছুটে যেতেন তিনি। আমিনার পক্ষেও তাই। কৃতিত্বে, অভিজ্ঞতায় ম্যান্ডেলা মহাসমুদ্র আর আমিনাকে বলা চলে নদী। তবুও সমুদ্র-নদীর মোহনায় শেষ জীবনের বসত গড়তে চেয়েছিলেন ম্যান্ডেলা। আমিনা মোহনায় গাঁটছড়া বাঁধতে চাননি। তিনি ম্যান্ডেলা নামক মহাসমুদ্র জয় করতে চেয়েছেন। তবে অবশ্যই আপন বৈশিষ্ট্য অক্ষুণœ রেখে, ঠাই-ঠিকানার সুতো না ছিঁড়ে।
এসব তথ্যের সত্যতা নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ আছে বৈকি। কিন্তু আমিনার আÍজীবনী ‘হোয়েন হোপ অ্যান্ড হিস্ট্রি রায়িম’ এ বিভ্রান্তি দূর করে দেয়। আÍজীবনীটি জুন, ২০১৩-এর গোড়ার দিকে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে ম্যান্ডেলার সঙ্গে গভীর সম্পর্কের বিষয়টি অকপটে বলেছেন আমিনা। সম্পর্কের বিষয়ে আরও কিছু বলার আগে আমিনার পরিচয় যথাসম্ভব বলে নেয়া ভালো। আমিনা কিন্তু পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিয়েছেন। বেশি দিন নয় মাস পাঁচেক আগেÑ তারিখ ৩১ জানুয়ারি, ২০১৩। বিদায়বেলায় আমিনার বয়স ছিল ৮২ বছর। এর ঠিক ১৮ বছর আগের ঘটনা। মে ১৯৯৫। আমিনার স্বামী ক্যাচালিয়া মারা যান। আমিনা তার স্বামীর প্রতি যথেষ্ট দায়িত্বশীল ছিলেন বলে জানা যায়। আমিনার ছেলে গালের ক্যাচালিয়া ও মেয়ে কো কো ক্যাচালিয়া তাদের বাবা-মায়ের সুসম্পর্কের কথা বিভিন্ন সময় জানিয়েছেন। স্বামী হারানোর আঘাতে আমিনা যখন শোকের জলে ভাসছেন ম্যান্ডেলা তখন নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে দাঁড়ান তার সামনে। এখানে আরেকটু বলা প্রয়োজন, আমিনার স্বামী ক্যাচালিয়া ছিলেন ম্যান্ডেলার রাজনৈতিক সঙ্গী। সেই সুবাদে আমিনার বাড়িতে যাতায়াত ছিল ম্যান্ডেলার। এম অ্যান্ড জি-তে দেয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে আমিনার মেয়ে কো কো বলেছেন, ‘আমরা জানতাম আমাদের মাকে ম্যান্ডেলা ভীষণ পছন্দ করেন। এক্ষেত্রে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।’ কো কোর স্পষ্ট দাবি, তাদের বাড়িটি ছিল ম্যান্ডেলাময়। এমনকি তাদের বাবার মৃত্যুর সময়ও ম্যান্ডেলা সব সময় তাদের পাশে থেকেছেন। কো কো আরও বলেছেন, তার বাবার সঙ্গে নিবিড় রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও তার মায়ের সঙ্গে তার চেয়েও বেশি ব্যক্তিক সম্পর্ক ছিল।
আমিনার ছেলে গালেব তার মায়ের আÍজীবনী লিখতে সাহায্য করেছিলেন। সম্প্রতি দ্য মেইল এবং গার্ডিয়ান পত্রিকায় দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, আমিনা ম্যান্ডেলার সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা জানাতে চাইলেও ম্যান্ডেলার দেয়া বিয়ের প্রস্তাব সম্পর্কে কিছুই তার আÍজীবনীতে লিখতে চাননি। তবে তাদের দুই ভাই-বোনকে একদিন তাদের মা ডেকে বলেছিলেন, ‘মাদিবা (ম্যান্ডেলা) তাকে বিয়ে করতে চান।’ সে সময় ধীরচিত্তে আমিনা তার প্রস্তাবে সাড়া দেয়া থেকে বিরত থাকেন। গালেব বলেন, তার মা কখনোই তার অতীতকে, তার অস্তিত্বকে হারাতে চাননি। স্বামীর স্মৃতিটুকু আঁকড়ে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বাঁচতে চেয়েছেন তিনি। তবে ম্যান্ডেলাকে নিয়ে আমিনার ভাবাবেগেরও অন্ত ছিল না। আমিনার স্বামী যখন মারা যান, সে সময় ম্যান্ডেলার দ্বিতীয় স্ত্রী উইনি মাদিকিজেলার সঙ্গে প্রায় ছাড়াছাড়ি অবস্থা। পরের বছরই ম্যান্ডেলা উইনিকে তালাক দেন এবং গ্রাসা ম্যাশেলকে বিয়ে করেন। কিন্তু এত ভালোবাসা জমিয়েছিলেন যার জন্য, সেই আমিনা হননি ম্যান্ডেলার। এতদিন এ নিয়ে আলাপ না হলেও আমিনার আÍজীবনীই বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিল ম্যান্ডেলার গোপন ভালোবাসার কথা। অবশ্য এ নিয়ে ম্যান্ডেলা পরিবার কোন মন্তব্য করেনি।
- See more at: http://www.jugantor.com/ten-horizon/2013/06/30/8988#sthash.j2tXNwoP.dpuf

Friday, 28 June 2013

নারীরা যা শুনলে খুশি হয়

কথায় আছে নারী হৃদয়ের রহস্য বিধাতারও অজানা! তাই কিভাবে যে নারীকে খুশি করা যাবে তা ভাবতে ভাবতে অনেক পুরুষই হয়রান হয়ে যান।অনেক পুরুষের আবার অভিযোগ, নারীদের কোনো কিছুতেই খুশি করা যায় না। নারীরা যত পায় তত চায়।

কাজেই নারীকে মুগ্ধ করতে তাই বলুন, যা তারা জানে! কি অবাক হলেন? হয়তো ভাবছেন, আরে যা জানে তা বলেই মুগ্ধ করতে পারলাম না। যা জানে না তা শুনে  মুগ্ধ হবে?

নারীরা আসলে কী শুনতে চায় বা তারা কী শুনলে মুগ্ধ হয় – এ নিয়ে ভারতের টাইসম অব ইন্ডিয়া একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। নতুন বার্তার পাঠকের জন্য প্রতিবেদনটি চম্বুকাংশ তুলে ধরা হলো।

তোমাকে দারুণ দেখাচ্ছে: কি চমকে উঠলেন? হয়তো ভাবছেন এটা আবার বলার কি হলো? কিন্তু তাকে কেমন দেখাচ্ছে এটা জানার জন্য নারীরা সত্যিই আগ্রহী। কারণ প্রশংসায় কে না খুশি হয়।

তুমিই আমার জীবনের প্রথম নারী: নিজেকে প্রেমিকার কাছে ‘ওয়ান ওম্যান ম্যান’ প্রমাণ করার চেষ্টা করুন। তুমিই আমার জীবনের প্রথম নারী— এই কথাটা শুনতে নারীরা সত্যিই খুশি হয়।

তুমি সত্যিই ভালো মা হতে পারবে: সন্তান লাভের আকাঙ্খা সব নারীই থাকে। তবে, তারা ভালো মা হতে পারবে কি না এ নিয়ে তাদের সন্দেহ থাকতেই পারে। এই সন্দেহ দূর করার দায়িত্বটা কিন্তু আপনি নিতে পারেন। আপনি যদি তাকে বলেন, তুমি সত্যিই ভালো মা হতে পারবে, সে এটা শুনলে খুশি হবেই।

তুমি কি সবসময় তারা পাশে থাকবে: আপনার সঙ্গিনীকে বলুন তাকে ছাড়া আপনার জীবন অপূর্ণ।  আপনি শুধু শুধু তার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন না। তাকে সারা জীবনের জন্যই পেতে না। নারীরা এই কথা শুনে নিরাপদ বোধ করে।

তুমি এ ব্যাপারে কী ভাবছো
: আপনার সঙ্গিনীর মতামত নিন। ছোটখাট ব্যাপারেও মতামত চাইলে নারীরা খুশি হয়।

তুমিই আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু: আপনার সঙ্গিনীকে বলুন, শুধু তার চেহারা দেখে তার প্রেমে পড়েননি। বরং সে আপনার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। প্রেমের সম্পর্কের বাইরেও যে সে আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ- এই বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করুন।

তোমাকে পেয়ে আমি ভাগ্যবান: তাকে বলুন, আপনি শুধুই তার। সে আপনার জীবনে না আসলে আপনি হয়তো এখনো একাই থাকতেন। আর তাকে পেয়ে যে আপনি কতটা ভাগ্যবান এটা বলতেও ভুলবেন না।

আমি কি ভাবছি তুমি তা জানো: প্রেমিকাকে সর্বজ্ঞ প্রমাণ করতে চান? শুধু তাকে গিয়ে বলুন, আমি কি ভাবছি তুমি তো জানো। ব্যস, আর কিছু লাগবে না। আপনার প্রেমিকা এ কথা শুনে এমনিতেই হাওয়ায় ভাসবে।

আই লাভ ইউ: আই লাভ ইউ। থ্রি ম্যাজিকাল ওয়ার্ডস। রোমান্টিক মুহূর্ত থেকে শুরু করে সম্পর্কের টানাপড়েন- সব সময়ই কাজে দেয়। তাই কানে কানে একবার বলেই দেখুন না— আই লাভ ইউ। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

Wednesday, 12 June 2013

দেশে দেশে ভালোবাসার সম্বোধন

ওয়াশিংটন: ভালোবেসে মোঘল সম্রাট শাহজাহান তার প্রিয়তমার জন্য বানিয়েছিলেন তাজমহল।  সবাই তাজমহল বানাতে না পারলেও নিজেদের ভালোবাসা প্রকাশের ক্ষেত্রে বেছে নেন অনেক মাধ্যম। তবে, ভালোবাসা প্রকাশের একটি অন্যতম মাধ্যম হলো প্রিয়জনকে প্রিয় নামে ডাকা।

ফ্রান্সের সাবেক ফার্স্ট লেডি কার্লা ব্রুনি তার স্বামী নিকোলাস সারকোজিকে ডাকেন ‘চৌচৌ’ বলে। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের স্ত্রী সান্তা ‘আই লাভ ইউ, বেব’ বলেই স্বামীর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটান।

আর স্বামীকে করে আলিঙ্গন তোলা মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেলের ছবি তো টুইটার মাত করে দিয়েছে। ওই ছবিটি সর্বোচ্চ সংখ্যক রি-টুইট করা হয়েছে।

ভালোবাসার সম্বোধনের প্রচলিত উদাহরণ হলো বেবি, অ্যাঞ্জেল কিংবা সুইটহার্ট। এই সম্বোধনগুলো বিশ্বজনীন। তবে, ভাবুন তো, কেউ যদি আপনাকে ভালোবেসে ‘ফুলকপি’ কিংবা ‘বাচ্চা হাতি’ বলে ডাকে তাহলে কেমন লাগবে আপনার?

আসলে কোনো দেশের গালি আর কোনো দেশের বুলি প্রবাদটির মতো ভালোবাসার সম্বোধনও দেশভেদে বদলে যেতে পারে।

যেমন, আপনি যদি ফ্রান্সের কোনো অধিবাসীকে হানি (মধু) নামে ডাকেন তাহলে তিনি মনে করতে পারেন আপনি তাকে ‘চটচটে’ কিছুর সঙ্গে তুলনা করেছেন। অথচ ‘হানি’ সম্বোধনটি পশ্চিমা বিশ্বে আবেগীয় ভালোবাসায় ক্ষেত্রেই প্রকাশ করা হয়।

আসলে ভালোবাসার ভাষা সার্বজনীন হলেও ভালোবাসার সম্বোধন কিন্তু দেশভেদে ভিন্ন হতে পারে। দেশে দেশে ভালোবাসার এমন কিছু সম্বোধনই নতুন বার্তার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

ছোট বাঁধাকপি (ফ্রান্স)
না না। চোখ কপালে তুলবেন না। ফ্রান্সের মানুষ কিন্তু এই পেটিট চৌ বা ছোট বাঁধাকপি নামেই ডাকে তাদের প্রিয় মানুষটিকে। ফ্রান্সের মানুষের কাছে চৌ বা বাঁধাকপির মানে ‘সুইটহার্ট’।

কুমড়ো (ব্রাজিল/পর্তুগাল)
আমাদের দেশে ভালোবেসে কাউকে কুমড়ো ডাকলে তিনি নিশ্চয়ই আপনাকে মারতে আসবে। কিন্তু ব্রাজিল কিংবা পর্তুগালে কুমড়ো হলো ভালোবাসার মধুর সম্বোধন। তাই সেখানে যদি আপনি কাউকে চুচুজিনহু বা কুমড়ো বলে ডাকেন সে খুশিই হবে!

ডিমের সঙ্গে চোখ (জাপান)
জাপানের মেয়েদের এই নামেই ডাকে তাদের ভালোবাসার মানুষ। এটা সেদেশের মেয়েদের জন্য খুবই প্রশংসা সূচক সম্বোধন। জাপানে ডিমের আকৃতির মুখকে খুবই আকর্ষণীয় বলে মনে করা হয়! তাই জাপানি তরুণরা তাদের প্রিয়তমার দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে,তামাগো গাটা নো কাও।

চিনির টুকরো (স্পেন)
স্পেনে তেরন ডে অ্যাজুকার সম্বোধনটি আসলে ইংরেজি ‘হানি’র অনুরূপ। স্প্যানিশ ভাষায় তেরন ডে অ্যাজুকার মানে হলো চিনির টুকরো। আসলে মিষ্টি জাতীয় খাবারের নামে প্রিয়জনকে ডাকা অনেক দেশেই জনপ্রিয়।

আমার হৃদয়ের ফল (ইন্দোনেশিয়া)
ইন্দোনেশিয়ার প্রেমের কবিতা ও গানে আমার হৃদয়ের ফল বা বুয়াহ হাতিকু কথাটি বহুল ব্যবহৃত। তবে  বর্তমানে দেশটিতে ছোট বাচ্চাদের আদর করে এই সম্বোধন করা হয়।

আমার মাছি (ফ্রান্স)
মাছি! এই সম্বোধন শুনে অনেকেই ভুরু কুচকাতে পারেন। তবে, এটা কিন্তু ফ্রান্সের প্রিয় মানুষকে ভালোবেসে ডাকা হয়। ফ্রান্সের “মা পুচি” কথাটির অর্থ ইংরেজি “সুইটি”র মতো।

হরিণ (আরব)
ক্লাসিক আরবীয় কবিতাগুলোকে নারীদের হরিণের সঙ্গে তুলনা করা হতো। বর্তমানে আরবের তরুণরা তাদের প্রিয়া চোখের সঙ্গে তুলনা করে হরিণের চোখের।

বাচ্চা হাতি (থাইল্যান্ড)
বাংলাদেশে কাউকে বাচ্চা হাতি বললে তিনি মনে করবেন তাকে মোটা বলে অপমান করা হচ্ছে। কিন্তু থাইল্যান্ডে গেলে আপনি দেখতে পাবেন মুদ্রার অপর পিঠ। ‘শ্বেত হস্তী’র দেশ থাইল্যান্ডে হাতি খু্বই জনপ্রিয় প্রাণী। দেশটিতে হাতিকে মনে করা হয় সৌভাগ্যের প্রতীক। তাই থাইল্যান্ডে ছোট বড় সবাইকে আদর করে ‘ছোট হাতি’ ডাকা হয়।

ডুবন্ত মাছ, পড়ন্ত হাঁস (চীন)
চীনে প্রচলিত রূপকথা থেকে এ সম্বোধনের উৎপত্তি। কথিত আছে, এক চীনা রাজকুমারী এতো সুন্দরী ছিলেন যে, সে যখন পুকুরের কোনো মাছের দিকে তাকাতো, মাছ সাঁতার কাটতে ভুলে যেতো। এভাবে মাছটি একসময় ডুবে যেতো।

চীনে এমন আরেক সুন্দরী নারী ছিলেন, যাকে দেখে হাঁস ডানা ঝাপটাতে ভুলে গিয়ে এসময় মাটিতে পড়ে যেতো।

এই দুইটি কাহিনী থেকেই চীনে ‘ডুবন্ত মাছ, পড়ন্ত হাঁস’ কথাটি এসেছে। তাই বর্তমানে কোনো চাইনিজ তরুণ যদি কোনো তরুণীর প্রেমে পড়ে, তাহলে সে প্রেমিকায় প্রশংসায় শুধু এই চারটি শব্দই বলে।

ছোট পায়রা (রাশিয়া)
রাশিয়ার বিখ্যাত কবি পুসকিন তার একটি বিখ্যাত কবিতায় তার ন্যানিকে ছোট পায়রা বলে অভিহিত করেছিলেন। পুসকিন যখন ছোটো ছিলেন, তখন ওই ন্যানিও তাকে  ছোট পায়রা ডাকতেন। ভালোবাসায় মধুর এই সম্বোধনটি রাশিয়ায় এখন বেশ জনপ্রিয়। সূত্র: ওয়েবসাইট

source দেশে দেশে ভালোবাসার সম্বোধন