
বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের ৩৮ বছর পার হয়েছে। এ সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন যেমন কম নয়, তেমনি নানান বিষয়ে জাতিসত্তার মধ্যে বিভক্তি জাতিকে পেছনের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্বাধীনতার ঘোষনা। এটি ঐতিহাসিকদের বিষয় হলেও বর্তমানে তা দাড়িয়েছে আদালতের কাঠগড়ায়। বর্তমান রাজনীতির অপসংস্কৃতির বদৌলতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের জীবনপণ সংগ্রামের স্বীকৃতি আজ আদালতের মাধ্যমে অর্জন করতে হচ্ছে। একটা জাতির জন্যে এর চেয়ে আর দুর্ভাগ্যের বিষয় আর কি হতে পারে। আজকের প্রতিপাদ্য বিষয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে বাংলাদেশের সরকার ও দেশ পরিচালনার অবস্থা।

১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ পাকিস্তানের শাসন থেকে ছিন্ন করে বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসাবে ঘোষনা করে দেশ যুদ্ধে লিপ্ত হয়। স্বাধীনতা ঘোষণা করার ২২ দিন পরে ১৭ই এপ্রিল বাংলাদেশের মুক্তাঞ্চল কুষ্টিয়ার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথপুর গ্রামের আম্রকুঞ্জে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহন করে। ইতোপূর্বে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের মধ্যে যারা আগরতলায় হাজির ছিলেন তারা ১৩ই এপ্রিল সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। দেশী বিদেশী সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধি ও ১০ সহস্রাধিক জনতার উপস্থিতিতে ১৭এপ্রিল শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রেসিডেন্ট, তাঁর অবর্তমানে ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করা হয়। সঙ্গত কারনেই প্রশ্ন উঠে, তাহলে কি স্বাধীনতার প্রারম্ভে অস্থায়ী সরকার গঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত ২২ দিন বাংলাদেশ এবং তাঁর মুক্তিযুদ্ধ নেতৃত্বশূন্য ছিল? এ বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন রেকর্ড পত্রে কি পাওয়া যায় সেটাই আজকের আলোচনা।