Showing posts with label পুলিশী বর্বরতা. Show all posts
Showing posts with label পুলিশী বর্বরতা. Show all posts

Thursday, 20 March 2014

বিএনপি জামায়াত হেফাজত দমনেই বেশি পদক



ঢাকা: সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের দমনে বিশেষ ভূমিকা রাখা পুলিশ কর্মকর্তারাই এবার পদক তালিকায় শীর্ষে। বিএনপি তথা ১৮ দলীয় জোটের আন্দোলন দমন, জাময়াত-শিবিরের নাশকতা প্রতিরোধ, হেফজতকর্মীদের ঢাকা থেকে বিতারিতসহ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সরকারবিরোধীদের সফলতার সঙ্গে প্রতিরোধের কারণেই তাদের পদক দেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৬ পুলিশ সহস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) সাহসীকতা; র‌্যাব, পুলিশের শীর্ষ ২০ কর্মকর্তাকে বিপিএম সেবা পদক দেয়া হয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) সাহসীকতা দেয়া হয়েছে ২৯ পুলিশ-র‌্যাব সদস্যকে। যাদের অধিকাংশই মাঠ পর্যায়ের।

এছাড়া রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) সেবা দেয়া হয়েছে ৪০ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের। যার মধ্যে রয়েছে বহুল  আলোচিত লালবাগ বিভাগ পুলিশের উপ-কমিশনার হারুন আর রশিদ ও তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার।

Saturday, 28 December 2013

গণহত্যার সাথে সম্পৃক্ত অফিসারদের তালিকা হচ্ছেঃ সার্বিয়ার মত বিচার হবে

bjbশেখনিউজ রিপোর্টঃবাংলাদেশে বিগত পাঁচ বছর শেখ হাসিনার সরকারের সকল অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার নিরস্ত্র নাগরিকদের দমন করা হয়েছে নির্মমভাবে। শুধু গ্রেফতার, নির্যাতন, কারাবাসেই তা সীমাবদ্ধ থাকে নি। বিভিন্ন স্থান থেকে এমনকি নিজ বাড়ী থেকেও উঠিয়ে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে অনেক কে। গুম করা হয়েছে হাজার হাজার। এই সকল কাজগুলোর সাথে বিভিন্নভাবে জড়িয়ে গেছে আমাদের সেনাবাহিনীর বিপথগামী কিছু কর্মকর্তা। যারা অন্যান্য বাহিনীতে ডেপুটেশনে থাকাকালে এই কাজগুলতে লিপ্ত হয়ে পড়ে। শেখনিউজ ডট কম এমন কিছু অফিসারদের তালিকা পেয়েছে। এই অফিসারগন সেই তালিকার একটি অংশ মাত্র। জানাগেছে জাতিসংঘের একটি টিম ক্রোয়েশিয়ায় গণহত্যার সাথে জড়িত সারবিয়ান সেনা অফিসারদের যেভাবে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের সম্মুখীন করেছে, সেই একই ভাবে এই সকল অফিসারদের  আন্তর্জাতিক আদালতে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে বিচারের সম্মুখীন করার প্রচেষ্টা চলছে। 
নিচে কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার বিবরণী সংক্ষিপ্ত তুলে ধরা হলঃ

Friday, 27 December 2013

চট্টগ্রামে পুলিশকে দেখামাত্র গুলির নির্দেশ!


হরতাল-অবরোধের সময় ছাড়াও অন্য সময়ে পুলিশ সদস্যের ওপর আকস্মিক হামলা চালাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে রাজধানী ও রাজশাহীতে দুজন পুলিশ কনস্টেবল বোমায় নিহত হয়েছেন। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, সরকারি সম্পদ রক্ষা ও আত্মরক্ষার্থে এখন থেকে পুলিশকে নাশকতাকারীদের দেখামাত্রই গুলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাঠপর্যায়ের একাধিক পুলিশ সদস্য। গতকাল শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি।
চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন চায়নিজ রাইফেলে গুলি ভর্তি থাকে, ট্রিগারে থাকে আঙুল। নাশকতাকারীদের দেখামাত্রই গুলি করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘ঢাকা ও রাজশাহীতে পুলিশের গাড়িতে আকস্মিক হামলা হয়েছে, সেখানে পুলিশ সদস্য মারা গেছেন। এটা পুলিশের ওপর সরাসরি হামলা এবং বোঝাই যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা এখন পুলিশকে সরাসরি টার্গেট করেছে।

Sunday, 3 November 2013

সরেজমিন : কুতুবদিয়া ট্র্যাজেডি : গুলি করে তিন জনকে হত্যাকারী রাজিব চাকমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ওসি জহিরুল : ইউএনওর নির্দেশে গুলি চালানো হয়

‘আমার রাজিব (পুলিশ কনস্টেবল রাজিব চাকমা) গুলি না করলে এই চেয়ারে বসা সম্ভব হতো না! এমনকি এখন জনতার লাশ দেখতে পেয়েছি, তখন আমার পুলিশ ভাইদের লাশ দেখতে হতো!’
গত ২৯ অক্টোবর কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় তিন লোককে গুলি করে হত্যাকারী পুলিশ সদস্যের প্রশংসা করে এমন বক্তব্য দিলেন কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম খান। ওই ঘটনায় পুলিশের গুলিতে ৩ জামায়াত সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিসহ আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৫ সাধারণ মানুষ। গত শনিবার কুতুবদিয়া থানায় বসে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে কথা হচ্ছিল ওসি জহিরুল ইসলাম খানের। তিনি বলেন, ‘রাজিব একাই ৫০ রাউন্ড গুলি করে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে।’
বেপরোয়া গুলি বর্ষণকারী কনস্টেবল রাজিবের মতো কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও ‘কৃতজ্ঞ’ ওসি জহিরুল। তার মতে, ‘উনার’ নির্দেশ পেয়েই এত গুলি করা সম্ভব হয়েছে!

Monday, 21 October 2013

কে এই এডিসি মেহেদী হাসান?

দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নজিরবিহীন তাণ্ডব চালানোর অভিযানে নেতৃত্বদানকারী কে এই এডিসি মেহেদী হাসান? সোমবার টেলিভিশনে তার এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ দেখে দেশের মানুষ হতবাক। বার বার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা দেশের জনপ্রিয় দল বিএনপিকে তিনি একাই যেন শেষ করে দিতে চান। এ দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যে বেয়াদবি এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন মেহেদী হাসান, তাতে কর্তব্যরত সাংবাদিকরাও স্তম্ভিত হয়ে গেছেন। শুধু বিএনপিই নয়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অনেক নেতাও তার বাড়াবাড়িকে ভালো চোখে দেখেননি। আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, এভাবে দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে নেতাদের আটক করা প্রত্যাশিত নয়।
মেহেদী হাসান সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে গিয়ে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। খোদ পুলিশ বাহিনীতেই মূর্তিমান আতঙ্ক মেহেদী হাসান। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল অঞ্চলের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার তিনি। পদের দিক থেকে তিনি অতিরিক্ত এসপি। পুলিশ বাহিনীতে এটি ছোট পদ হলেও ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন আইজিপিকেও ছাড়িয়ে। তার দাপটে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারাও থাকেন তটস্থ। হামলা, নির্যাতন, ধরপাকড়, রিমান্ডে নির্যাতন, গ্রেফতার—এসবের মাধ্যমে এরই মধ্যে মেহেদী হাসান অতিউত্সাহী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
মেহেদী হাসানের বাবার নাম মো. আবদুল মজিদ। বাড়ি খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার পানতিতা গ্রামে। সরকারি চাকরিজীবী আবদুল মজিদের ৮ ছেলের মধ্যে তৃতীয় মেহেদী হাসান। তার বড় ভাই মারুফ হাসান পুলিশ কর্মকর্তা। অপর ভাইদের মধ্যে একজন সেনাবাহিনীতে, অন্যরাও প্রতিষ্ঠিত। কট্টর আওয়ামী পরিবারের সন্তান মেদেহী হাসানকে পুলিশ বাহিনীতে সবাই জানেন বর্ণচোরা, অতিউত্সাহী ও বেপরোয়া পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে। তার এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, মেহেদী হাসান ও তার ভাইয়েরা এখন গ্রামের বাড়িতে যান না। এর নেপথ্য কারণ তার মায়ের মৃত্যুর পর বাবা আবদুল মজিদ গৃহকর্মীকে বিয়ে করেন। এ নিয়ে মেহেদী হাসানের ভাইয়েরা বাবার সঙ্গে সম্পর্ক অনেকটাই ছিন্ন করেছেন। মেহেদী হাসানের ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, ছাত্রজীবনে মেহেদী হাসান ছিলেন ছাত্রলীগ ক্যাডার। সে সুবাদে শেখ হেলাল এমপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে তার। সে সুযোগে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের আঙুলের ইশারায় ঘোরাচ্ছেন এই মেহেদী হাসান।
বিগত এক বছর ধরে বাড়াবাড়ি করে বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন এই মেহেদী হাসান। বিরোধী দলের মিছিল-মিটিংয়ে গুলি, হামলা, রায়টকার নিয়ে হামলায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। পুলিশের আইন অনুযায়ী নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই নজিরবিহীন সব অ্যাকশনে যাচ্ছেন তিনি। জামায়াত-শিবিরসহ যেখানে বিরোধী দলের মিছিল, সেখানেই হামলা করতে উপস্থিত হচ্ছেন এই মেহেদী হাসান। গত ২২ ফেব্রুয়ারি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে এডিসি মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে হামলা, গুলি চালানো হয় আলেমদের মিছিলে। রাসুল (সা.) ও ইসলাম অবমাননার প্রতিবাদে ওইদিন বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেন দেশের প্রখ্যাত আলেমরা। জুমার নামাজের পর মিছিল শুরু হওয়া মাত্রই মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে হাজার হাজার রাউন্ড গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল নিক্ষেপ, রায়টকারের গুলি চালানোর অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই মেহেদী হাসান।
৬ মার্চ নয়াপল্টনে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল পণ্ড করার জন্য নজিরবিহীন অ্যাকশন চালান মেহেদী হাসান। তার নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছিল বিএনপির জনসভার প্যান্ডেলে। ওইদিন মেহেদী হাসানের নির্দেশে পুলিশের নির্বিচার গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম খান, আমানউল্লাহ আমান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালামসহ শত শত নেতাকর্মী। ওইদিন মেহেদী হাসানের অন্যায় নির্দেশমত গুলি না করায় তাত্ক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়েছিল দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল আরও ক’জনের বিরুদ্ধে।
গত শুক্রবার বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে ওলামা-মাশায়েখদের বিক্ষোভ মিছিল ছিল। ওইদিন মেহেদী হাসান পুরানা পল্টনের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হামলা করেন। তিনি পুরানা পল্টনে ‘ঠিকানা’ নামে একটি ভবনের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে গিয়ে তল্লাশি চালান। সেই তল্লাশির সময় এক যুবককে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
পরে জানা গেছে, নিহত ওই ব্যক্তি শিবির নেতা ফয়জুল্লাহ। ওই হামলাতেও নেতৃত্ব দিয়েছেন মেহেদী হাসান। ওই সময় তিনি উচ্চকণ্ঠে অভিযানের বিষয়ে সাংবাদিকের বলেছেন। ঠিকানা নামের ওই ভবন থেকে বেশ কিছু শিয়া মুসলমানকেও গ্রেফতার করেন মেহেদী হাসান, যাদের কেউই জামায়াত-শিবির বা অন্য কোনো ইসলামি দলের সদস্য ছিলেন না। শুধু হয়রানি ও অর্থ আদায়ের জন্যই সেটি করা হয়েছিল বলে ওই ভবনের বাসিন্দারা জানান।
মেহেদী হাসান ঔদ্ধত্যের সীমা ছাড়িয়ে যান গত সোমবার রাতে—বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ভাংচুর ও টানা আড়াই ঘণ্টা অভিযান চালিয়েছেন তিনি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর, ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কবির রিজভীসহ উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করেন তিনি। তাদের অনেককেই তিনি তুই-তুকারি সম্বোধন করেন এবং লাঞ্ছিত করেন মহিলা নেতাকর্মীদের। সারাদেশের মানুষ ওই দৃশ্য টেলিভিশনে সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছেন। বিএনপি অফিস থেকে এ সময় গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ কাউন্সিলের কয়েক লাখ টাকা পুলিশ নিয়ে যায়।
পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান এর আগে বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন। রায়ট কার থেকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ও বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে গুলি করার নেপথ্যেও ছিলেন এই মেহেদী হাসান।
এর আগেও মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে নির্যাতনের স্টিমরোলার চালানোর অভিযোগ করেছিলেন গ্রেফতারকৃত জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। ডিবি পুলিশের কার্যালয়ে বেশ কয়েকজন জামায়াত নেতাকে ব্যাপক নির্যাতন করেছিলেন এই মেহেদী হাসান ও তার সহযোগীরা।
পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের অপকর্মের কাহিনী মিছিল-সমাবেশে হামলা আর গুলির মধ্যেই শেষ নয়। তিনি আগে ডিবি পুলিশে ছিলেন। গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদ হাসান নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলায় ৯ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। মোহাম্মদ হাসানকে জঙ্গি সম্পৃক্ততার বিষয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য ডিবি কার্যালয়ের ছোট রুমে নিয়ে পুরুষাঙ্গে ইলেকট্রিক শক দেয়াসহ নানা কায়দায় তার ওপর নির্যাতন চালায় পুলিশ। এ নির্যাতনে তিনি আর কখনও সন্তানের বাবা হতে পারবেন না বলে চিকিত্সক তাকে জানিয়েছে। ওই সময় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এডিসি মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাননি মোহাম্মদ। উল্টো মেহেদী হাসান তাকে আবার গ্রেফতার করে একই ভাবে নির্যাতন করবেন বলে হুমকি দেন। উপায়ন্তর না দেখে তিনি এখনও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। মোহাম্মদ হোসেন আক্ষেপ করে সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ তার জীবনটা ধ্বংস করে দিয়েছে। নির্যাতনের পাশাপাশি তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। মোহাম্মদের আফসোস, তিনি কখনও কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং এখনও নন। তার মতো শত শত নিরপরাধ ব্যক্তি এবং বিভিন্ন মামলার আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করতে নানা কায়দায় নির্যাতন করছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মেহেদী হাসানের আরেক ঘনিষ্ঠ সহচর পল্টন থানার ওসি সরোয়ার হোসেন। তাদের কাজ হলো মতিঝিল, ফকিরাপুল, পল্টন এলাকা থেকে হুন্ডি ব্যবসায়ী, আদম ব্যবসায়ী, এমএলএম ব্যবসায়ী ধরে নিয়ে নিয়ে নির্যাতনের মাধ্যমে অর্থ আদায় করা। নিজেদের সাজানো বাদী দিয়ে মামলা করে ওইসব ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মেহেদী সিন্ডিকেট। টাকা নেয়ার পরও মামলা দিয়ে এবং রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক নির্যাতন চালানোর কথা জানা গেছে। কিন্তু ফের হয়রানির ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলছে না।
ভুক্তভোগী একাধিক ব্যক্তি জানান, রিমান্ডের আসামিদের কাছে এক আতঙ্কের নাম মেহেদী হাসান। গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে লাখ লাখ টাকা আদায়, টাকার জন্য ক্রসফায়ারে দেয়ার হুমকি, নির্যাতনের কাহিনী ফাঁস করে দিলে আবার গ্রেফতার করে ক্রসফায়ারের হুমকিসহ হেন অপকর্ম নেই এ মেহেদী হাসান সিন্ডিকেট করেনি।
ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা জানান, মেহেদী হাসান গিরায় গিরায় পিটিয়ে নির্যাতন, বাদুড় ধোলাই নির্যাতন, ওয়াটার থেরাপি নির্যাতন, উলঙ্গ করে নির্যাতন, সারাদিন না খাইয়ে রেখে নির্যাতন, বোতল থেরাপি নির্যাতন, ডিম থেরাপি নির্যাতন, ডিস্কো ড্যান্স নির্যাতন, সিলাই নির্যাতন, ঝালমুড়ি নির্যাতন, টানা নির্যাতন, বাতাস নির্যাতন, ইলেকট্রিক শক এসব নির্যাতন করায় মেহেদী অত্যন্ত পারদর্শী। মূলত অর্থ আদায়ের জন্য ব্যবসায়ী ও ভিন্ন মতের লোকজনের ওপর এসব নির্যাতন চালিয়েছেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এসবের মাধ্যমে মেহেদী হাসান যেমন বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন, তেমনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ক্ষমতাসীন দলের নিপীড়ক ব্যক্তিদের আস্থাভাজন হয়েছেন। তাকে ডেকে নিয়ে প্রতিনিয়ত বিশেষ স্থান থেকে ইনস্ট্রাকশন দেয়া হচ্ছে, পাশাপাশি তার পারফরম্যান্সের প্রশংসা করা হচ্ছে।
পুলিশ বাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ির বিষয়ে বলেন, এসব কালপ্রিট পুলিশ কর্মকর্তাদের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে গোটা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়। মানুষ পুলিশের ওপর আস্থা হারায়। তিনি আরও বলেন, সরকারের উচিত এসব বেপরোয়া ও অতিউত্সাহী কর্মকর্তাদের প্রশ্রয় না দেয়া।
এসব বিষয়ে আমরা কয়েক দফা মেহেদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি হরতাল নিয়ে ব্যস্ত আছেন উল্লেখ করে পরে যোগাযোগ করতে বলেন।

Sunday, 6 October 2013

গোবিন্দগঞ্জে ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে থানায় কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানা হেফাজতে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ১৭ বছর বয়সী মেয়েটির বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায়। তাকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে গত শুক্রবার রাতে মেয়েটিকে বাদী করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। তবে মেয়েটি ওই পুলিশ সদস্যদের নাম বলতে পারেনি। এ ঘটনা তদন্তে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি শেখ দেলোয়ার হোসেন বলেন, গোবিন্দগঞ্জের সিনিয়র বিচারিক হাকিম আদালতের আদেশে এ মামলা করা হয়েছে। মামলাটির তদন্তের ভার দেয়া হয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আহসানকে।
এছাড়া আদালত ওই কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে গাইবান্ধার সিভিল সার্জনকে।
ওসি আরও জানান, ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শহরের অদূরে মাস্তা এলাকায় ওই কিশোরীকে কান্নাকাটি করতে দেখে থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক আকমল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওইদিন রাতেই তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পর দিন সকালে এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
তিনি বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর পুলিশ ওই কিশোরীকে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র বিচারিক হাকিম মো. তারিক হোসেনের আদালতে হাজির করে। আদালত ওইদিন তাকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। কারাগারের যাওয়ার পর মেয়েটি জেল সুপার শহীদুল ইসলামকে থানা হেফাজতে ধর্ষিত হওয়ার কথা জানায়। তবে ধর্ষণকারী পাঁচ পুলিশের নাম জানাতে পারেনি।
জেল সুপার শহীদুল ইসলাম জানান, মেয়েটি তাকে ধর্ষিত হওয়ার বিষয়টি জানানোর পর এবং কিছুটা অসুস্থ লাগায় তাকে ২ অক্টোবর আবার গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করে তার জবানবন্দি নেয়া হয়। এ জবানবন্দি এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ৩ অক্টোবর পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়। ওই কিশোরীকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আহসান হাবিব বলেন, গতকাল রোববার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছি। তদন্ত কাজও শুরু করা হয়েছে।
গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) হানিফ বলেন, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর গতকাল রোববার কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। দ্রুত প্রতিবেদন দেয়া হবে। তবে পরীক্ষায় কী পাওয়া গেছে তা বলতে রাজি হননি তিনি।
জেলা পুলিশ সুপার সাজিদ হোসেন বলেন, এ ঘটনা তদন্তের জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দু’জন হলেন এএসপি (হেড কোর্য়াটার) আব্দুল কুদ্দুস ও এএসপি (বি সার্কেল) মাহবুব হোসেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোশারফ বলেন, কিশোরীর জবানবন্দিতে পাঁচ পুলিশ সদস্যের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সে পাঁচ পুলিশ কনস্টেবলের নাম জানাতে পারেনি। তাই আদালতের অনুমতি নিয়ে কিশোরীর মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
মানববন্ধন পালিত : গোবিন্দগঞ্জ থানায় আশ্রিত কিশোরী সীমা ধর্ষণকারী পুলিশ সদস্যদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গতকাল বিকালে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সামাজিক বিপ্লবী পরিষদ ও নাগরিক কমিটির যৌথ উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ৩টা থেকে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী পালিত এ মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য রাখেন সামাজিক বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আ.ফ.ম মজিবুর রহমান সরকার ফুলমিয়া, নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক এম.এ মতিন মোল্লা, মুক্তিযোদ্ধা এন্তাজুর রহমান প্রধান, অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক আব্দুল ওয়ারেছ প্রধান, এম মোজাম্মেল হক, রফিকুল ইসলাম রফিক, মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, উপজেলার ফাঁসিতলা বাজার থেকে পরিচয়হীন সীমা নামের এক কিশোরীকে ক্রন্দনরত অবস্থায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত ৩টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে সুযোগ বুঝে থানা হেফাজতে থাকা সীমাকে কয়েক পুলিশ সদস্য রাতভর ধর্ষণ করে বলে বক্তারা অভিযোগ করেন। বর্তমানে সীমা গাইবান্ধা জেলহাজতে নিরাপত্তা হেফাজতে রয়েছে।

Monday, 3 June 2013

অধিকার-এর অনুসন্ধান : থানায় নিয়ে চোখ বেঁধে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে ফাহাদ ও আলমগীরকে গুলি করে পুলিশ : পুলিশের পায়ে ধরে অনুরোধেও রক্ষা হয়নি



গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতাল চলাকালে পথচারী আবদুল্লাহ আল ফাহাদ নামে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র এবং ব্যবসায়ী মো. আলমগীর হোসেনকে ধরে নিয়ে তাদের গায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে পুলিশ। এরপর আহত অবস্থায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একপর্যায়ে তাদের উভয়েরই একটি করে পা কেটে ফেলতে হয়। এদের মধ্যে পঙ্গু আলমগীর ৩০ মার্চ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলে ওইদিন তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়। আর ফাহাদ বর্তমানে পঙ্গু অবস্থায় হাসপাতালে পড়ে আছেন।
মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল সংগঠনটি এ সংক্রান্ত বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
অধিকার জানায়, ফাহাদ ও আলমগীরকে পুলিশ সদস্যরা বিনা মামলায় আটক করে থানায় আনার পর এএসআই আসাফুদ্দৌলাহ বাদী হয়ে ফাহাদ, আলমগীরের বিরুদ্ধে আরও ৭ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫০ জনকে অভিযুক্ত করে মোট তিনটি মামলা করে পুলিশ।
পঙ্গু ফাহাদ এখন হাসপাতালের বেডে : ফাহাদের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার পূর্ববিঘা গ্রামে। তিনি বেসরকারি ইন্টারন্যশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটির (ঢাকা ক্যাম্পাসের) আইন বিভাগের তৃতীয় সেমিস্টারের ছাত্র। তিনি ঢাকার পান্থপথ এলাকায় মেসে থাকতেন। ফাহাদ অধিকার-কে জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ৭টায় নাস্তা খাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হন। কুতুববাগ এলাকায় আসামাত্রই তিনি দেখতে পান হরতালের সমর্থনে পিকেটাররা পিকেটিং করছে, সেই সঙ্গে গুলির শব্দও শুনতে পান। এ সময় কুতুববাগ এলাকা থেকে ফার্মগেটের দিকে লোকজন দৌড়ে যাচ্ছে। তিনিও ভয়ে কুতুববাগ থেকে ফার্মগেট এলাকার দিকে দৌড় দেন। কিছুদূর যাওয়ার পর আবার গুলির শব্দ শুনে তিনি উত্তর পাশে একটি দালানের দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়ান। তখন পেছন থেকে একজন লোক এসে তার শার্টের কলার চেপে ধরে। ওই লোক তখন তাকে লাঠি দিয়ে পেটাতে পেটাতে একটি মাইক্রোবাসের কাছে নিয়ে যায়। মাইক্রোবাসে উঠে দেখেন, দুজন ছেলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এ সময় ডিবি পুলিশের জ্যাকেট পরা একজন কর্মকর্তা এসে কাছে থাকা পুলিশদের জানায়, তাকে যেন শেরেবাংলা নগর থানায় নিয়ে ভালোভাবে গুলি করা হয়। মাইক্রোবাসে থাকার সময় তিনি তার বাবা মো. মোফাজ্জল হোসেন ভুইয়াকে মোবাইল ফোনে জানান, পুলিশ সদস্যরা তাকে শেরেবাংলা নগর থানায় নিয়ে যাচ্ছে। এরপর তাকে শেরেবাংলা নগর থানায় নিয়ে হাজতে রাখা হয়। তখন পুলিশ সদস্যরা তার কাছে থাকা মোবাইল ফোন এবং মানিব্যাগ নিয়ে যায়। এরপর দুজন পুলিশ সদস্য এসে তাকে হাজত থেকে বের করে থানার ভেতর গোসলের জায়গায় নিয়ে যায়। তাকে গুলি করা হবে বলে একজন পুলিশ সদস্য জানায়। এরপর অন্য এক পুলিশ একটা পরিত্যক্ত কাপড় দিয়ে তার চোখ বাঁধে। তিনি চোখের বাঁধন খুলে ওই পুলিশের পায়ে ধরে বলেন, তাকে যেন গুলি না করা হয়। ওই পুলিশ সদস্য আবার তার চোখ বেঁধে দেয়। এভাবে কয়েকবার বাঁধন খোলার পর এক পুলিশ সদস্য তাকে বলে, এরপর চোখ খুললে বুকে গুলি করা হবে। এরপর একজন পুলিশ সদস্য তার চোখ বেঁধে তাকে ধরে রাখে। আরেকজন পুলিশ তার বা পায়ে গুলি করে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর তিনি তার চোখের বাঁধন খুলে ফেলেন। এরপর দুজন পুলিশ সদস্য তার কলার চেপে ধরে তাকে পুলিশের গাড়িতে তুলে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যায়। তিনি এক পুলিশ সদস্যের কাছে জানতে পারেন, তার নামে তিনটি মামলা হয়েছে। ১৩ মার্চ অপারেশনের মাধ্যমে তার বাম পায়ের উরু থেকে কেটে ফেলা হয়। বর্তমানে তিনি জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে আইজি ওয়ার্ডে জি ১১ নম্বর বেডে চিকিত্সাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
পা হারিয়েও কারাগারে মো. আলমগীর হোসেন মিয়া : মো. আলমগীর হোসেন মিয়ার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থানার আশরাফগঞ্জ গ্রামে। তিনি একজন বই ব্যবসায়ী। ঢাকার নীলক্ষেত এলাকায় তার বইয়ের দোকান আছে। আলমগীর অধিকার-কে জানান, তিনিও পান্থপথ এলাকায় থাকেন। প্রতিদিন রাজাবাজার জামে মসজিদে ফজরের নামাজ পরে সংসদ ভবন এলাকায় হাঁটার অভ্যাস তার। ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে তেজগাঁও কলেজের সামনে যান। তিনি সেখানে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করার দৃশ্য দেখতে পান। এ সময় তিনি কুতুববাগ এলাকার দিকে গুলির শব্দ শুনে ফার্মগেটের দিকে বাসায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন। এ সময় হঠাত্ করে ৪-৫ জন পুলিশ সদস্য তাকে আটক করে শেরেবাংলা নগর থানায় নিয়ে রাখে। তখন পুলিশ সদস্যরা তার কাছ থেকে মোবাইল ও মানিব্যাগ নিয়ে নেয়। থানাহাজতে থাকাকালে একজন পুলিশ সদস্য তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেয়। তথ্য নেয়ার পর ওই পুলিশ সদস্য তাকে বলে, সে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য। তিনি জামায়াতের সদস্য নন বলে জানান। এরপর সন্ধ্যার দিকে সাদা পোশাকধারী এক লোক উত্তেজিত স্বরে তার নাম ধরে ডাকতে থাকে এবং পুলিশ সদস্যদের প্রতি আলমগীরকে গুলি করার নির্দেশ দেয়। এরপর একজন পুলিশ সদস্য তাকে হাতকড়া পরিয়ে হাজতের বাইরে বের করে আনে এবং পেছন দিক থেকে বাম পায়ে গুলি করে। আলমগীর তখনই অজ্ঞান হয়ে পড়েন বলে অধিকার-কে জানান। জ্ঞান ফেরার পর তিনি নিজেকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালের বিছানায় দেখতে পান। পরে তিনি জানতে পারেন, তার নামে তিনটি মামলা হয়েছে। তিনি হাসপাতালের সি ওয়ার্ডের ৭নং বেডে চিকিত্সা নেন। গত ৪ মার্চ ২০১৩ অপারেশনের মাধ্যমে তার উরু থেকে বাম পা কেটে ফেলা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মার্চ ২০১৩ আলমগীরকে ছাড়পত্র দিলে ওইদিনই শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়।
এদিকে এ ঘটনাগুলোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অধিকার। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ৪২ বছর ধরে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোতে দায় মুক্তির যে সংস্কৃতি চলছে, তার ধারাবাহিকতায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের দ্বারা এ ধরনের অপরাধগুলো সংগঠিত হচ্ছে। ফলে কাউকে গ্রেফতারের পর থানাহাজতে নিয়ে চোখ বেঁধে পায়ে গুলি করার ঘটনা ঘটছে। যার ফলশ্রুতিতে সেসব ব্যক্তির পা কেটে ফেলতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি এক ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবস্থাকেই তুলে ধরে। বর্তমানে পুলিশকে নির্বিচারে প্রাণঘাতি অস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে। অধিকার অপরাধী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের ভিত্তিতে গ্রেফতার করে তাদের বিচারের সম্মুখীন করার দাবি জানাচ্ছে। সেই সঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকেও এ ব্যাপারে তার যথাযথ দায়িত্ব পালনের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। 

এই নিয়ে বাংলাভিশনের রিপোর্টটি দেখুন ...


বাংলাদেশে রিমান্ডের হাইকোর্টের নির্দেশনা ..কিন্তু মানছে না খোদ আদালত ও পুলিশ

রিমান্ড বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা : ব্লাস্ট বনাম বাংলাদেশ মামলায় বিচারপতি মো. হামিদুল হক ও বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ ২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল এই রায় দিয়েছিল। রায়ে বলা হয়েছিল, হাইকোর্টের এ নির্দেশনা আপিল বিভাগেও বহাল থাকে। রায়ে বলা হয়, 
১. আটকাদেশ দেয়ার উদ্দেশ্যে পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে না। ২. কাউকে গ্রেফতারের সময় পুলিশ তার পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে। ৩. অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির আত্মীয় বা কাছের কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতারের বিষয়টি অবহিত করতে হবে। ৪. গ্রেফতারের কারণ একটি পৃথক নথিতে পুলিশকে লিখতে হবে। ৫. গ্রেফতারের ৩ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারকৃতকে কারণ জানাতে হবে। ৬. বাসা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য স্থান থেকে গ্রেফতারকৃতের নিকটাত্মীয়কে এক ঘণ্টার মধ্যে টেলিফোন বা বিশেষ বার্তাবাহক মারফত বিষয়টি জানাতে হবে। ৭. গ্রেফতারকৃতকে তার পছন্দসই আইনজীবী ও নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে পরামর্শ করতে দিতে হবে। ৮. জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আইনজীবী বা পরিচিত কারও উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। ৯. কারাগারে জিজ্ঞাসাবাদে প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়া গেলে তদন্ত কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে সর্বোচ্চ তিনদিন পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে উপযুক্ত কারণ থাকতে হবে। ১০. জিজ্ঞাসাবাদের আগে ও পরে ডাক্তার দেখাতে হবে।
আইনে আরও বলা আছে—(২) ‘পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করার পূর্বে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট অবশ্যই পুলিশের কেস ডায়রি এবং গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আনীত অপরাধের অভিযোগের প্রাথমিক সাক্ষ্য-প্রমাণ, যৌক্তিকতা ইত্যাদি পর্যালোচনা করিবেন। অতঃপর নিজে সন্তুুষ্ট হইবার পর রিমান্ড মঞ্জুর করিবেন।’

Monday, 20 May 2013

Day time Police & Awami Brutality on Protesters in Dhaka on 05-05-2013

Today is the another black day of Bangladesh history ..In the day time on 5th of May police and Awami league terrorist killed around 25 protesters in Dhaka while the protesters protest at Motijhil in Dhaka for implementing their 13 points demand.The joint forces & of government silently killing innocent protesters in street by firing , throwing tear shell,some ruling party's activists join to kill unarmed protesters by shot gun and stick. After killing the protesters Awami terrorist danced on the dead body of protesters ..This post will show you police and awami brutality at the day time on 05-05-2013 






















































More picture will be added IA...