Wednesday, 25 September 2013

Egypt's central bank confirms economic achievements under President Morsi

Mohammed Morsi
On 3 July, the Egyptian army carried out a coup against President Morsi, justifying their actions on the grounds that Egypt's economy could not survive and flourish under President Morsi. Yet, this 45% deficit reduction was due to economic policies implemented during Morsi's reign
The Egyptian Central Bank announced on Tuesday that net transfers from Egyptians working abroad increased during the past fiscal year to reach a record high of $18.7 billion. During the previous year, transfers totalled $18 billion.
The bank said in a statement that capital and financial transactions achieved a net influx of $9.7 billion compared with about only one billion USD during the previous year.
In addition, the Balance of Payments achieved an overall surplus of $237 million compared with a deficit of $11.3 million the previous year.
In Egypt, the fiscal year starts on 1 July and concludes on 30 June, thus these economic successes were all achieved under the government of ousted President Mohamed Morsi.
According to the Bank, the deficit was also reduced by 45 per cent to $5.6 billion, compared with $10.1 billion during the previous fiscal year. The bank noted a considerable retreat in the deficit of the trade balance of 7.6 per cent.
Regarding investment in Egyptian stocks, the statement said that it achieved a net inflow of $1.5 billion compared with a net outflow of $5 billion during the previous year.
Meanwhile, the net income from the Suez Canal recorded a slight decrease of 3.4 per cent, down to $5 billion compared with $5.2 billion the previous year.
Payments from investment income also retreated by 11.6 per cent after foreign companies working in Egypt decreased their number of transactions.
However the tourism industry fared much better. The Anadolu news agency cites official Egyptian figures indicating that during the first half of this year, the number of tourists to Egypt had increased by 13 per cent. The same source also cited today the minister of industry and trade as confirming that exports from the agricultural sector increased by 20% during the financial year 2012-13, which coincided with Morsi's rule.
Economists remarked that these results reflect Egypt's economic success under the government of Hisham Qandil and President Morsi.
On 3 July, the Egyptian army carried out a coup against President Morsi, Egypt's first freely elected leader, justifying their actions on the grounds that Egypt's economy could not survive and flourish under President Morsi.
And despite the unprecedented economic success of Morsi's government, on Tuesday US President Barack Obama candidly announced his support for the military coup, accusing President Morsi of failing to achieve the goals of the Egyptian revolution.
Although the bank recognised these accomplishments, they failed to attribute them to Morsi and his administration.
- See more at: http://www.middleeastmonitor.com/news/africa/7525-egypts-central-bank-confirms-economic-achievements-under-president-morsi#sthash.MpetzAE8.qMpQNArc.dpuf

কথা না শুনলে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হবে

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেছেন, সরকারের কর্মকর্তা যারা আছেন, তাদের আমাদের কথা অনুযায়ী চলতে হবে। যারা নির্দেশ মানবে না তাদের কপালে দুঃখ আছে। তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হবে। গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। নাসিম বলেন, আগামী ২৪শে জানুয়ারি পর্যন্ত ক্ষমতায় আছি। এ পর্যন্ত সরকারের নির্দেশ অমান্য করলে সরিয়ে দেয়া হবে। যারা নির্দেশ মানবে না তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হবে। যারা মনে করবেন আওয়ামী লীগ রামকৃষ্ণ মিশন তারা ভুল করবেন। কাজের মাধ্যমে প্রমাণ দিয়েছে আওয়ামী লীগ রামকৃষ্ণ মিশন চালাতে ক্ষমতায় আসেনি। জনগণের সেবা করার জন্য এসেছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দেবেন কখন নির্বাচন হবে। সংবিধানে তার ক্ষমতা দেয়া আছে। তিনি নির্বাচন কমিশনকে জানাবেন আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছি। এ পর্যন্ত আমাদের কথা শুনতে হবে। গার্মেন্ট সেক্টরের অরাজকতা নিয়ে তিনি বলেন, গার্মেন্ট সেক্টরে আমরা বিজিএমইএকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। দু’-একজন ব্যক্তি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় অহেতুক কথা বলে বিরোধী দলকে সুযোগ দিচ্ছে। আমি অনুরোধ করবো দায়িত্বে থেকে অহেতুক কথাবার্তা বলবেন না। এতে সরকারের বিপদ হয়। আমরা বিব্রত হই।
‘২৪শে অক্টোবরের পর দেশে কিছুই হবে না’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) অহেতুক হুমকি দেয়, তাদের আন্দোলনের শক্তি বা ক্ষমতা নেই। আমরা ক্ষমতায় থেকেই নির্বাচন করবো। দুনিয়ার বুকে কারও ক্ষমতা নেই নির্বাচন ঠেকাবার।  সংবিধানে আছে, একটি নির্বাচিত সরকার আরেকটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। নির্বাচন হওয়া পর্যন্ত আছি, থাকবো।
সংগঠনের সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, প্রচার সম্পাদক আবদুল হক সবুজ, ওলামা লীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসাইন প্রমুখ।

Saturday, 21 September 2013

খোলামেলা পোশাক ও মাদকের আখড়া ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে


ডেস্ক রিপোর্ট : হিজাব পরার কারণে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হলেও পুরস্কৃত করা হচ্ছে খোলামেলা পোশাকের শিক্ষার্থীদের। খোঁজ নিয়ে জানা যায় এবং সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়টির অধিকাংশ শিক্ষার্থীই খোলামেলা পোশাকে ক্লাসে আসেন। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে এসব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ফাঁকা জায়গা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া, সাইবার ক্যাফেসহ সর্বত্রই খোলামেলা পোশাকেই বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়। যা সাধারণের চোখে লজ্জাজনক মনে হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এটিকে সাধুবাদই জানায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে একটু শালীন পোশাক পড়ে ক্লাসে আসলেই শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে হেনস্তা করেন। নানা রকম কটূক্তিসহ মাঝে মাঝে অপমান করেন। তারা সরাসরি ছাত্রীদের কিছুটা উদার হতে বলেন, এবং পোশাকের ক্ষেত্রে খোলামেলা হওয়ার নির্দেশ দেন। ফলে বাধ্য হয়েই অনেক ছাত্রী খোলামেলা পোশাক পড়েন। আর যারা বিদেশি সংস্কৃতি অনুসরণ করে খোলামেলা থাকতে চান তাদের জন্য তো ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় স্বর্গ রাজ্য। এছাড়া মাদকের অন্যতম আখড়া হিসেবে পরিচিত দেশের অন্যতম এই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেই প্রকাশ্যে মাদক সেবন করা হয় বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া ও ক্লাসরুমে প্রায় শিক্ষার্থীরা মাদক সেবন করেন। জানা যায়, মাদক সরবরাহের ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা জড়িত রয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে নিয়মিত মাদক বিক্রি ও সেবন তো চিরায়ত দৃশ্যই হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক অনৈতিক কাজও হয় বলে জানা যায়।
http://www.amadershomoybd.com/content/2013/09/22/middle0270.htm

ভীত নই, আমার হত্যাকারীদের বিচার হবে কেয়ামতের ময়দানে'


গাজীপুর: জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা তার মৃত্যুদণ্ডকে 'হত্যা' আখ্যা দিয়ে বলেছেন, 'যারা আমাকে মিথ্যা অভিযোগে হত্যা করতে চায়, আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের ময়দানে তাদের বিচার করবেন।'

আজ শনিবার গাজীপুরের কাশিমপুরে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর ষাট সেলে আবদুল কাদের মোল্লার সাথে তার বড় ছেলে ও দুই মেয়েসহ স্বজনরা সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

কারা তত্ত্বাবধায়ক মো. জাহাঙ্গীর কবির জানান, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বেলায় একমাসে একবার এবং সাধারণ বন্দিদের বেলায় ১৫দিনে একবার কারাবন্দিদের সাথে দেখা করার সুযোগ থাকে। কিন্তু ফাঁসির আদেশ কারাগারে না আসায় আগের নিয়মানুযায়ী (অর্থাত্ ১৫দিনে একবার) কাদের মোল্লার সাথে তার স্বজনেরা আজ দেখা করেন।

জাহাঙ্গীর আরো জানান, বেলা ১২টার দিকে দুই মেয়ে আমাতুল্লাহ পারভিন ও আমাতুল্লাহ লারজীন, বড় ছেলে মো. হাসান জামিল, ভাতিজা সামসুল ইসলাম এবং শ্যালক রাগীবুল আহসান কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আবদুল কাদের মোল্লার সাথে দেখা করেন। সেখানে আধাঘণ্টা নানা বিষয়ে আলোচনা ও সাক্ষাৎ শেষে সাড়া ১২ টার দিকে তারা আবার কারাগার ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, গত ৭ সেপ্টেম্বর সব শেষ আবদুল কাদের মোল্লার স্ত্রী সানোয়ারা জাহান, ছেলে হাসান মওদুদ, নাতি নাইমা আক্তার, ভাতিজা নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন আত্মীয় স্বজন কারাগারে এসে কাদের মোল্লার সাথে সাক্ষাৎ করেন।

অসুস্থ্যতার কাছে সানোয়ারা জাহান আজ কারাগারে যেতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

সাক্ষাৎ শেষে তার স্বজনরা জানান, কারাগারে আবদুল কাদের মোল্লা মানসিকভাবে অনেক মজবুত আছেন। তার বিরুদ্ধে ঘোষিত ফাঁসির আদেশে তিনি মোটেই বিচলিত নন।

তিনি তার পরিবারের সদস্যদেরকে ধৈর্য্য ধারণের উপদেশ দেন। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকেও ধৈর্য্য, সবর ও সংযত আচরণের আহ্বান জানান।

দেশের অন্যতম শীর্ষ ইসলামী নেতা আবদুল কাদের মোল্লা তার পরিবারে সদস্যদের মাধ্যমে দেশবাসীর উদ্দেশে একটি বার্তা দেন।

তার বার্তাটি হুবহু তলে ধরা হলো-

'আমি কোন অপরাধ করিনি, আল্লাহ সব জানেন'

'আমি ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের জন্য টার্গেটে পরিণত হয়েছি। আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

আমার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে কোন প্রত্যক্ষদর্শী স্বাক্ষী প্রসিকিউশন হাজির করতে পারেনি। সম্পূর্ণ শোনা স্বাক্ষীর উপর ভিত্তি করে মাননীয় ট্রাইব্যুনাল আমাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছিলেন।

আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলায় ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক রায় ঘোষণার পর সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ গড়ে উঠে। তাদের দাবিতে ১৮ ফেব্রুয়ারী আইন সংশোধন করে আমার শাস্তি বর্ধিত করার জন্য সরকার পক্ষ আপীল দায়ের করে।

নিম্ন আদালত মিথ্যা মামলায় আমাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে সে দণ্ড বৃদ্ধি করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন।

সম্পূর্ণ শোনা স্বাক্ষীর উপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ দণ্ড প্রদান দুনিয়ার বিচার বিভাগের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা।

এই রায় বিস্ময়কর হলেও আমি এতে হতবাক হইনি। কারণ আমি ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের কারণেই ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি।

দুনিয়ায় যারা ইসলামী আন্দোলন করেছেন তাদের সবাইকে দুনিয়া থেকে উৎখাত করার নানামুখি ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।

এমনকি নবী-রাসূলদের উপরও চালানো হয়েছিল জুলুম এবং নির্যাতন। তাই ইসলামী আন্দোলনের পথ হচ্ছে রক্তপিচ্ছিল কন্টকাকীর্ণ।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নবুওয়াতের দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন কিন্তু শাহাদতের দরজা খোলা রেখেছেন। যতদিন ইসলামী আন্দোলনের পথে শাহাদতের ঘটনা ঘটবে ততদিন ইসলামী আন্দোলন বেগবান হবে।

আল্লাহ যাদেরকে চান, তাদেরকেই শহীদ হিসেবে কবুল করেন। আমি যদি মহান আল্লাহর দরবারে শহীদ হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হই, সেটাই আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ পাওনা। সুতরাং মৃত্যুদণ্ডের ভয়ে আমি ভীত নই।

সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো অভিযোগে দুনিয়ার আদালত আমাকে শাস্তি প্রদান করে পরকালের আদালতে আমার ন্যয়বিচার প্রাপ্তির সার্টিফিকেট দিয়েছে।

মহান আল্লাহ তায়ালা সকল অন্যায় ও বিভ্রান্তিকর বিচার থেকে মুক্তি দিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য ‘শেষ বিচারের দিনের’ কথা কোরআনে উল্লেখ করেছেন।

সুতরাং আসল ফায়সালা হবে আখেরাতের আদালতে। আজকের বিচার সেদিন আমার মুক্তির কারণ হবে। মহান আল্লাহর কাছে আমি অবশ্যই সেদিন ন্যায়বিচার পাবো।

আমি কোন অপরাধ করিনি। মহান আল্লাহ গোপন, প্রকাশ্য সকল খবর রাখেন। কোন ব্যক্তিই আল্লাহর চোখে ফাঁকি দিতে পারবে না।

যারা আমাকে মিথ্যা অভিযোগে হত্যা করতে চায়, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের ময়দানে তাদের বিচার করবেন। আমার জন্য আল্লাহর স্বাক্ষ্যই যথেষ্ঠ।

আমার জীবনের বিনিময়ে হলেও এদেশের মানুষ একদিন মুক্তি পাবে। আল্লাহর দ্বীন এখানে বিজয়ী আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সকল জুলুমের অবসান ঘটবে। আমি মহান আল্লাহর কাছে আল্লাহর দ্বীনের বিজয় কামনা করি।

আমি দেশবাসীর নিকট আমার সালাম জানাচ্ছি ও তাদের নিকট দোয়া কামনা করছি। দেশ ও জাতির এই কঠিন মুহূর্তে ধৈর্য্য, সহনশীলতা ও সংযত আচরণের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য আমি আমার
- See more at: http://timenewsbd.com/politics/2013/09/21/9990#sthash.HOM3DInH.dpuf

Friday, 20 September 2013

কী হবে কাদের মোল্লাকে হত্যার পর?


খেমেনী এহসান  এর ফেসবুক থেকে :  আমি জানিনা বিচারের নামে প্রতিশোধপরায়ণতা চর্চার বিষয়টি কিভাবে শুধু একটি দলের প্রতিবাদের বিষয় হতে পারে। এটা যে কোন বেকুবও বুঝতে পারছে যে আবদুল কাদের মোল্লাকে হত্যা করা হবে। কারণ-

১. আপিল বিভাগ সম্পূর্ণ এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে মোল্লাকে মৃত্যুদ- দিয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে কাউকে মৃত্যুদ- দেয়ার সুযোগ নাই।

২. মৃত্যুদ-ের বিরুদ্ধে আপিল করা অলংঘনীয় মানবাধিকার।

৩. যেসব বিচারকরা মোল্লাকে মৃত্যদ- দিয়েছেন তাদের মধ্যে বিচারপতি এসকে সিনহা ও বিচারপতি মানিক বৈরি বিচারক। স্কাইপ কেলেঙ্কারি মোতাবেক সিনহা জামায়াত নেতাদের হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। এই ষড়যন্ত্রকে হেফাজত করতে মানিক স্কাইপ ইস্যু সংক্রাšত্ম সুয়োমটো জারি করেছিলেন। তার কারণেই মাহমদুর রহমান জেলে ও আমার দেশ বন্ধ হয়েছে। কাজেই এই দুই বিচারপতির রায় স্পষ্টতই হত্যার ষড়যন্ত্র প্রমাণ করে।

৪. মোল্লাকে হত্যার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে রিভিউর ব্যাপারে আইনমন্ত্রী, অ্যাটর্নি জেনারেল ও প্রসিকিউশনের সমন্বয়কের বক্তব্যে। মোল্লা রিভিউ করতে পারবেন না বলে তারা আসলে ষড়যন্ত্রকে উন্মোচন করেছেন। কারণ রিভিউ না করা গেলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা থাকে শেষ অপশন। কিন্তু মোল্লার পক্ষে কোনোভাবেই ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ নাই। যদি চানও তাহলে আবদুল হামিদ সাথে সাথেই নাকচ করবেন। যার ফলাফল হলো ওই দিনই মোল্লাকে ফাঁসিতে ঝুলানো।

৫. দেখা যাচ্ছে রিভিউ করতে না দিয়ে মোল্লাকে ঈদুল আযহার আগে হত্যার ষড়যন্ত্র বা¯ত্মবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই তড়িঘড়ি ব্যাপারটাই পরিকল্পিত হত্যাকা-কে পষ্ট করে দিয়েছে।

৬. মোল্লার রায়ের পর ভারতের পক্ষ থেকে দেয়া বক্তব্য প্রমাণ করে এই হত্যার ষড়যন্ত্র একটি বহুজাতিক ষড়যন্ত্র। তারা যুদ্ধাপরাধের বিচার সমর্থন করার কথা বলে আসলে মোল্লাকে হত্যার ষড়যন্ত্র সমর্থন করার কথা বলছে। তবে মনে রাখা দরকার, ভারতের জনগণ এই ষড়যন্ত্র সমর্থন করেনি। তারা গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চে রা¯ত্মায় নেমে প্রতিবাদ করেছে।

৭. মোল্লাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ইইউসহ পশ্চিমা কোনো শক্তিই বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। মুসলিম দেশগুলোও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এতে প্রমাণিত হয়, মোল্লার মানবাধিকার লংঘনকে সবাই অনুমোদন করেছে। যা ইসলামী রাজনীতি বিরোধী ওয়ার অন টেররেরই অংশ।

৮. ষড়যন্ত্র বুঝা গেছে, মোল্লাকে হত্যা করার দাবিতে শাহবাগে কভার্ট অ্যাকশন দৃশ্যমান করার মাধ্যমে। যাকে দেশি-বিদেশি শক্তি সমর্থন করেছে।

এখন গুরুত্বপূর্ন কথা বলতে চাই। আবদুল কাদের মোল্লার বিষয়টি এখন সময়ের ব্যাপার। যা প্রতিহত করার বা¯ত্মবিক কোনো সুযোগই থাকছে না। আল্লাহর খাস কুদরতের ব্যাপারটি যদিও আলাদা। আমি বলবো, মোল্লাকে হত্যার পর আসলে কী ঘটবে। এটা আমি বলতে পারছি এ কারণে যে দুনিয়ার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ইতিহাস থেকে এই ইংগিতই পাচ্ছি।

১. মোল্লাকে হত্যার পরে সরকার ক্যাম্পেইন করবে, যুদ্ধাপরাধের বিচার কার্যকর করেছে। এটা কেউ বিশ্বাস করবে না। কারণ মানুষ জানে কিভাবে বিচারের নামে মোল্লাকে হত্যা করা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো গত কয়েক শ’ বছর ধরে কিভাকে ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের হত্যা করা হয়েছে তা মানুষ জানে। তাদের হত্যার সময় অনেক মিথ্যা কথা বলা হলেও মানুষ জানে কেন হত্যা করা হয়েছে। যেমন মানুষ জেনেছিল মক্কার মোশরেকরা কিভাবে সাহাবীদের হত্যা করেছিল। সিপাহী বিদ্রোহের সময় বিচার করেই ৫৪ হাজার মুজাহিদকে হত্যা করে রা¯ত্মায় ঝুলিয়ে রেখেছিল ইংরেজরা। মানুষ বিচার মানেনি, হত্যাকে হত্যা জেনেছে। নবাব সিরাজ উদ্দৌলাকে হত্যা করেও তার চরিত্র হনন করা হয়েছ, মানুষ বিশ্বাস করেনি কিছুই।

২. মোল্লাকে হত্যার পর এবং আরো কয়েকজনকে হত্যার পর খুনীরা ৩ বছরের জন্য উল্লাস করতে পারবে। কারণ তাদের হত্যার পর দেশে জরুরি অবস্থা জারি হবে। বর্তমান সংসদ বহাল থাকবে। বিএনপিতে ভাঙন ধরবে। খালেদা জিয়াকে জনগণকে ছেড়ে যাবে। জামায়াতকে মুছে ফেলা হবে। হুজুরদের দমন করা হবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে ইসলামী ও জাতীয়তাবাদী পেশাজীবীরা এই সময়টাতে পক্ষ ত্যাগ করবে। সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ ও আইনশৃঙ্খলাঅলারা একাজটা বেশি করবে।

৩. এই সময়ের মধ্যে কিছু কাজ হবে। ইউএসএর নিয়ন্ত্রণ জোরদার হবে। ইনডিয়ার সাথে সম্পর্ক আরো জোরদার হবে। টিকফা, ট্রানজিট হবে। নাগরিক অধিকার সঙ্কুচিত হবে। ৩-৪ লাখ মানুষের গুম হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। নিম্ন আদালত আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিপীড়নে মানসিক রোগের মহামারি শুরু হবে। অনেক তরুণ-তরুণী আত্মহত্যা করবে।

৪. বাংলাদেশে ঠিক তিন বছর পরে নাগরিক স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বাধীনতার একটা সংগ্রাম শুরু হবে। নতুন বাংলাদেশের এই আন্দোলনে নতুন ইতিহাস ও চেতনা তৈরি হবে। সেই সময়ে জাতীয় বীর হিসেবে ফিরে আসবেন আবদুল কাদের মোল্লা। ফিরে আসবেন নিহতের মিছিলে থাকা অধ্যাপক গোলাম আযম, মাওলানা নিজামী, মাওলানা নিজামী, মাওলানা সাঈদী, আলী আহসান মুজাহিদ, কামারুজ্জামানসহ সবাই। এভাবেই ফিরে আসেন ইসলামী আন্দোলনের মজলুমেরা।

৫. এই লড়াইয়ে বিভীষিকা এই যে বাংলাদেশে বেশ বড়সর কয়েকটি গণহত্যা হবে। মুসলমানদের সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি কমে যেতে পারে। রোহিঙাদের মতো। এরপর যারা বেচে থাকবেন তারাই লড়বেন, দাসত্ব মুক্তির জন্য।

বাম রাজনীতি থেকে পুরোদস্তুর ভোগবাদে

 দিলীপ বড়ুয়া। জীবনের বেশির ভাগ সময় পার করে দিয়েছেন মেহনতি মানুষের জন্য সংগ্রাম করে। তিন তিন বার নির্বাচনে অংশ নিলেও প্রতিবারই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে তার। রাজনীতির মাঠে সাম্যবাদের ঝাণ্ডা ওড়ানো এই নেতার পরিচিতি ছিল এক সময় সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিক হিসেবে। রাজধানীতে থাকতেন ভাড়া বাসায়। আর এখন! এই বাম রাজনীতিক পুরোদস্তুর ভোগবাদে বিশ্বাসী। রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় অন্তত চারটি প্লটের মালিক তিনি। তার রাজনৈতিক দর্শনই যেন পাল্টে গেছে ক্ষমতার পালাবদলে। অবিশ্বাস্যভাবে বদলে গেছে তার ভাগ্যের চাকা। সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার বিরুদ্ধে দলের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. এখলাসুর রহমানকে ‘হত্যা’ ও নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করাসহ নানা অভিযোগ এনে তার পদত্যাগ দাবি করেন দলটির রাজশাহী অঞ্চলের নেতারা বছর খানেক আগে। দীর্ঘদিন ধরে দলে ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে তারা বলেন, সমালোচনা করায় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড নুরুল ইসলামকে পলিটব্যুরো থেকে দিলীপ বড়ুয়া অপসারণ করেন। অপসারণ করেন কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড ডা. জমির ও শহীদ উদ্দিন মাস্টারকে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটিও বাতিল করে দেন। তিনি নিজেকে সৎ বলে মুখে ফেনা তুললেও শ্রমিক নেতাদের পরিবারের সদস্যদের চাকরি দেয়ার কথা বলে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মন্ত্রী।
ওদিকে, মহাজোট সরকারের শিল্পমন্ত্রী হয়ে এখন তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা রাজউক-এর বিভিন্ন প্রকল্পে একাধিক প্লটের মালিক। মন্ত্রিত্ব লাভের পর একবার যমুনা সার কারখানা থেকে গাড়ি নিয়েছিলেন উপঢৌকন হিসেবে। সমালোচনার মুখে তিনি তা ফেরত দেন। তবে এখন তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগের ডালপালা মেলেছে। অভিযোগ উঠেছে, বৌদ্ধ মন্দিরের নামে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখলের। মন্ত্রিসভার একজন সৎ সদস্য হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করলেও এখন মানুষ আর তার সততার কথা বিশ্বাস করতে চান না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বদান্যতায় তিনি মন্ত্রিত্ব লাভ করেন। এটা অবশ্য তিনি সবসময় বলেও বেড়ান। দিলীপ বড়ুয়ার ভাষায়, মহাজোট নেত্রী তাকে কথা দিয়েছিলেন, তিনি (দিলীপ) যদি নির্বাচন না করেন তাহলে তাকে মন্ত্রিত্ব দেয়া হবে। দিলীপ বড়ুয়া বলেন, শেখ হাসিনা তার সেই কথা রেখেছেন এবং তাকে মন্ত্রিত্ব দিয়েছেন। কিন্তু তিনি নিজেকে মন্ত্রী বলতে চান না, বলেন জনগণের সেবক। সেই সেবকই এখন দলীয় কমরেড হত্যা, জমি দখলসহ সরকারি একাধিক প্লটের মালিক হয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
মন্ত্রী ও পরিবার সদস্যদের চার প্লট: অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীতে যার মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না- থাকতেন ভাড়া বাসায়, এখন সেই সাম্যবাদী নেতা দিলীপ বড়ুয়াই রাজধানী ও এর আশপাশ এলাকায় অন্তত পাঁচটি প্লটের মালিক। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক)লউত্তরা, পূর্বাচল ও ঝিলমিল প্রকল্পে বরাদ্দ পাওয়া এ প্লটগুলোর মধ্যে মন্ত্রীর নিজের নামে আছে দু’টি প্লট। মেয়ে ডা. উপমা বড়ুয়ার নামে তিন কাঠা এবং ভাই ডা. অলক বড়ুয়ার নামে আছে তিন কাঠার প্লট। স্ত্রী অধ্যাপিকা তৃপ্তি রানীর নামেও পূর্বাচলে পাঁচ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেয়া হয়। পরে তা বাতিল করা হয় বলে দিলীপ বড়ুয়া দাবি করেন।
এসব প্লটের সবই মন্ত্রী নিয়েছেন নিজের প্রভাব খাটিয়ে এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে। এর সত্যতাও পাওয়া গেছে রাজউক-এর বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত থেকে। রাজউক সূত্র জানায়, দিলীপ বড়ুয়া শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার কিছুদিন পর প্রথম সরকারি প্লট পান রাজউক-এর উত্তরা প্রকল্পে। সেখানে তার নিজের নামে পাঁচ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয় রাজউক-এর টাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্টের ১৩-এ (সি) ধারার আওতায়। সংরক্ষিত কোটা থেকে বরাদ্দ দেয়া প্লটের জন্য আবেদনের প্রয়োজন হয়নি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১১ সালে রাজউক পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে জমি বরাদ্দের ঘোষণা দিলে সেখানে আবেদন করেন মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, তার স্ত্রী অধ্যাপিকা তৃপ্তি রানী, মেয়ে ডা. উপমা বড়ুয়া এবং ভাই ডা. অলক বড়ুয়া। মন্ত্রী নিজেসহ তার স্ত্রী, সন্তান ও ভাইয়ের নামে পূর্বাচলে জমি বরাদ্দ দেয়া হয়।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা এবং রাজউক সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রী ও তার পরিবারের নামে এই জমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে সকল নিয়ম-নীতিকে উপেক্ষা করা হয়েছে। এখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সংরক্ষিত কোটা থেকে মন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে জমি বরাদ্দ দেয়া হয়। ২০১১ সালের ২৯শে ডিসেম্বর রাজউক’র ১২তম বোর্ডসভা অনুষ্ঠিত হয়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং- প্রশা-৬/রাজ-২২/২০০৬/৭৭০ তারিখ, ১৫/১২/২০১১ এর মাধ্যমে ১৩ এ (সি) ধারার সুপারিশ মোতাবেক সরকারের সংরক্ষিত কোটা হতে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের মোট ২২ জনকে বিভিন্ন আয়তনের ২২টি প্লট বরাদ্দের সিদ্ধান্ত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্তের আলোকে এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ১৩-এ (সি) ধারার সুপারিশ অনুযায়ী সংরক্ষিত কোটায় মোট ২২ জনকে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। এ ২২ জনের মধ্যে ক্রমানুসারে তিন, চার ও পাঁচ নম্বর তালিকায় মন্ত্রী পরিবারের তিন সদস্যের নাম রয়েছে। তিনজনই শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার পরিবারের সদস্য। এর মধ্যে মন্ত্রীর স্ত্রী অধ্যাপিকা তৃপ্তি রানীর নামে বরাদ্দ দেয়া হয় পাঁচ কাঠার একটি প্লট। মন্ত্রীর মেয়ে আমেরিকা প্রবাসী ডা. উপমা বড়ুয়ার নামে বরাদ্দ দেয়া প্লটের আয়তন হচ্ছে তিন কাঠা এবং দিলীপ বড়ুয়ার ভাই ডা. অলক বড়ুয়ার নামে দেয়া হয়েছে তিন কাঠা। মন্ত্রী পরিবারের এ সদস্য মিলে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে মোট বরাদ্দ পাওয়া প্লটের পরিমাণ ১১ কাঠা। পূর্বাচলে বর্তমানে জমির যে মূল্য তাতে এই ১১ কাঠা জমির দাম অন্তত সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা।
সূত্র জানায়, দিলীপ বড়ুয়া ও তার পরিবারের সদস্যদেরকে প্লট দেয়ার ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম-নীতির ব্যত্যয় ঘটেছে। সরকারি নিয়মানুযায়ী কোন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী বা এমপি একটির বেশি সরকারি প্লট পাওয়ার বিধান না থাকলেও দিলীপ বড়ুয়া তার পরিবারের সদস্যরা একাধিক প্লট নিয়েছেন। নিয়মানুযায়ী মন্ত্রী যদি সরকারি কোন প্লট পান তাহলে তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের অন্য কোন সদস্য প্লট পাবেন না। এমনকি মন্ত্রী নিজেও দ্বিতীয় দফায় আর কোন প্লট পাবেন না। কিন্তু শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার ক্ষেত্রে কেন এ নিয়ম মানা হয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রাজউক সংরক্ষিত কোটায় তার নামে প্লট দেয়ার পাশাপাশি তার পরিবারের অপর সদস্যের নামেও প্লট দিয়েছে। মন্ত্রী তার নিজের নামে আরও একটি প্লট নিয়েছেন কেরানীগঞ্জে রাজউক-এর ঝিলমিল প্রকল্পে। এখানে তার নামে বরাদ্দ দেয়া প্লটে জমির পরিমাণ তিন কাঠা। বর্তমান বাজারমূল্যে এর দাম প্রায় তিন কোটি টাকা। এর বাইরে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কাছে আরও পাঁচ কাঠার একটি প্লটের জন্য মন্ত্রী আবেদন করেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, দিলীপ বড়ুয়া ও তার পািরবারের সদস্যদের প্লট পাওয়ার ক্ষেত্রে এ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে।
জমি দখলের অভিযোগ: গত বছর তার ইশারায় রাজধানীর সবুজবাগে বৌদ্ধ মন্দির এলাকায় এক ব্যক্তির জমি দখল করিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই জমির মালিক মো. আবদুল হামিদ অভিযোগ করেন, বৌদ্ধ মন্দির সংলগ্ন ছয় কাঠা জমিটি তার। সেখানে গত বছর ১৪ই মে ঢাকা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে কোনরকম পূর্ব নোটিশ ব্যতীত ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদের নেতৃত্বে ওই জমি থেকে হামিদের পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। ওই সময় তিনি নোটিশ দেখতে চাইলে পুলিশ ও র‌্যাব দিয়ে হামিদ ও তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই উচ্ছেদ অভিযানের সময় মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বৌদ্ধ মন্দিরে উপস্থিত ছিলেন। হামিদের অভিযোগ, তাদেরকে ওই দিন এক কাপড়ে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে হয়েছে। তিনি জানান, গত ৫০ বছর ধরে তিনি এই জমির কর দিয়ে আসছেন। অথচ হঠাৎ করেই তাকে উচ্ছেদ করা হয়।
এখন যেখানে বৌদ্ধমন্দির সিএস রেকর্ডে সেই জমির মূল মালিক ছিলেন রাধাশ্যাম সাহা। এখানে সর্বমোট সাড়ে ১৭ বিঘা জমি ছিল। রাধাশ্যামের কাছ থেকে হামিদের পিতা আবদুল লতিফ ও তার চাচা মো. লোকমান জমি ক্রয় করেন। ১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে সরকার দুই দফায় সাড়ে ১৩ বিঘা (সাড়ে চার একর) জমি অধিগ্রহণ করে বৌদ্ধমন্দির নির্মাণের জন্য বৌদ্ধদের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর বাকি সাড়ে চার বিঘা জমির মধ্যে রাস্তাসহ অন্যান্য কাজে সরকার আরও দুই বিঘা জমি নিয়ে নেয়। বাকি থাকে প্রায় ছয় কাঠা জমি। ওই জমিতেই নির্মিত বাসায় এত বছর ধরে বসবাস করছিলেন আবদুল হামিদ। বাসার সামনে তার একটি দোকানও ছিল। কিন্তু গত বছর ১৪ই মে বাসা ও দোকান দুই-ই হারান তিনি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে একবার তাকে উচ্ছেদ করে জমিটি দখলের চেষ্টা করা হলে তিনি উচ্চ আদালতে একটি রিট করেন। আদালত উচ্ছেদের ব্যাপারে স্থগিতাদেশ দেয়। এটি বহাল আছে। আদালতের স্থগিতাদেশ থাকার পরও তাদেরকে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
সার কেলেঙ্কারি: সার কেলেঙ্কারিতেও জড়িয়ে পড়ে শিল্প মন্ত্রণালয়। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সুইস সিঙ্গাপুর ওভারসিজের মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি টাকার নষ্ট সার আমদানি করে মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার নির্দেশে তা আনলোড করা হয়। সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২২তম বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, প্রায় ২০০ কোটি টাকার নষ্ট সার নিয়ে লুকোচুরি করে শিল্প মন্ত্রণালয়। এ সার গ্রহণ না করার জন্য সংসদীয় কমিটি সুপারিশ করলেও সার সম্পূর্ণ আনলোড করা হয়। এ ব্যাপারে বিতর্কিত আমদানিকারকের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়ারও চেষ্টা করা হয়। কমিটির সদস্যরা বলেছিলেনন, এ সার নিলে কৃষক ঠকবে। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। তাই এ সার গ্রহণ করা ঠিক হবে না। গত বছর ১৬ই সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ২২তম বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে আরও জানা গেছে, নষ্ট সার সম্পর্কে সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বৈঠকে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করার জন্য ৯ জন দিয়ে কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও গঠন করা হয় মাত্র ৫ জন দিয়ে। তাছাড়া কমিটিতে যেসব কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা অপেক্ষাকৃত জুনিয়র ছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন এ ক্ষেত্রে বুয়েটের বিভাগীয় প্রধানদের সমন্বয়ে একটি টেকনিক্যাল রিপোর্ট কমিটি গঠন করা হবে। কিন্তু বাস্তবে তা করা হয়নি। তিনি বলেন, মাসের পর মাস সিইউএফএল’র মাঠে সার ফেলে রাখা হয়। ফলে সার পাথরে পরিণত হয়েছে। এ সার নিয়ে কৃষক ঠকবে।
৫০ লাখ টাকা ঘুষ নেয়া ও হত্যার অভিযোগ: বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার বিরুদ্ধে দলের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. এখলাসুর রহমানকে ‘হত্যা’ ও নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করাসহ নানা অভিযোগে বছর খানেক আগে তার পদত্যাগ দাবি করেছিলেন দলটির রাজশাহী অঞ্চলের নেতারা। রাজশাহী প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান। ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাম্যবাদী দলের রাজশাহী জেলা শাখার সদস্য কমরেড এরশাদ আলী, কমরেড কাবিল উদ্দিন, কমরেড মনিরুজ্জামান, কমরেড ওসমান গনি, কমরেড বাসন্তী রানী, কমরেড সাজ্জাদ আলী, কমরেড নওশাদ আলী ও কমরেড গোলাম মর্তুজা মুরাদ। এখলাসকে দিলীপ বড়ুয়াই ‘হত্যা’ করেছেন বলে ওই সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। তারা আরও বলেন, দিলীপ বড়ুয়াা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘আমার নেত্রী’ বলে পত্রিকায় বক্তব্য দিয়েছেন। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে তার পদত্যাগ করা উচিত। রীতি অনুযায়ী কোন বাম প্রগতিশীল নেতা দুই দেশের নাগরিক হতে পারেন না। অথচ দিলীপ বড়ুয়া আমেরিকারও নাগরিকত্ব নিয়েছেন।
বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের রাজশাহী জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড মাহবুবুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, পাঁচ সদস্যের রাজশাহী মহানগর কমিটির সবাই ও জেলা কমিটির ৯ জনের মধ্যে ৭ জনই এসব অভিযোগের সঙ্গে একমত। কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে এসব ওপেন-সিক্রেট। আমরা অসংখ্যবার এসব অভিযোগ নিয়ে দলীয় সভায় আলোচনার চেষ্টা করেও কোন ফল হয়নি। তিনি অবিলম্বে দলের সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রিসভা থেকে দিলীপ বড়ুয়ার পদত্যাগ দাবি করেন।
কমরেড নুরুল ইসলামের যত অভিযোগ: দিলীপ বড়ুয়াকে ‘চরম সুবিধাভোগী’ আখ্যা দিয়ে মানবজমিনকে কমরেড নুরুল ইসলাম বলেন, দলের গঠনতন্ত্রের কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা তিনি করেন না। দিলীপ বড়ুয়া দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ দখল করে আছেন এমন অভিযোগ এনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, শত শহীদের রক্তে রঞ্জিত এই দলটি এখন তার ‘পকেট পার্টি’ হিসেবে পরিচালনা করছেন। দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র চলছে দলে। সমালোচনা করায় কোন ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়া আমাকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পলিটব্যুরো থেকে দিলীপ বড়ুয়া অপসারণ করেন। আর এখন পলিটব্যুরোতে যে ক’জন আছেন সবাই তার তোষামোদি করেন। আরও অপসারণ করেন কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড ডা. জমির ও শহীদ উদ্দিন মাস্টারকে। দিলীপ বড়ুয়ার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তার আর ক্ষমা নেই। কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড ডা. জমিরকে দল থেকে অপসারণ করায় তিনিও গত বছর ঈদুল আযহার দিন স্ট্রোক করে মারা যান। কমরেড ডা. জমিরের পোস্টার ছাপিয়ে রামগতিতে গত ৮ই ফেব্রুয়ারি স্মরণসভা করতে চাইলে জেলা প্রশাসক ও এসপিকে দিয়ে ১৪৪ ধারা জারি করে সভা পণ্ড করে দেন দিলীপ বড়ুয়া। কমরেড নুরুল ইসলাম দাবি করেন, ঢাকায় বস্তি থেকে লোক ভাড়ায় এনে দল চলে। সাম্যবাদী দলের মধ্যে সাংগঠনিকভাবে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে ছিল লক্ষ্মীপুর জেলা। আর তাই লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটি ভেঙে দেন মন্ত্রী। ভেঙে দেন রামগতি কমিটি-ও। নিজেকে সৎ বলে বাহবা নিলেও শ্রমিক নেতাদের চাকরি দেয়ার কথা বলে কমরেড এখলাসের কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। কিন্তু একজনকেও চাকরি দেননি। টাকাও ফেরত দেননি। কি করে এখলাস শ্রমিকদের এতগুলো টাকা ফেরত দেবেন? টাকার শোক সহ্য করতে না পেরে স্ট্রোক করে মারা যান একদিন।
শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া যা বললেন: সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ডা. জমির আমাদের দলে নেই, তাই দলের নাম ব্যবহার করে কেউ পোস্টার ছাপিয়ে স্মরণ সভা করতে পারেন না। এ কারণে হয়তো পুলিশ তাদের বাধা দিয়েছে। কমরেড এখলাসের কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ঘুষ নেয়া এবং টাকার শোক সহ্য করতে না পেরে তার স্ট্রোক করে মারা যাওয়া প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, তার পরিবার তো অভিযোগ করেননি। তাছাড়া তার মেয়েকে আমার মন্ত্রণালয়ে চাকরি দিয়েছি। কমরেড নুরুল ইসলামকে পলিটব্যুরো থেকে অপসারণ প্রশ্নে তিনি বলেন, দল যখন ছোট ছিল তখন তাদের প্রয়োজন ছিল। এখন দলে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। এছাড়া তিনি দলের নিয়ম-কানুন মেনে চলেননি বলে তাকে বাদ দেয়া হয়েছে। তিনি ছিলেন দলিল লেখক। আর শহীদ উদ্দিন মাস্টার ছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাদের অপকর্ম সম্পর্কে আমি কিছু বলতে চাই না। আপনি ও আপনার পরিবারের সদস্যদের নামে চারটি প্লট নিয়েছেন- এ প্রসঙ্গে দিলীপ বড়ুয়া বলেন, অভিযোগ সঠিক নয়, আমি মন্ত্রী হিসেবে একটি প্লট পেয়েছি। আর আমার স্ত্রী অধ্যাপিকা তৃপ্তি রানীর নামে পূর্বাচলে পাঁচ কাঠার যে প্লটটি বরাদ্দ দেয়া হয় তা বাতিল করে দিয়েছি। আপনার মেয়ে ডা. উপমা বড়ুয়া এবং ভাই ডা. অলক বড়ুয়াও প্লট পেয়েছেন- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, আমার মেয়ে এখন বিবাহিতা। তার স্বামী আছে। তার নামে প্লট থাকতেই পারে। রাজধানীর সবুজবাগে বৌদ্ধ মন্দির এলাকায় ছয় কাঠা জমি দখলের অভিযোগ প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, সরকারি আদেশেই জমিটি নেয়া হয়েছে মন্দিরের জন্য। সেখানে আমার কোন হাত ছিল না। ২০০ কোটি টাকার সার কেলেঙ্কারি নিয়ে অপর এক প্রশ্নে দিলীপ বড়ুয়া মানবজমিনকে বলেন, তোফায়েল ভাই এ বিষয় সংসদীয় কমিটিতে কেন যে বললেন বুঝতে পারছি না। তবে ওই সার যে নষ্ট নয় তা বুয়েট পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে এবং বিতরণও করা হয়েছে। কৃষকদের কোথাও কোন সমস্যা হয়নি।

Thursday, 19 September 2013

আবুল হাসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

মানবজমিন ডেস্ক: পদ্মা সেতু দুর্নীতি নিয়ে তোলপাড় চলছে। এ দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী ও বাংলাদেশী বংশোদভূত কানাডিয়ান জুলফিকার আলী ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে কানাডার আদালত। এরই মধ্যে এসএনসি-লাভালিনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেসকে কানাডার পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তিনি নিয়মিত আদালতে হাজিরা দেবেন এই শর্তে পরে বুধবার তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এ খবর দিয়েছে কানাডা থেকে প্রকাশিত বাংলা ভাষার একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যম এ খবর প্রকাশ হওয়ার পর কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশী ও দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। ওদিকে কানাডার সিবিসি নিউজ এক প্রতিবেদনে বলেছে, এ দুর্নীতিতে দু’জন বিদেশী অভিযুক্ত হয়েছেন। তাদের একজন আবুল হাসান চৌধুরী। তিনি বাংলাদেশ সরকারের একজন সাবেক কর্মকর্তা এবং ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী লবিস্ট। বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু দুর্নীতি নিয়ে যে চিঠি দিয়েছিল তাতে তার নাম রয়েছে। বলা হয়েছে, পদ্মা সেতু দুর্নীতির ঘুষের ভাগ তিনিও পেয়ে থাকতে পারেন। ওদিকে বুধবারই সিবিসি আবুল হাসান চৌধুরীর সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করে। এ সময় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কানাডা কর্তৃপক্ষ তাকে অভিযুক্ত করেছেন এমন কোন তথ্য তার কাছে নেই। রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) এ দুর্নীতির কারণে গত মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করে এসএনসি-লাভালিনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেসকে। বুধবার তাকে শর্তসাপেক্ষে ছেড়ে দেয়া হয়। এ খবর প্রকাশ হতেই বেরিয়ে আসতে থাকে নতুন সব তথ্য। বুধবার আরসিএমপি ঘোষণা করে যে, তারা কানাডার বিদেশী সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি বিষয়ক আইনের (করাপশন অব ফরেন পাবলিক অফিসিয়ালস অ্যাক্ট) অধীনে কেভিন ওয়ালেস, জুলফিকার আলী ভূঁইয়া ও বাংলাদেশের প্রথম সারির লবিস্ট আবুল হাসান চৌধুরীকে অভিযুক্ত করেছে। এছাড়া, এসএনসি-লাভালিনের নিম্ন পর্যায়ের দু’ কর্মচারী মোহাম্মদ ইসমাইল ও রমেশ শাহ’র বিরুদ্ধে এ দুর্নীতির অভিযোগে মামলা চলছে টরন্টোতে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পদ্মা সেতু বহুমুখী প্রকল্পের ৫ কোটি ডলারের সুপারভাইজিং কন্ট্রাক্ট এসএনসি-লাভালিনকে পাইয়ে দিতে তারা ঘুষের সঙ্গে জড়িত ছিল। এর প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংক তদন্ত করে। বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ায় প্রকল্পে দুর্নীতি তদন্তের কাজ করে বিশ্বব্যাংক। এরপর বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন প্রকল্পে এক দশকের জন্য নিষিদ্ধ করা হয় এসএনসি-লাভালিনকে। তারা বিশ্বব্যাংকের ওই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে। ওদিকে এসএনসি-লাভালিন গ্রুপের যে অঙ্গ প্রতিষ্ঠানে কেভিন ওয়ালেস দায়িত্ব পালন করেন তার নাম এসএনসি-লাভালিন ইন্টারন্যাশনাল ইন-করপোরেশন (এসএলআইইই)। এরই মধ্যে কানাডার সিবিসি নিউজ এবং গ্লোবাল অ্যান্ড মেইল প্রকাশ করেছে যে, ঘুষ দেয়ার ক্ষেত্রে কেভিন ওয়ালেসের প্রতিষ্ঠান এসএলআইআই গোপন অভ্যন্তরীণ কোড ব্যবহার করতো। এ রকম কোড হলো ‘পিসিসি’ অথবা ‘সিসি’। প্রজেক্ট কনসালটেন্সি কস্ট বা প্রকল্পের পরামর্শক ফি হিসেবে গোপন কোডের মাধ্যমে এসব ঘুষ দেয়া হতো। এভাবে ঘুষ দেয়ার একটি ব্যাংক চেক হাতে রয়েছে সিবিসি নিউজের। এসএলআইআই-এর প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইসমাইল বলেছেন, গোপন কোড হিসেবে ব্যবহার করা হতো পিসিসি শব্দটি। কখনও কখনও তা পরামর্শক ফি, কখনও বাণিজ্যিক খরচ হিসেবে এসব ব্যয় দেখানো হয়। কিন্তু বাস্তবে এগুলো ছিল ঘুষ। বাংলাদেশে পদ্মা সেতু দুর্নীতিতে এরই মধ্যে অভিযুক্ত এই মোহাম্মদ ইসমাইল। তার বিরুদ্ধে যে প্রমাণ পাওয়া গেছে তা প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ওদিকে এভাবে গোপন কোডের মাধ্যমে অর্থ দেয়াকে অবৈধ বলে মেনে নিয়েছে এসএনসি-লাভালিন। এসব দুর্নীতি যখন ধরা পড়ে তখন এসএলআইআই-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ থেকে এবং জেনারেল ম্যানেজার পদ থেকে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে কোম্পানি কেভিন ওয়ালেসকে চাকরিচ্যুত করে। ওদিকে তার আইনজীবী স্কট ফেনটন বুধবার বলেছেন, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে আরসিএমপি যে অভিযোগ এনেছে তা মারাত্মক ধরনের। তিনি বলেন, তদন্ত হয়েছে ১৮ মাস আগে। তখন তাকে অভিযুক্ত করা হয়নি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত হয়েছে। তাতে কোন নতুন তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায় নি। তাই তার মক্কেল নিজেকে নির্দোষ বলে মনে করছেন। তিনি সুনাম ফিরিয়ে আনার জন্য লড়াই করে যাবেন। আরসিএমপি এসএনসি-লাভালিনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেসকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার শর্তে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার ছেড়ে দিয়েছে। তবে অপর দুই অভিযুক্ত কানাডার বাইরে থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা যায়নি। আরসিএমপি’র এক বিবৃতিতে বলা হয়, পদ্মা সেতুর নির্মাণ তদারকের ৫ কোটি ডলারের কাজ আদায়ে ঘুষের ষড়যন্ত্রে নতুন ৩ জন জড়িত ছিলেন। এর মধ্যে জুলফিকার আলী ভূঁইয়া কানাডিয়ান নাগরিক ব্যবসা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাংলাদেশে যুক্ত এবং সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত লবিস্ট। অন্যজন কেভিন ওয়ালেস। অপরদিকে এই ৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আগে ২০১১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর আরসিএমপি পদ্মা সেতু দুর্নীতির সংশ্লিষ্টতায় টরন্টোর অদূরে ওকভিলে কেভিন ওয়ালেস নিয়ন্ত্রিত ডিভিশন এসএনসিটুতে হানা দেয় এবং সাবেক কর্মকর্তা ভারতীয় বংশোদ্ভূত রমেশ শাহ ও বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তাদের উভয়ের বিরুদ্ধে কানাডার ‘করাপশন অব ফরেন পাবলিক অফিসিয়াল অ্যাক্ট’ লঙ্ঘনের মামলাটি প্রাথমিক শুনানি শেষে চূড়ান্ত শুনানির জন্য সর্বোচ্চ প্রাদেশিক আদালত অন্টারিও সুপিরিয়র কোর্ট জাস্টিসে বিচারাধীন রয়েছে। ইতিমধ্যে মোহাম্মদ ইসমাইল এসএনসি-লাভালিনের বিরুদ্ধে ‘রংফুল ডিসমিসাল’ বা বিনা দোষে চাকরিচ্যুতির একটি ভিন্ন দেওয়ানি মামলা করেছেন। এই মামলায় রমেশ শাহ’র বিরুদ্ধে মোহাম্মদ ইসমাইলের অভিযোগ, তারা উভয়ে ২০০৭ সালে একত্রে গায়ানা রাষ্ট্রে একটি প্রকল্পে কাজ করেছেন। এখান থেকে ইসমাইল রমেশের হয়রানি, ভয়ভীতি ও ‘ক্যালাস’ বা ঔদাসীন্য আচরণ উপেক্ষা করে গেছেন। তাতে ইসমাইল মানসিকভাবে বিকলাঙ্গ হয়েছেন। এছাড়াও ঘুষের সঙ্কেত ‘প্রজেক্ট কনসালটেন্সি কস্ট’ বা সংক্ষেপে ‘পিসিসি’ তারই অধিকর্তা রমেশের উদ্ভাবিত। এ বছর জুনে কেভিন ওয়ালেস নিজেও এসএনসি-লাভালিনের বিরুদ্ধে ‘রংফুল ডিসমিসাল’ মামলা করেছেন। ওই মামলায় কেভিন ওয়ালেসের দাবি, ২০১২ সালের ডিসেম্বরে পাবলিক রিলেশন স্ট্র্যাটেজিক কারণে তিনি চাকরিচ্যুত হয়েছেন এবং এসএনসি-লাভালিনের অন্য কর্মকর্তার ‘রংডুয়িং’ বা অপরাধপূর্ণ কাজ তার জ্ঞাতসারে হয়নি। সেই জবাবে এসএনসি-লাভালিন কোর্টকে জানিয়েছে, চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে তিনি অবিশ্বস্ত হয়েছেন ও তার অগোচরীভূত কাগজপত্রে অন্যরা অনৈতিক ব্যবসায়িক কর্মে জড়িয়েছেন। গত বুধবার এসএনসি-লাভালিন তার গ্রেপ্তার বিষয়টি স্বীকার করলেও অন্য কোন মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছে। এদিকে গবেষণাগত কারণে রমেশ শাহ ও মোহাম্মদ ইসমাইলকে কেন্দ্র করে চলমান পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলার সকল প্রমাণাদি কোর্ট থেকে সিবিসি ও জাতীয় দৈনিক গ্লোব অ্যান্ড মেইল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। তারা ভিন্ন এক গবেষণায় দেখিয়েছে, কেভিন ওয়ালেসের ডিভিশন ‘এসএনসিটু’ বাংলাদেশের বাইরে গোপন কোড ‘পিসিসি’ বা ‘সিসি’-কে ‘প্রজেক্ট কনসালটেন্সি কস্ট’ হিসেবে নাইজেরিয়া, জাম্বিয়া, উগান্ডা, ভারত এবং কাজাখস্তানের প্রকল্পের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছে।
তদন্তে খুশি অর্থমন্ত্রী
পদ্মাসেতু নিয়ে কানাডা পুলিশের তদন্ত রিপোর্টে খুশি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুুল মুহিত। গতকাল দুপুরে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরাসরি হজ ফ্লাইট চালুর পর সাংবাদিকদের কাছে অর্থমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে সন্তোষ প্রকাশ করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এসএনসি-নাভালিনের সাবেক কর্মকর্তা কেভিন ওয়ালসকে আসামি না করায় আমি আগেই আপত্তি জানিয়েছিলাম। ওই সময় বলেছিলাম, তাকে মাফ করার কোন সুযোগ নেই।’ সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সে বাংলাদেশে সন্দেহভাজন ব্যক্তি। তাকে ওখানে অভিযুক্ত করায় ভাল হয়েছে।’
আবুল হাসানকে নজরদারিতে
রাখা হয়েছে
সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ পেলে চার্জশিটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে দুদক। আবুল হাসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে কানাডা পুলিশ পদ্মা সেতু দুর্নীতির অভিযোগ এনে মামলা দায়েরের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পু গতকাল আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় একথা বলেন। তিনি বলেন, কানাডা পুলিশের এই তদন্ত আমাদের অনেক কাজে আসবে। কেভিন ওয়ালেসকে আসামি করা প্রসঙ্গে চুপ্পু বলেন, এটা আমাদের সাফল্য। কারণ কেভিন ওয়ালেস আমাদেরও আসামি। কানাডা আবুল হাসানকে আসামি করেছে আপনারা বাদ দিয়েছেন- এটাতে কি বিতর্ক উঠবে না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটাতে আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে না, উজ্জ্বল হবে।
অভিযোগের ভিত্তি
নেই: আবুল হাসান
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে কানাডার আদালতের দেয়া অভিযুক্তদের তালিকায় নাম থাকায় সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। কানাডার সিবিসি নিউজে প্রকাশিত সংবাদে তিনি তার নাম দেখেছেন উল্লেখ করে বলেন, তারা যে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছেন তার কোন ভিত্তি নেই। 

মাদ্রাসায় আ.লীগের দেয়া আগুনে পুড়লো কোরআন শরীফ



ফেনী: ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের বালুয়া চৌমুহনী সংলগ্ন আল-হেরা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দেয়া আগুনে কোরআন শরীফ পুড়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, বুধবার রাত ৮টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আফসার সবুজের নেতৃত্বে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা পিকেটারদের ধাওয়া দিলে তারা ওই মাদ্রাসায় ও আশপাশের বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ফেনী থেকে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই টিনশেড ঘরটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। সেই সঙ্গে মাদ্রাসায় রক্ষিত কোরআন শরীফ ও আরবী গ্রন্থগুলোও ভস্মীভূত হয়ে যায়।

আগুন দেখে পার্শ্ববর্তী বাড়ি থেকে শোর-চিৎকার করলে বৃদ্ধ ওবায়দুল হককেও (৮৭) হামলাকারীরা মারধর করে। ঘরের সামনে থাকা ব্যবসায়ী একরামুল হক হীরার মোটরসাইকেলটিও তারা পুড়িয়ে দেয়।

খবর পেয়ে উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল হোসেন পুলিশের একটি টিম নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।

Wednesday, 18 September 2013

আবদুল কাদের মোল্লার দন্ড ও কয়েকটি প্রশ্ন


19 Sep, 2013
জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় ঘোষনার পর কয়েকটি প্রশন বার বার মনে পড়ছে। ‘ট্রুথ ইজ নো ডিফেন্স’ ইংরেজী ৪টি শব্দের এই বাক্যটি ঘুরপাক খাচ্ছে মনের ভেতরে। এই বাক্যটি খোদ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা বিচারের আসনে বসেই অত্যন্ত দাম্ভিকতার সঙ্গে উচ্চারন করেছিলেন। দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও আমাকে ২০১০ সালের ১৮ আগস্ট দন্ড দেয়ার আগে এটি উচ্চারণ করেছিলেন আপিল বিভাগ। আদালত অবমাননার মামলার শুনানীতে আমার দেশ সম্পাদক যখন আমার লেখা ‘চেম্বার মানেই সরকার পক্ষে স্টে’ শিরোনামে প্রতিবেদনের পক্ষে প্রমান উপস্থাপন করছিলেন তখন আপিল বিভাগ এ মন্তব্যটি করেছিল।
সুপ্রিমকোর্টের অনেক সিনিয়র আইনজীবী সহ শতাধিক আইনজীবী সেদিন উপস্থিত ছিলেন। কেউ এই বাক্যটির প্রতিবাদ করেননি। তখন ধরে নিয়েছিলাম সত্য উদঘাটন করা সুপ্রিমকোর্টের কাজ নয়। সত্য ন্যায় বিচারের ভিত্তি হতে পারে না। সত্য যতই সত্য হোক সেই প্রমান কাজে লাগবে না। আদালত যেটা চাইবে সেটা-ই হবে। সত্য আসলে ডিফেন্স নয়। না হলে কী আপিল বিভাগ বিচারকের আসনে বসে বলতে পারে ট্রুথ ইজ নো ডিফেন্স। সত্য উদঘাটন করা সুপিমকোর্টের কাজ হলে আইনজীবীরা অন্তত এই বাক্যটির প্রতিবাদ করতেন। যেহেতু আইনজীবীরাও চুপ করে বসে ছিলেন আমরা ধরে নিয়েছি আসলেও আপিল বিভাগে সত্য ডিফেন্স নয়।
আবদুল কাদের মোল্লার মামলায়ও নানা রকম কথা প্রচারিত রয়েছে। তিনি আদৌ রাজাকার ছিলেন নাকি মুক্তিযোদ্ধ ছিলেন এনিয়েও রয়েছে নানা বিতর্ক। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি একটি টকশো অনুষ্ঠানে বলেছিলেন আবদুল কাদের মোল্লা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর কমান্ডার কে ছিল সেটাও তিনি সেই অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন। ট্রায়াল কোর্ট শোনা সাক্ষীর ভিত্তিতে আবদুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন দন্ড দিয়েছিল।
আদালতের বাইরে চাউড় রয়েছে আবদুল কাদের মোল্লা রাজাকার নন, ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। যেমনটা বলেছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। কোনটা সত্য! এর বাইরে একেবারে প্রামান্য এবং বাস্তব সত্য হচ্ছে স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে আবদুল কাদের মোল্লা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন সমাপ্ত করেছেন। তাঁর ডিপার্টমেন্টে তিনি প্রথম শ্রেনীতে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় এতবড় কসাই রাজকার হয়ে থাকলে ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দাপটের সঙ্গে অধ্যয়ন সমাপ্ত করার কথা নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন শেষে তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত উদয়ন স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। কসাই রাজাকার হয়ে থাকলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের পরপর তখন-ই উদয়ন স্কুলে চাকির পাওয়ারও কথা নয়। তখন শেখ মুজিবুর রহমানের দপুটে শাসন চলছিল। এত বড় কসাই রাজাকার শেখ মুজিবের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেনীতে প্রথম তারপর উদয়ন স্কুলে চাকির প্রাপ্তি ! বিষয়টা যেন কেমন লাগে।
আবদূল কাদের মোল্লার স্ত্রীর একটি স্টেটমেন্ট অনুযায়ী শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে চাকরিও দিয়েছিলেন। সেটা সত্য হয়ে থাকলে আর আবদুর কাদের মোল্লাহ কসাই রাজাকার হলে শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে চাকির দিলেন কেমন করে! রাজাকার হলেতো অন্তত তাঁকে চাকরি দেয়ার কথা নয়। এছাড়া ১৯৭৭ সালে আবদুল কাদের মোল্লাহ রাইফেলস্ স্কুল এন্ড কলেজে চাকরি করেন এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। তখন পর্যন্ত কিন্তু আবদুর কাদের মোল্লাহ এত বড় কসাই রাজাকার ছিলেন বলে কেউ শোনেননি।
মুক্তিযুদ্ধের পরপর-ই চিহ্নিত রাজার ও দালালদের বিরুদ্ধে দালাল আইনে বিচার শুরু হয়েছিল। তখন হাজার হাজার লোককে দালাল আইনে গ্রেফতার করা হয়। সেই হাজার হাজার মানুষের মধ্যে কিন্তু আবদুল কাদের মোল্লার জায়গা হয়নি। এত বড় কসাই রাজাকার হয়ে থাকলে আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে তখন কেন একটি মামলা বা একটি জিডিও কোন থানায় দায়ের হয়নি! রাজকারের তালিকায় ঠাঁই হলো ২০১০ সালে এসে। আবদুল কাদের মোল্লার মানবতা বিরোধী অপরাধী হলেন ২০১০ সালে। কিন্তু দালাল আইনে যখন হাজার হাজার লোক গ্রেফতার হলেন, বিচার শুরু হলো তখনতো তাঁর বর্তমান দল জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় ছিল না। ১৯৭২ সালের পর যখন দালাল আইনে বিচার চলছিল তখনতো মুক্তিযুদ্ধের স্যোল এজেন্ট দাবীদার আওয়ামী লীগ-ই ক্ষমতায় ছিল। তখন কেন আবদুল কাদের মোল্লাকে গ্রেফতার বা তাঁর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ কোথায়ও দায়ের করা হয়নি। এটাতো বলার সুযোগ নেই বৈরী সরকার ক্ষমতায় থাকার কারনে তখন অভিযোগ দায়ের করা যায়নি। তবে তখন কেন এত গুলো হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির নামে কোন মামলা হয়নি?
আরেকটি বিষয় এখানে প্রশ্ন জাগে। আবদুল কাদের মোল্লা ছাত্র জীবনে দীর্ঘ সময় প্রগতির দাবীদার ছাত্র ইউনিয়ন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর নেতা ছিলেন তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়ন নেতা রাশেদ খান মেনন ও মতিয়া চৌধুরী। স্বাধীনতার পর পর কিন্তু আবদুল কাদের মোল্লার নেতা মতিয়া চৌধুরী মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বানিয়েছেন। কিন্তু হালে তিনি বড় আওয়ামী লীগার। আর তাঁরই এক সময়ের রাজনৈতিক অনুজ আবদুল কাদের মোল্লাহ হলেন কসাই রাজাকার! রাশেদ খান মেনন এবং মতিয়া চৌধুরী তাদের রাজনৈতিক অনুজ সম্পর্কে কী বলবেন! তারা কী বুকে হাত রেখে বলতে পারবেন আবদুল কাদের মোল্লাহ তাদের ছাত্র রাজনীতির অনুজ ছিলেন না! এজন্যই বার বার আমার হৃদয় ক্যম্পাসে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে সুপ্রিমকোর্টের সেই অমীয় বানী ‘ট্রুত ইজ নো ডিফেন্স’।
এই কথা বলে আমার প্রিয় সম্পাদক ও আমাকে দন্ড দেয়ার পর জ্যষ্ঠতম আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হকের কাছে প্রশ্ন রেখেছিলাম কোর্টের ভেতরে-ই। স্যার এটা কেমন রায় হলো? উত্তরে তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বলে ছিলেন ‘আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করো তোমাদের ফাঁসি দেয়নি’! আজ মনে হচ্ছে তা-ই সুপ্রিমকোর্ট চাইলে ফাঁসি দিতে পারতো।
আবদুল কাদের মোল্লার ট্রায়ালের সময় কোন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী নেই। সবাই শোনা কথা জানিয়েছেন ট্রায়ালকোর্টে। শোনা কথার সাক্ষীতে চরম দন্ড হতে পারে সেটা বোধ হয় আমাদের এই বাংলাদেশে-ই সম্ভব। আরো একটি প্রশ্ন জাগে, এত গুলো লোক হত্যাকেন্ডর দাবীতে আবদুল কাদের মোল্লাকে শোনা সাক্ষীর ভিত্তিতে প্রথম যাবজ্জীবন এবং পরবর্তিতে ফাঁসির দন্ড হল। এত গুলো লোককে যিনি হত্যা করতে পারেন না তাঁর হুকুমে হত্যাকান্ড সংঘঠিত হতে পারে তিনিতো বিরাট কিছু। এতগুলো হত্যাকাান্ডের সঙ্গে যিনি জড়িত মুক্তিযুদ্ধের পরপর তাঁর নাম উঠে আসল না কেন? আবদুল কাদের মোল্লার হুকুমে যারা হত্যাকান্ড গুলো সংঘটিত করেছে তাদের একজনেরও নাম ঠিকানা পাওয়া গেল না! আবদুল কাদের মোল্লাহ একাই শুধু দায়ী হলেন! বিচার শুধু একজনের হবে! বাকীরা কোথায়! রাজকার, আল বদরের সদস্য সবাইতো বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। তারা তো বাংলাদেশেই রয়েছেন। তাঁর সহযোগি একজনকেও খুজে পাওয়া গেল না! নাকি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের যে অভিযোগ করা হচ্ছে সেটাই সত্য?
আবদুল কাদের মোল্লাকে প্রথমে ট্রায়াল কোর্ট (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) যাবজ্জীবন দন্ড দিয়েছিল। এই দন্ড ঘোষণার পর ভারতীয় পত্র পত্রিকার ভাষ্য অনুযায়ী ভারতের টাকায় শাহবাগে আন্দোলনের খুটি বসানো হয়। গণজাগরনের নামে জড়ো করা হয় হাজার হাজার মানুষ। দিনের পর দিন গুরুত্বপূর্ন রাস্তা অবরোধ করে রাখে তারা। বিরিয়ানি খাইয়ে টাকা বিতরন করে জিয়ে রাখার চেস্টা করা হয় সেই গণ জাগরণ। সেখানে দিনে-রাতে তরুন, তরুণীদের অবাধ মেলা-মেশার সুযোগের কথা না-ই বা বললাম। তাদের দাবী ছিল আবদুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দিতে হবে। বিচার নয়, ফাঁসি চাই সেই শ্লোগান ছিল শাহবাগে। সেই দাবী পূরনের জন্য-ই সংসদে আইন হল। মূল বিচার সমাপ্তির পর শুধু একজনকে ফাঁসি দেয়ার নিমিত্তে সংসদে আইন তৈরি হল শাহবাগের দাবীতে। সেই দাবী অনুযায়ী গত মঙ্গলবার আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় হল। এটাকে ইনসাফ বা ন্যায় বিচারের কোন স্থরে স্থান দেয়া যায় সেই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে হয়ত কোন দিন নির্ধারিত হবে।

লেখক: অলিউল্লাহ নোমান, দৈনিক আমার দেশ-এর বিশেষ প্রতিনিধি, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত

Monday, 16 September 2013

ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়নে ডিআরইউ-তে লাইব্রেরি

DRU-libraryইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা রিপোর্টারস ইউনিটি লাইব্রেরী ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, রবিবার ঢাকা রিপোর্টারস ইউনিটি কার্যালয়ে উদ্বোধন করা হয়।
আইন প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে এ লাইব্রেরী উদ্বোধন করেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মোহাম্মদ আবদুল মান্নান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা রিপোর্টারস ইউনিটি’র সভাপতি শাহেদ চৌধুরী, সহ-সভাপতি এবিএম জিয়াউল কবির সুমন, অর্থ সম্পাদক রেজাউল করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু আহমেদ, সদস্য কাজী হাবিব, সাজ্জাদ হোসেন, মেহেদী আজাদ মাসুম, আমিনুল হক ভূঁইয়া ও নাজমুল আহম্মদ তৌফিক উপস্থিত ছিলেন।
http://www.newsevent24.com/?p=60474

Friday, 13 September 2013

দেশ ছাড়ছেন ২৮৭ জন আওয়ামীলীগ নেতা

দ্বিতীয় আবাস বা ‘সেকেন্ড হোম’ গড়ার নামে রাজনীতিক, ব্যবসায়ী ও আমলাসহ চিহ্নিত একটি সুবিধাবাজ চক্র ৪ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকার সমপরিমাণ মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার করেছেন। একই কায়দায় পাচারের অপেক্ষায় পাইপ লাইনে রয়েছে আরো প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। এমন তথ্যই জানতে পেরেছে গোয়েন্দারা।

গোয়েন্দাদের একটি সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে এ তৎপরতা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে বলে জানা গেছে।

দায়িত্বশীল একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে রাজনৈতিক অঙ্গন যতই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, সুবিধাবাদি একটি মহল ঘোলা এই পরিস্থিতিতে দেশের বাইরে নিরাপদ আশ্রয় খোঁজা শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সেকেন্ড হোম প্রকল্পের ব্যানারে দেশ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে যারা সম্প্রতি বিদেশে পাড়ি জমানোর জন্য অস্থির হয়ে পড়েছেন ওই তালিকার শীর্ষে রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিকরা। সুবিধাভোগী শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও আমলারা দ্বিতীয় নম্বরে রয়েছেন।

গোযয়েদারা জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সূত্র থেকে তারা এ পর্যন্ত যে তথ্য পেয়েছেন তাতে বিদেশে পাড়ি জমানোর জন্য সেকেন্ড হোম প্রকল্পে আবেদন করে ৬৪৮ জন অপেক্ষমাণ রয়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ২৮৭ জন, বিএনপি-জামায়াতের ৯৬ জন এবং বাকি ২৬৫ জন সুবিধাভোগী শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও আমলা। তাদের পছন্দের তালিকায় ওপরের দিকে রয়েছে মালয়েশিয়া। এ ছাড়াও অনেকেই কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছেন। এ দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে ‘বিনিয়োগকারী’, ‘উদ্যোক্তা’ ও ‘স্ব-কর্মসংস্থান’ কোটায় সহজেই ভিসা দিচ্ছে।

দ্বিতীয় আবাস বা সেকেন্ড হোমের নামে বাংলাদেশিরা কীভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাঠাচ্ছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজি হাসান জানান, কোনো আইনি পদ্ধতিতে এ ধরনের লেনদেনের সুযোগ নেই। যা হচ্ছে সব বেআইনি। এখন পর্যন্ত যারা সেকেন্ড হোম প্রকল্পের মাধ্যমে টাকা বিদেশে নিয়ে গেছে তাদের কেউই অনুমোদন নেননি।

তিনি জানান, এ বিষয়ে বছর দুয়েক আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বাংলাদেশি ‘বিনিয়োগকারী’ অভিবাসীদের বিষয়ে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। কিন্তু অভিবাসন হওয়া সবার নাম-ঠিকানাসাপেক্ষেই তথ্য দেয়া সম্ভব বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানোর পর বিষয়টি থমকে গেছে।

এ বিষয়ে ঢাকায় মালয়েশিয়া হাইকমিশনের মুখপাত্র বলেন, ‘মাই সেকেন্ড হোম’ মালয়েশিয়া সরকারের একটি প্রকল্প। এ প্রকল্পের সবই মালয়েশিয়ার আইন অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে আইনের সাংঘর্ষিকতা ও অর্থ লেনদেনের স্বচ্ছতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য থেকে বিরত থাকেন।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের উপপরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা বলেন, সেকেন্ড হোমের ব্যানারে অর্থ পাচারের বিষয়টি সবারই জানা। কিন্তু এ ব্যাপারে যাদের অভিযোগ তোলার কথা তারাই নিশ্চুপ রয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অভিযোগ পেলেই দুদক এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভিযোগ ছাড়া এ বিষয়ে দুদকের কিছুই করার নেই।

এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, যখন সরকার বদল হবার সময় আসে তখন দেশের ভেতর থেকে অর্থ পাচারের প্রবণতা বাড়ে অথবা অর্জিত অর্থ দেশে ফিরিয়ে না আনার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। ২০১০ সালের পর থেকে আবার এটা বেড়ে গেছে।

পরিসংখ্যানও বলছে একই কথা। ২০০২ সালে নতুন করে মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম কর্মসূচি শুরু হলেও সে বছর কোনো বাংলাদেশি এ সুযোগ নেননি। পরের বছর অর্থাৎ ২০০৩ সালে প্রথমে এ সুযোগ নেন ৩২ জন।

এরপর থেকেই বাড়তে শুরু করে দেশের বাইরে বাড়ি কেনার হিড়িক। এক বছরে সবচেয়ে বেশি ৮৫২ বাংলাদেশি বিদেশে বাড়ি কেনেন ২০০৫ সালে যা ছিল চারদলীয় জোট সরকারের শেষ বছর। নির্বাচন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে ২০১০ সালে দেশ যখন কাতরাচ্ছিল অস্থিতিশীলতার জ্বরে তখন বাড়ি কেনেন ৩৪১ জন।

এরপর থেকে সংখ্যাটি কমতে থাকে। নামতে থাকে এ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থানও। তবে বর্তমান সরকারের শেষদিকে এসে বাংলাদেশের অবস্থান ৬ থেকে লাফিয়ে আবারো উঠে এসেছে দুই নাম্বারে।

২০১১ সালে বাড়ি কেনেন ২৭৬ জন আর ২০১২ সালে এ সংখ্যা ৩৮৮। চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত বিদেশে বাড়ি কিনেছেন ৯৪ জন।

মালয়েশিয়ার সেকেন্ড হোম প্রকল্পের বাড়ি কেনার বিষয়ে সহায়তাকারী অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ইলাকো ট্রেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল আজিজ জানান, এ প্রকল্পের আওতায় এখনো ৬৪৩ বাংলাদেশি আবেদনকারী মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন। আগামী দুই মাসের মধ্যে তাদের প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়ার পর্যটন মন্ত্রণালয়।

মাদ্রাসার ছাত্র কমানোর আন্দোলন শুরু করে দিয়েছি: জয়

 পঁচাত্তরের পর দেশে স্কুল তৈরি বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তার তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

তিনি বলেন, ‘স্কুল বন্ধ করে দেয়ায় প্রতি তিনজন স্কুলছাত্রের বিপরীতে এখন একজন মাদ্রাসাছাত্র তৈরি হয়েছে। এটা কমিয়ে দিতে আমরা ইতোমধ্যে আন্দোলন শুরু করে দিয়েছি।’

শুক্রবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘সুচিন্তা ফাউন্ডেশন’ নামের একটি সংগঠন আয়োজিত ‘রূপকল্প-২০২১: গত ৫ বছরের অর্জন এবং আগামী ৫ বছরের অঙ্গীকার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি একথা বলেন।

জয় দাবি করে বলেন, ‘গত সাড়ে চার বছরে বাংলাদেশে যতো উন্নয়ন হয়েছে, স্বাধীনতার পর কোনো সরকারের আমলে এতো উন্নয়ন হয়নি। কেবল আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল বলেই বিদ্যুত সমস্যা সমাধান সম্ভব হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সব সময় শোনা যায়- দুই নেত্রী, দুই নেত্রী। দুই দলই তো ক্ষমতায় এসেছে। তুলনা করে দেখুন- কে দেশকে এগিয়ে নিয়েছে, আর কে দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ‘বিএনপির আমলে দেশের ১৬ জেলায় একযোগে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছিল। দেশকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জঙ্গিবাদী দেশ হিসেবে পরিচিতি দিয়েছিল। আমরা জঙ্গিবাদ দমন করেছি। এখন প্রায় প্রতি সপ্তাহেই আমরা জঙ্গি ধরছি।’

বর্তমান সরকারের আমলে ‘মারাত্মক উন্নতি’ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘গত সাড়ে চার বছরে মাথাপিছু আয় দ্বিগুণ হয়ে এক হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। মানুষের জীবন মান উন্নয়ন হয়েছে।’

দুর্নীতি দমনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের অর্জন তুলে ধরে জয় বলেন, ‘দুর্নীতিতে আমরা কোথায় ছিলাম, এখনো কোথায় এসেছি। বিএনপি সরকারের আমলে দেশ দুর্নীতিতে বাংলাদেশ শীর্ষ ছিল, এখন সে অবস্থান ৪৪তম। এটা মারাত্মক উন্নতি।

Thursday, 12 September 2013

ভারতীয় হাইকমিশনের সামনের রাস্তাটি 'ফেলানী রোড' !

ফেলানী হত্যা মামলার ন্যায্য বিচার থেক বঞ্চিত হয়ে ভারতীয় হাইকমিশন অফিসের  সামনের রাস্তার নাম ‘ফেলানী রোড’ করার জন্য ফেসবুক ও অন্যান্য  সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে জোর দাবি উঠেছে।

ফেসবুকে ‘ঢাকায় ইন্ডিয়ান হাই কমিশনের সামনের রাস্তার নাম “ফেলানী রোড” করা হোক’ নামে একটি পেইজও খোলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার তৈরি ঐ ফেসবুক পেইজটি তাদের দাবি নিয়ে সামাজিক মিডিয়াতে হাজির হবার পর মাত্র একদিনের মধ্যে ঐ পেইজটিতে প্রায় ৯০০০ জন যুক্ত হয়েছে। 


পেইজে বলা হয়েছে, সরকার দিক বা না দিক, গুলশান-১ এর ১৪২ নাম্বার রোডের নাম “ফেলানী রোড”।

এই দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছানোর জন্য ‘চেঞ্জ ডট অর্গ’ ওয়েবসাইটে একটি পিটিশানও খোলা হয়েছে।

পেজটিতে আরো বলা হয়েছে, শুটিং ক্লাবের সামনে থেকে গুলশান-১ পর্যন্ত রাস্তাটার নাম “ফেলানী রোড”। সরকার দিক বা না দিক, আমরা সেটাকে “ফেলানী রোড” ডাকব। ইন্ডিয়ান হাই কমিশনও ঐ রাস্তায়, হাই কমিশনারের বাসাও ঐ রাস্তায়। দেখি ফেলানীর নাম না নিয়ে সে কই যায়! উদাহরন হিসাবে তারা বেইলী রোডের কথা বলেন। সরকারের দেওয়া বেইলী রোডের নাম "নাটক স্মরণী" হওয়া সত্ত্বেও বেইলী রোড সেই নামে পরিচিত নয়। সেই হিসাবে তারা ভারতীয় হাইকমিশনারের সামনে রাস্তাটি 'ফেলানী রোড' হিসাবে ডাকতে আগ্রহী।

বিএসএফের হাতে নির্মমভাবে নিহত বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী হত্যার প্রহসনমূলক বিচার এবং সীমান্ত হত্যা প্রতিবাদে বাংলাদেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীদের প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই এই পেজ খোলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার পথে কুড়িগ্রামের অনন্তপুর সীমান্ত বিএসএফের গুলিতে নিহত হন। দালালের মাধ্যমে মই বেয়ে পিতার সঙ্গে কাঁটাতারের বেড়ার ওপরে ওঠেন ফেলানী। এ সময় বিএসএফ এর ১৮১ ব্যাটালিয়নের চৌধুরীহাট ক্যাম্পের টহলরত সদস্যদের গুলিতে নির্মম ভাবে প্রাণ হারান ফেলানী।

দীর্ঘ আড়াই বছর পর গত ১৩ আগস্ট ফেলানী হত্যাকাণ্ডের এ বিচার শুরু হলেও বিচারের রায়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্য অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেয় ভারতের কুচবিহার ১৮১ বিএসএফ সদর দপ্তরের বিশেষ আদালত।
http://tazakhobor.com/bangla/weird-news/11200-2013-09-12-20-06-39?q=d73c77f2399c3cb8c562ba873ef77a5d

Friday, 23 August 2013

বগুড়ায় জঙ্গি সংগঠন ‘বিইএম’র আস্তানাটি আ.লীগ নেতার বাড়ি : অভিযানের পর থেকে মালিক পলাতক

বগুড়ায় উগ্রবাদী জঙ্গি সংগঠন ‘বিইএম’ যে বাড়িটি আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করত, সেটি এক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার। বৃহস্পতিবার ওই বাড়ি থেকে বিপুল অস্ত্রসহ নতুন এ জঙ্গি সংগঠনের তিন সদস্যকে আটক করে র্যাব।
র্যাব সদস্যরা বগুড়া শহরের যে বাড়ি থেকে নতুন এই জঙ্গি সংগঠনের আস্তানার সন্ধান পেয়েছেন, সেই বাড়ির মালিক স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন। এর আগে বগুড়ার কাহালু উপজেলার যোগারপাড়ার যে বাড়ি থেকে ট্রাকভর্তি গুলি উদ্ধার হয়েছিল, সেই বাড়ির মালিকও ছিলেন আওয়ামী কৃষক লীগ নেতা। আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি থেকে একের পর এক জঙ্গি গ্রেফতার এবং আস্তানার সন্ধান পাওয়ার ঘটনায় জনমনে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়ার জবানী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে যে বাড়ি থেকে র্যাব সদস্যরা আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রসহ তিন জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে, সে বাড়ির মালিক দুলাল হোসেন ১২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক। এছাড়া তিনি জেলা যুবলীগের এক শীর্ষ নেতার ব্যবসায়িক পার্টনার। দুলালের ভগ্নিপতি সেই যুবলীগ নেতার প্রাইভেট সেক্রেটারি হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরেই ওই বাড়িটিতে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলে আসছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এর আগে র্যাব সদস্যরা সেখান থেকে অবৈধ ভিওআইপি সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। ঘটনার পর বাড়ির মালিকের সন্ধানে নিরাপত্তা বাহিনী কয়েক দফা অভিযান চালালেও তাকে ধরতে পারেনি। জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়ার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার বগুড়া থেকে অস্ত্র উদ্ধার ও ৩ জঙ্গি সদস্যকে গ্রেফতারের ঘটনা নিয়ে দেশের কিছু মিডিয়া বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করেছে। দৈনিক প্রথম আলো তাদের অনলাইনে রিপোর্ট করে ‘বগুড়ায় শিবিরের মেস থেকে অস্ত্র উদ্ধার’ শিরোনামে। তখন অভিযান পরিচালনাকারী র্যাব কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো কিছু না বললেও দৈনিকটি র্যাব কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে সংবাদটি প্রচার করে। তবে পরে রাতে সংবাদটি সংশোধন করে পুনরায় প্রকাশ করে তারা।
এর আগে কোনো জঙ্গি সংগঠনের সদস্য কোথাও থেকে গ্রেফতারের পর সেই বাড়ির মালিকের পরিচয় ফলাও করে প্রচার করেছে মিডিয়া। কিন্তু বগুড়ায় বৃহস্পতিবার নতুন একটি জঙ্গি সংগঠনের আস্তানা পাওয়ার পরও বাড়িওয়ালা আওয়ামী লীগ নেতাকে নিয়ে কোথাও কোনো সংবাদ না আসায় অবাক হয়েছে এলাকাবাসী।
‘বিইএম’ নামের নতুন এই জঙ্গি সংগঠনের আস্তানা আবিষ্কারের আগে জেএমবি নেতা বাংলাভাই এবং জেএমবির সামরিক কমান্ডার আতাউর রহমান সানি শহরের ঠনঠনিয়া এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন আত্মগোপন করেছিলেন। শহরের অনেক জনাকীর্ণ এলাকা ছেড়ে জঙ্গিরা ঠনঠনিয়া এলাকায় কেন আশ্রয় নেয়—তা নিরাপত্তা বাহিনীকে ভাবিয়ে তুলেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এ এলাকার বেশিরভাগ বাসাবাড়ির ধরন ভিন্ন। এসব বাড়ির চতুর্দিকেই রাস্তা রয়েছে। ফলে জরুরি মুহূর্তে নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়া সম্ভব। জঙ্গি সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিজেদের পালানোর সহজ পথ থাকায় এ এলাকাকে তাদের নিরাপদ আস্তানা মনে করে থাকে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এর আগে ২০০৩ সালের ২৭ জুন রাতে বগুড়ার কাহালু উপজেলার যোগারপাড়া গ্রামে আওয়ামী কৃষক লীগ নেতা আখলাকুর রহমান পিন্টুর বাড়ি থেকে ট্রাকভর্তি রাইফেলের গুলি ও বিস্ফোরক উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে পিন্টু পলাতক রয়েছে।
এদিকে গতকাল প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এটিএম হাবিবুর রহমান জানান, র্যাব-১২ বগুড়া কোম্পানির কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মিরান হোসেন ও এএসপি আবু সাঈদ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের ঠনঠনিয়া জবানী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন দুলালের মেসে অভিযান চালিয়ে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সন্ধান পান। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ১৫ জঙ্গি পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও গ্রেফতার করা হয় ৩ জনকে। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শুক্রবার ভোর রাত পর্যন্ত এখান থেকে সাব-মেশিনগান, জার্মানির তৈরি একটি এলএমজি, আমেরিকার তৈরি একটি পিস্তল, একটি এমোনিশন ড্রাম, তিনটি ম্যাগাজিন, ৮০ রাউন্ড গুলি, ধারালো অস্ত্র, জেহাদি বই, কোন দেশে কি অস্ত্র পাওয়া যায়—তার একটি ক্যাটালগ ও জঙ্গি প্রশিক্ষণের শিডিউল উদ্ধার করা হয়। অভিযানে গ্রেফতার করা ব্যক্তিরা হলো—দিনাজপুরের ফিরোজ আলম (৩৫), ঢাকার কমলাপুরের মোহাম্মদ নাহিদ (২০) ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের বারহান শেখ বাবা (২০)। অভিযান চলাকালে র্যাবের এনডিএডি আলিম, করপোরাল মতিয়ার, জীবন ও এএসআই বিজিত আহত হন। এ ব্যাপারে সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। গ্রেফতার করা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে র্যাব নিশ্চিত হয়েছে জেএমবির লোকেরাই ‘বিইএম’ নামের নতুন এই জঙ্গি সংগঠন তৈরি করে দেশে তাদের তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

দেইখা লন বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল ও পত্রিকাগুলোর মালিক কারা

সত্যিকারের সাংবাদিকদের হাত থেকে বাংলাদেশে ব্যাবসায়ী / শিল্পপতিদের হাতে সর্বোপরি কর্পোরেট হাউজগুলির নিয়ন্ত্রণে মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার নিয়ন্ত্রন কিভাবে চলে গেছে বা যাচ্ছে নিচে তার কিছু উদাহরন দেয়া হলো। দু-একটি ব্যাতিক্রমও এখানে আছে। তবে কতদিন থাকবে তাই এখন দেখার বিষয়। তাই স্বাভাবিকভাবে শিল্পপতি/ব্যাবসায়ীদের ব্যাবসায়িক স্বার্থই যে অন্য যেকোন কিছুর চাইতে বেশী গুরুত্ব রাখবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। পাঠক / শ্রোতা / দর্শক অথবা দেশের স্বার্থ এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়।

পত্রিকার সম্পাদক বা টিভির বার্তা প্রধান এর সদিচ্ছাও মূখ্য নয় বরং ফাইন্যান্সার এর ইচ্ছাই মূখ্য। যারা এখনও কোন মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন নি তাদের চেষ্টা হলো একটা নিজের মিডিয়া প্রতিষ্ঠা । আর তা না হলে পুরোনো মিডিয়াগুলির মাঝ থেকে যেকোন একটির নিয়ন্ত্রণ নেয়া। আর একারনেই প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন নাটক পর্দার আড়ালে বা সামনে ঘটে চলেছে ।


প্রথমে আমরা এখানে টিভি চ্যানেলগুলোর মালিকানা দেখবো।  তারপর পত্রিকাগুলোর মালিকানা দেখবো ।

দেশে প্রায় ২২ টি টিভি চ্যানেল আছে । আসুন এক নজরে দেখে নিই এই সব টিভি চ্যানেলের মালিক কারা কারা । 

১। ইনডিপেনডেন্ট টিভি : মালিক আওয়ামী ব্যবসায়ী দেউলিয়া সালমান এফ রহমান । 

২। ৭১ টিভি : মালিক কট্টর আওয়ামী বাম সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও মেঘনা গ্রুপ। 

৩। দেশ টিভি : মালিক আওয়ামী সাবেক এম. পি সাবের চৌধরী কিন্তু চালাচ্ছেন আওয়ামী এম . পি আসাদুজ্জামান নুর । 

৪। বৈশাখী টিভি : মালিক আওয়ামীপন্থী ব্যাবসায়ী গ্রুপ ডেসটিনি । কিন্তু চালাচ্ছেন আওয়ামী - বাম সাংবাদিক নেতা মন্জুরুল আহসান বুলবুল । 

৫। গাজী টিভি : মালিক আওয়ামী এম.পি গাজী গাজী গোলাম দস্তগীর। 

৬। বাংলাভিশন : চালাচ্ছেন এক কালের বাম যুব নেতা মোস্তফা ফিরোজ । সব চাইতে বেশি শেয়ার সাবেক নগর পিতা বি এন পি এর সাদেক হোসেন খোকার ।

৭। চ্যানেল আই : মালিক ফরিদুর রেজা সাগর , বাম-আওয়ামী সাংকৃতিক কর্মী। 

৮ । এটি এন বাংলা : মালিক মাহফুজুর রহমান । আওয়ামী লীগের মানুষ । চালাচ্ছেন আওয়ামী বাম সাংবাদিক জ .ই . মামুন ।

৯। এটি এন নিউজ : চালাচ্ছেন আওয়ামী পন্থী মুন্নী সাহা । 

১০। মোহনা টিভি : মালিক আওয়ামী এম.পি কামাল মজুমদার।

১১। সময় টিভি : মালিক আইন প্রতিমন্ত্রী  কামরুল ইসলামের ভাই 

১২। চ্যানেল ২৪ : আওয়ামী লীগ নেতা ও হামিম গ্রুপের চেয়ারম্যান একে আজাদ। সাবেক আওয়ামী নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নার সব হুকুম চলে। 

১৩। এন টিভি : বি .এন পি এর ফালু সাহেবের । কিন্তু প্রফেশনাল হবার চেষ্টা করতাছে । কিন্তু সাংবাদিক গুলা আ. লীগ এর । 

১৪ । দিগন্ত টিভি : ভয়ে ভয়ে চলতাছে । কখন কি জানি হয় । মালিক জামাত নেতা মীর কাশেম

১৫ । ইসলামী টিভি : যেমন ছিল আছে । নো কমেন্ট । বি.এন.পি নেতা ও খালেদা জিয়ার ভাই সাঈদ ইস্কানদার।

১৬ । বিটিভি : মালিক যখন যে আসে সে । আমাগো টিভি, সরকারী টিভি ।

১৭। চ্যানেল ১ : এখন বন্ধ করা । কিন্তু মালিক ছিলেন বি.এন.পির নেতা মির্জা আব্বাস ও গিয়াসুদ্দিন মামুন । বন্ধ হবার কারন টা শুধু রাজনৈতিক । 

১৮। আর. টিভি : আওয়ামীপন্থী মালিক বেঙ্গল গ্রুপ । 

১৯। এস এ টি ভি ঃ এস আলম গ্রুপের । মালিক সাবেক আওয়ামী নেতা 

২০) চ্যানেল ৯ ঃ বিএনপি পন্থী এনায়েতুর রহমান বাপ্পি ও আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আশরাফের ভাবি ।

২১) ই টি ভি ঃ  একুশে টেলিভিশনের মূল উদ্যেক্তা ছিলেন ইটিভির সাবেক চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মাহমুদ। একুশে টেলিভিশনের ৭০ ভাগ মালিকানা টেলিভিশনটির বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুস সালামের। বাকী ৩০ ভাগের মালিকানা আগের ১৩ জন উদ্যোক্তাদের মধ্যে ৬ জনের ৫ ভাগ করে। তারা হচ্ছেন রউফ চৌধুরি (র‌্যাংগস গ্র“প), এমরান মাহমুদ (মেট্রোওয়েভ), অঞ্জন চৌধুরি (স্কায়ার), আব্দুস সালাম (সারাইটেক্স), লিয়কত হোসেন (এম এ এস স্কায়ার গ্র“প), তপন চৌধুরি, নাসির উদ্দিন আহমেদ চৌধুরি, আজম চৌধুরি, রুমি হোসেন, এ কে সালেক। 
মুলত অধিকাংশই আওয়ামীপন্থী ব্যাবসায়ী 

২২) মাছরাঙ্গা টিভি ঃ স্কয়ার গ্রুপের অঞ্জন চৌধুরী । যারা মুলত আওয়ামী ও বাম সমর্থক 

২৩) মাই টি ভি ঃ হাসিনার কাছের লোক নাসির উদ্দিন সাথী ।

২৪) যমুনা টি ভি ঃ যমুনা গ্রুপের নুরুল ইসলাম বাবুল । যিনি আওয়ামীলীগের নমিনেশন নেওয়ার চেষ্টায় আছেন ।

সাকার ছিল একটী চ্যানেল। নিউজের। সিএসবি নামের। কিন্তু ১/১১ এর সময় বিপ্লবী হতে গিয়ে সরকারের কোপানলে পড়ে বন্ধ হয়েছে।

১/১১ না হলে ফালু আরেকটী চ্যানেল আসত সেটার নাম হত "এন টিভি প্লাস" মেশিনারিজ ও নাকি এসে গিয়েছিল। ১/১১ এর ঝরে স্তগিত।

সালাহুদ্দিন ও নাসির উদ্দিন পিন্টূও অনুমতি পাইছিল এসএন টিভি নামে। ১/১১ এ শেষ। 





এবার দেখবো পত্রিকার মালিকানা ঃ 


১) বসুন্ধরা গ্রুপ  : আহমেদ আকবর সোবহান। যিনি একজন সুবিধাবাধী লোক । তবে বর্তমানে তার নিচের তালিকার মিডিয়া গুলো দিয়ে আওয়ামীলীগের এককভাবে দালালী করে যাচ্ছে
দৈনিক কালের কন্ঠ
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
The Daily Sun
banglanews24.com

 ২) ট্রান্সকম গ্রুপ: লতিফুর রহমান । যিনি ও একজন আওয়ামী ও বাম ঘরনার ব্যাক্তি। তার মালিকানায় আছে .........
দৈনিক প্রথম আলো
The Daily Star
ABC Radio

৩) হা-মীম গ্রুপ: এ.কে.আজাদ। ফরিদপুর থেকে আওয়ামী এম্পি প্রার্থী । তার মালিকানায় হোলো
দৈনিক সমকাল

৪) র‌্যাংগস গ্রুপ: রউফ চৌধুরী আওয়ামী পন্থী ব্যাবসায়ীর
দৈনিক সকালের খবর

৫) ইউনিক গ্রুপ: নুর আলী। আরও আছে পিএইচপি গ্রুপ
দৈনিক আমাদের সময়

৬) শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সাল মান এফ রহমানের
বেক্সিমকো গ্রুপ:
The Daily Independent

bdnews24.com
দৈনিক মুক্তকন্ঠ (অধুনালুপ্ত)


৭) গ্লোব-জনকন্ঠ গ্রুপ: আতিকুল্লাহ খান মাসুদ । যিনি আওয়ামীলীগের কাছের লোক এবং এম্পি পদপ্রার্থী । তার মালিকানায় দৈনিক দৈনিক জনকন্ঠ

৮) ডেসটিনি গ্রুপ: সেক্টর কমান্ডার দুর্নীতিবাজ আওয়ামী নেতা হারুনুর রশিদের মালিকানায় আছে
দৈনিক ডেসটিনি
দৈনিক অপরাধকন্ঠ


৯) এইসআরসি গ্রুপ: সাইদ হোসেন চৌধুরী। যিনি আওয়ামী নেতা সাবের হোসেন চৌধুরীর ভাই । তার মালিকানায় দৈনিক যায়যায়দিন

১০) কর্ণফুলী গ্রুপ: বিসিবির সাবেক সভাপতি আওয়ামীলীগ নেতা সাবের হোসনে চৌধুরর মালিকানায় আছে .........
দৈনিক ভোরের কাগজ
দৈনিক দিনের শেষে



১১) দিগন্ত মিডিয়াঃ জামায়াতপন্থী ব্যাবসায়ীদের মালিকানায় একটি গ্রুপের মালিকানায় আছে 
দৈনিক নয়াদিগন্ত

১২) দৈনিক সংগ্রাম ঃ জামায়াতে ইসলামের মুখপাত্

১৩) যমুনা গ্রুপ: / আওয়ামী সমর্থিত ব্যাবসায়ী নুরুল ইসলাম বাবুলের
দৈনিক যুগান্তর

১৪)ইত্তেফাক গ্রুপ: আনোয়ার হোসেন মন্জু। তিনি শেখ মুজিবের বন্ধু তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ছেলে । তার প্রকাশনায় আছে
দৈনিক ইত্তেফাক
সাপ্তাহিক রোববার
The New Nation


১৫) আওয়ামী লীগ নেতা আহমেদুল কবীরের
দৈনিক সংবাদ


১৬) এ.এস.এম. বাহাউদ্দিন। যিনি মাওলানা মান্নানের ছেলে ছিলেন । এক সময় বিএনপিপন্থী ছিলেন । এখন আওয়ামীলীগের সমর্থক হিসাবে কাজ করতেছেন । তার প্রকাশনার ইনকিলাবের অধিকাংশ মালিকানা শেয়ারবাজার লুণ্ঠনকারী আওয়ামী এম্পি লোটাস কামাল কিনে নেন ।
দৈনিক ইনকিলাব
সাপ্তাহিক পূণিঁমা


১৭) ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী। একসময় বিএনপির নেতা ছিলেন । পরে বিএনপি ছেড়ে নিজেই দল করেন । তার মালিকানায় আছে
দৈনিক দেশবাংলা

১৮) মতিউর রহমান চৌধুরীঃ ডানপন্থী বলা হয় । তার মালিকানায় আছে
দৈনিক মানবজমিন

১৯) সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমানের মালিকানায় আছে
দৈনিক আমার দেশ


এই হল আমাদের দেশের অধিকাংশ মিডিয়ার মালিকানার হালছাল ।


পোস্ট রেফারেন্স ঃ

 http://www.somewhereinblog.net/blog/mztanim/29790893 

http://www.somewhereinblog.net/blog/pressclub/29139473