Friday, 15 March 2013

আসুন দেখি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন ও তান্ডব চালায় কারা




গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশের মিডিয়াগুলো জামায়াত শিবিরের আন্দোলন নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি করছে .দেখাচ্ছে হলুদ সাংবাদিকতার নির্লজ্ব নমুনা,বলা হচ্ছে গত ২৮ তারিখে জামায়াত শিবির সংখ্যালঘুদের উপর হামলা করেছে . কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় বাংলাদেশে জামায়াত শিবিরের বিপক্ষে সবগুলো টিভি চ্যানেল , যাদের অসংখ্য ক্যামেরা , কিন্তু কেউ একটি লাইভ ছবি বা ভিডিও দেখাতে পারেনি।

গতকয়েক দিন ধরে আমাদের মিডিয়াগুলো বিভিন্ন কিচ্ছা কাহিনী লিখে জামায়াত শিবির সংখ্যালঘুদের উপর হামলা করেছে বলে এক মহানাটক সৃষ্টি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত .

এই অপচেষ্টায় বাদ যায়নি শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের সমর্থক কিছু ফেসবুক পেইজ ও ..যারা ইন্ডিয়ায় ভাঙ্গা বৈদ্বদের মন্দির ভাংচুরের ঘটনায় বাংলাদেশে জামায়াত শিবিরের কাজ বলে ফেসবুকে তথ্য সন্ত্রাস চালিয়েছে ..ছবিটি হলো



কিন্তু ছবিটির আসল খবর হলো ইন্ডিয়াতে Buddha Statues Vandalized 

একই ভাবে রোহিঙ্গা শিশুর বিকৃত লাশের ছবি দিয়ে জামায়াত শিবিরের কাজ বলে চালিয়েছিল শাহবাগের আন্দোলনকারীরা

ছবিটি খুবই বিভত্স তাই এই লিংকে গিয়ে পেইজের নিচের দিকে দেখুন 

..যেখানে বলা হয়েছে বৈদ্বদের দ্বারা নিহত রোহিঙ্গা মুসলিম শিশুর লাশ ..

এই হলো আমাদের দেশের মিডিয়ার পাশাপাশি সোশাল মিডিয়াগুলোতে জামায়াত শিবিরের বিরুদ্বে তথ্য সন্ত্রাসের নমুনা ..

কিন্তু এই মিডিয়াগুলো যে এলাকায় জামায়াত শিবিরকে দোষী করার চেষ্টায় লিপ্ত সেই একটি এলাকা হলো বাশখালী .বাশখালীর ঘটনায় যেখানে সব পত্রিকা জামায়াত শিবিরের নামে মিথ্যা খবর প্রকাশ করছে সেখানে আমারদেশ পত্রিকা গতকাল বোম ফাটিয়েছে বাঁশখালীতে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলায় নেতৃত্ব দেয় আ.লীগের বিদ্রোহী গ্রুপ : পুলিশের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক, মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে টাকা কামাচ্ছে সরকারদলীয়রাএই শিরোনামে রিপোর্ট করে ..

খবরে বলা হয় চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে গত সপ্তাহে বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর পুলিশের গুলির পর আওয়ামী লীগ নেতাদের উস্কানি ও অংশগ্রহণে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মন্দিরে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করা হয়। আর এই নাশকতার জন্য পরিকল্পিতভাবে বেছে নেয়া হয় বাঁশখালীর দরিদ্র সংখ্যালঘু পরিবার ও তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে।



আজকে আবার নয়াদিগন্ত পত্রিকার ফেসবুক পেইজে আওয়ামী লীগের নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে সংখ্যালঘুরা থানায় : চাঁদা দাবি, বৌ ঝিকে উঠিয়ে নেয়ার হুমকি শিরোনামে খবর প্রকাশ করে

এতে বলা হয় টাঙ্গাইলের গোপালপুর পৌরসভার চন্দবাড়ি গ্রামের সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের হাতে এখন জিম্মি। সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে নানা অত্যাচার-নির্যাতনের পর এখন তাদের গ্রামছাড়া করার পাঁয়তারা করছে। সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যরা গতকাল সন্ধ্যায় দলবেধে থানায় হাজির হয়ে জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে লিখিত অভিযোগ করে।

লিখিত পিটিশনে গ্রামের সংখ্যালঘু নেতা রংলাল চন্দ্র পাল অভিযোগ করেন, পার্শ্ববর্তী হাটবৈরাণ গ্রামের মৃত হাবিবের ছেলে ফারুখ, মৃত আছর আলীর ছেলে মনির এবং চন্দবাড়ী গ্রামের মৃত ইবরাহিমের ছেলে লতিফ এবং ফজর আলীর শরীফ সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা আদায় করে আসছে। চাঁদা না দেয়ায় এরআগে তারা বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে কয়েক দফা ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। বেশকজনকে মারপিটও করে

এদিকে আজকের নিউএজ পত্রিকায আওয়ামীলীগ নেতা দ্বারা হিন্দু মহিলা ধর্ষণ নিয়ে রিপোর্ট করে Woman, raped and threatened, goes into hiding শিরোনামে খবর প্রকাশ করে . এতে বলা হয়

Mahfuzur, also convener of the Kachua unit Awami League, is reported to have raped the woman in her house at night on December 19 at Charkati in the upazila. Her husband, who owns a pharmacy, was not at home at the time.

Local people alleged that Mahfuzur had threatened lives of her and her husband if they did not leave the country. 
The woman, along with her husband and a minor son, went into hiding early December 21.

Muktijoddha Sangsad and Puja Udjapan Parishad of the district went on demonstrations, rallying for the removal of Mahfuzur as upazila chairman and his early arrest.


এদিকে লাকসামে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা হিন্দুদের মেরে বর্ষপূর্তি পালন করেছে .

বিস্তারিত খবরে জানা যায় স্থানীয় হিন্দুদের ১৯২০ সাল থেকে ভোগ দখল করে আসা জমির উপর কুদৃষ্টি পড়ে স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতার। ২০০৯ সাল(আওয়ামী লীগের ক্ষমতা লাভের বছর) থেকে চলা মামলায় আদালতে টিকতে না পেরে ২০১১ সালে এসে ঘর বাড়ী ভাংচুর, বিশ বছরের ছেলে থেকে ৯০ বছরের বৃদ্ধা সবাইকে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়। আড়াই ঘন্টা ধরে চলা এ তান্ডবে প্রায় অর্ধশতাধিক আওয়ামী ক্যাডার অংশ নেয় 

দেখে নিন লাকসামে আওয়ামী তান্ডবের কিছু চিত্র 







এদিকে সাতক্ষীরাতে ও তান্ডব চালাচ্ছে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা সংখ্যালঘু নির্যাতনে ভাংছে দেশের সব রেকর্ড 

ক্ষমতাসীনদের হাতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়। তাদের জায়গাজমি দখল করে নিচ্ছে সরকারদলীয় নামধারী কিছু সন্ত্রাসী। পেট্রল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে কয়েকজনকে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কাছে নালিশ জানিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। 



পিরোজপুরে ও সরকারী বাহিনী চালাচ্ছে নজিরবিহীন সন্ত্রাস
 .. পিরোজপুরের হিন্দুরা দলমত নির্বিশেষে গণস্বাক্ষর দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের অত্যাচারের প্রতিকারের আবেদন জানিয়েছেন। চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলন করার অপরাধে সরকারদলীয় লোকজন অমরেন্দ্র মল্লিকের পরিবারের সদস্যদের নামে চুরি ও মারপিটের মিথ্যা মামলা দেন। পরে তার বাড়িতে হানা দিয়ে সবাইকে বেদম পেটান। অমরেন্দ্র মল্লিককে স্ত্রী-পুত্র-কন্যার সামনে উলঙ্গ করে মারধর করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। 

এদিকে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতা সি আর দত্ত বীরউত্তম এ ব্যাপারে সোমবার এ প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনা সত্য। এগুলো আমি অবহিত হয়েছি। আমরা এর বিরুদ্ধে কাজ শুরু করব। আওয়ামী লীগকে এর মধ্যেই আমরা জানিয়েছি। আমার কথা হলো – সবার বোঝা উচিত সংখ্যালঘু হিসেবে হিন্দুদের ওপর যে হামলা-নির্যাতন হচ্ছে তা দেশের মানুষ পছন্দ করে না


তিন এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ : হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা সংখ্যালঘু নির্যাতনের জন্য সরকারি দলের তিনজন এমপিকে সরাসরি দায়ী করেছেন। তারা বলছেন, এদের প্রশ্রয়েই তাদের অনুসারীরা সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করেছেন। 

এখন দেখবেন সারাদেশে আওয়ামীলীগের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যালঘু নির্যাতনের চিত্র 



১) ৫ মার্চ নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের তিনটি সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা।
 

২)গত বছরের ২২ আগস্ট রাজধানীর সূত্রাপুরের ৯৫ ঋষিকেশ দাস লেনে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা এক হিন্দু পরিবারের বাড়ি দখল করতে তাদের নয়জনকে মারধর, লুটপাট এমনকি পরে তাদের অপহরণ করে। 

৩) ২ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দাবিতে মানববন্ধন করে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। সংখ্যালঘুরা তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। 

৪)২০ এপ্রিল কেরানীগঞ্জে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সম্পত্তি দখল করতে গিয়ে অজিত করাতি ওরফে ক্ষীরমোহনকে (৫৫) পিটিয়ে হত্যা করে। এ সময় চারটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটও করা হয়। অজিত করাতিকে পিটিয়ে হত্যার ভিডিও ফুটেজ ক্যামেরায় ধারণ করায় পুলিশ সাংবাদিকদের লাঞ্ছিতও করে। 

৫) গত বছর ২২ ডিসেম্বর রাতে সিংড়ার তাজপুর গ্রামে দেবোত্তর সম্পত্তি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে বাড়িতে ও খড়ের পালায় দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করে। এতে রাজবিহারী ঘোষ নামে একজন বৃদ্ধ দগ্ধ হন। দুই দিন পর তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। ঐক্য পরিষদের নেতা অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্ত অভিযোগ করেছেন, আমি ওই গ্রামে তদন্ত করতে যাই। পরে দেখি ৯০ একর জমি নিয়েই এ বিরোধের সূত্রপাত। পরিস্থিতি অনুযায়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদেরই স্থানীয় সংখ্যালঘুরা দায়ী করেছেন।

৬)গত বছরের ২৫ জুলাই নরসিংদীর পলাশের চরসিন্দুর গ্রামে শ্মশানের জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘুদের চারটি বাড়িঘর ও মূর্তি ভাঙচুর এবং তাদের বাড়িতে লুটপাট করা হয়।

৭)১১ জুলাই দোহারের নারিশা পূর্বচর গ্রামে সংখ্যালঘু নৃপেন মালাকারের জমিতে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দখল করা হয়।

৮)২২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বড়মাছুয়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের সিকদারবাড়িসহ চার সংখ্যালঘু পরিবারের পানের বরজ ও খড়ের গাদায় আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

পরিষদ নেতারা অভিযোগ করেন, বরিশালের অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনের মন্দিরে গত কোরবানির সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা গরু ঝুলিয়ে কোরবানি দিয়েছেন। 

৯)চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের এমপির পুত্র বনবিভাগের গাছ কেটে জায়গা দখল করেই ক্ষান্ত হননি, তিনি জমিসংলগ্ন জেলেপাড়ার ৭০-৮০টি সংখ্যালঘু পরিবারের চলার পথ বন্ধ করে দেন। 

১০)যেভাবে সপরিবারে নির্যাতিত হলেন অমরেন্দ্র: নির্যাতনের শিকার অমরেন্দ্র মল্লিক খোড়াতে খোড়াতে নিউ এজ অফিসে এসেছিলেন। তার এক হাত ভেংগে গেছে। শরীরে নির্যাতনের অসংখ্য চিহ্ন। 

গত ৫ মে দুপুর আড়াইটায় কিছু আওয়ামী লীগ নেতা কর্মী আমার বাড়িতে যান। তারা গিয়েই আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পড়–য়া পুত্র শিমুল মল্লিককে বেধড়ক মারধর শুরু করে। আমি খবর পেয়ে বাড়ি যাই। আমাকে সামনে পেয়ে আমার ওপরেও চড়াও হয়। 

আমরা দ্রুত ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ার চেষ্টা করি। কিন্তু তারা দড়জা লাগানোর সময় দেয়নি। ঘড়ের ভেতর ঢুকে আমাকে ও আমার পুত্রকে মেঝেতে ফেলে দিয়ে মারধর করতে থাকে। আমাকে পরিবারের সামনেই উলংগ করে ফেলে পেটাতে থাকে। পরে আমাকে দড়ি দিয়ে পিছমোড়া বেঁধে কিল ঘুষি মারতে মারতে টেনে বাইরে নিয়ে যায়। 



নির্যাতনের শিকার অমরেন্দ্র

১১)২২ অক্টোবর আওয়ামী লীগ নামধারী একদল সন্ত্রাসী বন্দুক উঁচিয়ে কাফরুল থানার পুলিশের সামনেই ক্যাথলিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্য রীতা গমেজের বাড়ির অধিকাংশ জমি জবর-দখল করে। রীতা গমেজের পরিবার থেকে পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ করতে গেলে তা নেওয়া হয়নি। রীতা গমেজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে জানান, তিনিও আওয়ামী লীগের কর্মী। গত নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করেছেন। অথচ এখন আওয়ামী লীগের পরিচিত লোকজনই পুলিশ-প্রশাসনের সহায়তায় ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের পৈতৃক ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় উপস্থিত আওয়ামী লীগ কর্মীরা

এ সময় রীতা গমেজের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন এবং হুমকি দেন, তারা তাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করবেনই। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার দলের লোকজনকে নিবৃত্ত না করে উল্টো বলেন, বাংলাদেশে জমিজিরাত দখলের ঘটনা ঘটছে, তাকে সংখ্যালঘু নির্যাতনের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে কেন?


১২) বর্তমান সরকারের আমলে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা থেকে ২৫টি সংখ্যালঘু পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ কর্মীরা সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর জবর-দখল করছেন।

১৩) ১৫ মে রাতের আধাঁরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা ও তার সহযোগীরা উপজেলার পানপুঞ্জির খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কবরস্থান দখল করে ক্রুশ গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। 

১৪)আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন তারা। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের জায়গাজমি দখল করে নিচ্ছে সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা। নির্যাতিতরা অভিযোগ দিতেও ভয় পাচ্ছেন।

১৫) ২০০৯ সালের মে মাসে সাতক্ষীরার আবাদের হাটের ঘোষাল পরিবারের ৩৮ বিঘা জমি দখল করে নেয় যুবলীগের এক ক্যাডার ও তার সহযোগীরা। এ নিয়ে গণমাধ্যমে লেখালেখি শুরু হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ঘোষাল পরিবার আইন আদালতের আশ্রয় নেয়। 

১৬)২০০৯ সালের ৩১ মার্চ দেবহাটার কালাবাড়িয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ ঘোষের মালিকানাধীন ৩০০ বিঘার ঘের দখল করে নেয় ভূমিহীন আওয়ামী লীগ নামধারী সন্ত্রাসীরা। সুভাষ ঘোষ জানান, ১৯৭৯ সালে তার বাবা ওই জমি সরকারের কাছ থেকে নিলামে কেনেন। দখলে বাধা দিলে তার স্বজনদের পিটিয়ে আহত করা হয় । 

১৭)এদিকে গত মে মাসের ১৪ তারিখে কালিগঞ্জের উজয়মারিতে ২২টি সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখল করে নেন আওয়ামী লীগের আরেক কর্মী। এরপরই ওই জমিতে ইটভাটা তৈরির কাজ শুরু করেন তিনি। এতে বাধা দিতে গিয়ে জমির মালিক রমেশ মন্ডলসহ আহত হন তিনজন 

১৮) এদিকে আরেক আওয়ামী লীগ নেতা শ্যামনগরের গোপালপুরের সুরেশ মন্ডলের দুই বিঘা জমি জোর করে দখল করে নিয়েছেন। তিনি সুরেশ মন্ডলের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা ও ফেনী আদালতে একাধিক মিথ্যা মামলাও করেছেন। 

১৯)রাজধানীর সূত্রাপুরে দুই আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী দুইশ’ বছরের প্রাচীন একটি মন্দিরে হামলা চালিয়ে ৫টি প্রতিমা ভেঙে চুরমার কর 

২০)লালমনিরহাটের সদর উপজেলার ভোলার চওড়া নামক গ্রামে গভীর রাতে ক্ষমতাসীনরা সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের (হিন্দুর ) মহাদেব ও কালীমায়ের মন্দিরে প্রবেশ করে প্রায় ভরি খানেক স্বর্ণালঙ্কার লুট করা ছাড়াও ভেঙ্গে দিয়েছে মহাদেব ঠাকুরের মূর্তি 

ঠিক গত ২৮ তারিখে মাওলানা সাইদীর রায়ের পর একই ঘটনা ঘটেছে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ও ঘটেছে . আওয়ামীলীগের লোকজন হিন্দু বাড়ি ও মন্দির ভেঙ্গে জামায়াত শিবির কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে এবং চাদা আদায়ে বাধ্য করছে ..চাদা না দিলে জামায়াত শিবিরের কর্মীদের পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করানোর ও ভয় দেখানো হচ্ছে .. 

রামুতে বৈদ্ব মন্দিরে ও হামলা করেছিল 

আ.লীগ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাই ..যেটা নিয়ে সারা বিশ্বে হুলুস্থুল কান্ড ঘটেছিলো 



বিস্তারিত খবরে জানা যায় ,মত্স্যজীবী লীগের নেতা ভূট্টো বিতর্কিত ছবিটি কেন সে ফেসবুকে শেয়ার করেছে জানতে চাইলে উত্তম বড়ুয়া উল্টো তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে আনছারুল হক ভূট্টো ‘তুমি দাঁড়াও, আমি আসছি’ বলে মোবাইল রেখে দেন। 

সূত্রগুলোর মতে, মোবাইল রাখার পরপরই মত্স্যজীবী লীগ নেতা আনছারুল হক ভূট্টো তার দলীয় ছেলেদের খবর দেন। পরে রাত ১০টার দিকে প্রথম মিছিলটি বের করেন তিনিই। ওই মিছিল থেকে বিতর্কিত ছবি ট্যাগকারী উত্তম বড়ুয়ার শাস্তি দাবি করা হয়। ওই মিছিলে আনছারুল হক ভূট্টো ছাড়া জেলা ছাত্রলীগ সদস্য সাদ্দাম হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন সভাপতি আজিজুল হক, যুবলীগ নেতা সাব্বিরের ভাই হাফেজ মোহাম্মদসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাই ছিলেন। 

যেখানে আমাদের মিডিয়াগুলো বলছে জামায়াত শিবির মন্দিরে হামলা করছে সেখানে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে – দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা আওয়ামী লীগেরই নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। বর্তমানে তাদেরকে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া ভাংচুরসহ ভিটেমাটি থেকে ও উচ্ছেদ করছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা । দিন দিন এটা বেড়েই চলেছে। সভ্য গণতান্ত্রিক সমাজে সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান আইনি সুবিধা ও নিরাপত্তা পাওয়ার কথা। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের লোকদের দ্বারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা যে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তাতে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক, আমরা কোন গণতান্ত্রিক সমাজে বাস করছি।

তথ্য সূত্র ...

ব্লগার হাসান ভাই 

**সারাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে আ’লীগ কর্মীরা- আমার দেশ 

*মানবাধিকার সংস্থা অধিকার

** ক্ষমতাসীনদের হাতে সংখ্যালঘু নির্যাতন - সাপ্তাহিক বুধবার