Sunday, 29 December 2013

প্রেসক্লাবে হামলাকারীদের পক্ষেই ইকবাল সোবহান

ঢাকা: জাতীয় প্রেসক্লাবের ১৮ দলপন্থি সাংবাদিকদের ওপর হামলার চেষ্টাকারী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পক্ষে সাফাই গাইলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ও সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

যে পক্ষই হামলা করুক, এটা একটা নিন্দনীয় কাজ- এ ধরনের কোনো কথা বলেননি তিনি। বরং ‘একপক্ষ উসকানি দিলে আরেক পক্ষ হামলা করতেই পারে’ এ ধরনের মন্তব্য করেছেন।

রোববার ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচির পক্ষে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ চলাকালে হামলা করে আওয়ামী লীগ কর্মীরা। এসময় পুলিশকে নীরব দর্শকের ভূমিকায় দেখা যায়।


দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর কিছুক্ষণ পর বেলা সাড়ে ১২টার সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ক্লাবের মধ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করলে দেশের কাছে জাতির কাছে এ ক্লাবের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। ক্লাবকে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু করা হলে এর বিপরীতে যারা আছে তারা ক্ষিপ্ত হতেই পারে। ক্লাবের ভেতর থেকে কোনো উত্তেজনাকর বক্তব্য দিলে ওই বক্তব্য যদি বিপরীত পক্ষের বিরুদ্ধে যায় তাহলে স্বাভাবিকভাবে তারা এখানে এসে আঘাত হানার বা প্রতিবাদ জানানোর সুযোগ পেতে পারে বা এ ধরনের সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়, তা আমাদের কাছে কোনোভাবে কাম্য নয়। আমরা তাই বলতে চাই, ক্লাবের ভেতর থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচি করে কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি করা যাবে না।’
ইকবাল সোবহাব বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় প্রেসক্লাবে সমাবেশ করার অপপ্রয়াস চলছিল। প্রেসক্লাবে মঞ্চ বানিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান বা বক্তব্য দেয়া কোনো সাংবাদিকদের ভাষা নয়। প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা ও মদদদে বহিরাগতরা এটা করেছে।’

তিনি বলেন, প্রেসক্লাব কতৃপক্ষের মদদদে বিএনপি-জামায়াত গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে তাদের রাজনৈতিক কর্মষূচি পালন করে আসছে। যা প্রেসক্লাবকে বির্তকিত করেছে এবং রাজনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করেছে। ফলে সাংবাদিকরা বহিরাগতদের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।’

তিনি প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষকে হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ যদি বহিরাগতদের প্রেসক্লাব থেকে বের করে না দেয় তবে আমরাও এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেবো।’ এছাড়া আগামীকাল সোমবার বেলা ১১টায় প্রতিবাদ সমাবেশেরও ঘোষণা দেন তিনি।

হামলাকারীদের পরিচয়ের ব্যাপারে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি এড়িয়ে যান এবং এ ব্যাপারে কোনো নিন্দা বা ক্ষোভ প্রকাশ করেননি।

উল্লেখ্য, বেলা ১টা পর্যন্ত থেমে থেমে প্রেসক্লাবের ভেতরে ইট পাটকেল ছুড়ছে আওয়ামী লীগ কর্মীরা।