Monday, 23 December 2013

মিতব্যয়ী' রাষ্ট্রপতি হামিদের জন্য অমিত অপচয়

'মিতব্যয়ী' রাষ্ট্রপতির জন্য অমিত অপচয়
রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও তার সফরসঙ্গীদের জন্য রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৪১৯ আসনের একটি উড়োজাহাজ দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ বিমানবন্দরে চারদিন বসিয়ে রাখা হয়েছিল। উড়োজাহাজটি হ্যাংগারে বসিয়ে রাখলেও পরিচালন ব্যয় করতে হয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা। এর বাইরে রয়েছে ক্রু’দের খরচ, জ্বালানী খরচ ও পরিচালনা খরচ।
বিমান এই বাড়তি খরচ সরকারের কাছ থেকেই আদায় করবে বলে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেভিন স্টিল পরিবর্তনকে জানিয়েছেন।

কিছুদিন আগে রাষ্ট্রপতি চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে গিয়ে রাষ্ট্রের খরচ কমানোর জন্য বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেন। কিন্তু গত ৯ থেকে ১২ ডিসেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সময়ের এ ঘটনা অনেককে হতাশ করেছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ''রাষ্ট্রপতির তো ক্ষমতা নেই, কাজ নেই। রাষ্ট্রের টাকা খরচ করে ঘুরে বেড়াবেন, চিকিৎসা করাবেন-এই হচ্ছে তার কাজ।''
বিমান সূত্রে জানা যায়, মূলত প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিকে খুশি করতে তাদের বিদেশ সফরের সময় বিমানের উড়োজাহাজ চার্টার্ড করে দেন বিমানের কিছু সুবিধাভোগী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। আর এর ফলে বিমানকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।
নেলসন মেন্ডেলার শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ৯ ডিসেম্বর বিকেল ৪টায় দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যান রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। গত বৃহস্পতিবার তিনি দেশে ফেরেন। রাষ্ট্রপতির এ সফরে ব্যবহৃত হয় বিমানের বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর মডেলের একটি উড়োজাহাজ। রাষ্ট্রপতির সাথে তার প্রটোকলসহ ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলও ছিল। উড়োজাহাজটি শুধু তাদের যাতায়াতের জন্য নির্ধারিত (চার্টার্ড) করা হয়।
বিমানের দায়িত্বশীল কয়েকটি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী উড়োজাহাজটি ৯ তারিখ বিকেল ৪টা থেকে চাটার্ড করা হয় এবং এটি ১২ তারিখ সকাল ১১টায় দেশে ফেরত আসে।
বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর উড়োজাহাজটি রাষ্ট্রপতি দেশে না ফেরা পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় বসিয়ে রাখা হয়। বসিয়ে রাখলে এটির খরচ হয় এভিয়েশন আন্তর্জাতিক মূল্যনীতি অনুসারে প্রতি ঘণ্টায় (ব্লগ আওয়ার) ইজারা মূল্য হয় ১২ হাজার ডলার বা প্রায় ৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। এ হিসেবে খরচ হয়েছে ১০ লাখ ৯২ হাজার ডলার বা ৮ কোটি ৪৯ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।
বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, ৪১৯ আসন বিশিষ্ট বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর উড়োজাহাজ কেন চার্টার্ড করা হলো?
এ বিষয়ে বিমানের এমডি কেভিন স্টিল পরিবর্তনকে বলেন, “মাননীয় রাষ্ট্রপতির এ সফরের কারণে বিমানে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। দুই হাজার যাত্রী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কিন্তু যেহেতু এটা রাষ্ট্রীয় একটি সংস্থা তাই সরকারকে প্রধান্য দেয়া আমাদের কর্তব্য। বিশেষ করে নেলসন মেন্ডেলার শেষকৃত্যের মতো অনুষ্ঠানের ব্যাপারে।”
তিনি বলেন, “এর ফলে লন্ডনে আমাদের শিডিউল ফ্লাইট পরিচালনায় করতে ২৪ ঘন্টা বিলম্ব হয়েছে এবং আরো কিছু রুটেও ফ্লাইট পরিচালনায় বেগ পেতে হয়েছে।”
বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরো বলেন, “বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর ফ্লাইটের শিডিউল ঠিক রাখতে আমাদের আরেকটি উড়োজাহাজ চার্টার্ড করতে হয়েছে। সেটি দিয়ে জেদ্দায় ৩টি ফ্লাইট এবং রিয়াদে একটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে।”
কেভিন স্টিল বলেন,  “নতুনভাবে চার্টার্ড করা উড়োজাহাজের খরচ সরকারের কাছ থেকে নেয়া হবে। ফলে বিমান আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।”