Thursday, 12 December 2013

কাদের মোল্লার স্ত্রীর আক্ষেপ...


নাসির আহমাদ রাসেল, ঢকা : জনপ্রিয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি’র কাছে যেভাবে কাউকে না বলা কথা চিরকুটে লিখে গেছেন আব্দুল কাদের মোল্লা। ঠিক তেমনি না বলা কথা রয়েছে তার স্ত্রী সানোয়ারা জাহানেরও।কাশিমপুর কারাগারে  গোলাম মাওলা রনির উদ্দেশ্যে  চিরকুট বার্তায় আব্দুল কাদের মোল্লা  লিখেছিলেন, “প্রিয় রনি, যদি কখনও সময় পাও এবং তোমার ইচ্ছা হয় তবে আমার ফাঁসির পর একবার হলেও বলো বা লিখো- কাদের  মোল্লা আর কসাই কাদের এক ব্যক্তি নয়। আমার আত্মা কিয়ামত পর্যন্ত কাঁদবে আর কসাই কাদের তখন কিয়ামত পর্যন্ত অট্টহাসি দিবে।”


৮ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আব্দুল কাদের মোল্লার মৃত্যু পরোয়ানা জারির করে । এর প্রতিক্রিয়ায় ৯ ডিসেম্বর, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কাদের মোল্লার স্ত্রী। তিনি বলেন, “কথিত মোমেনা বেগমের অনির্ভরযোগ্য, অসমর্থিত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তাকে( কাদের মোল্লা কে) ভয়ংকর খুনি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অথচ সেই মোমেনা বেগমও আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসেনি। ক্যামেরা ট্রায়ালের নামে গোপন বিচারে ভূয়া একজন মহিলাকে মোমেনা সাজিয়ে আদালতে বক্তব্য দেওয়ানো হয়েছে। কিন্তু জল্লাদ খানায় সংরক্ষিত প্রকৃত মোমেনা বেগমের ছবি দেখে আইনজীবীরা নিশ্চিত করেছেন আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া মোমেনা বেগম প্রকৃত মোমেনা ছিলেন না প্রকৃত মোমেনা বেগমের ছবি আমাদের কাছে আছে। এছাড়া মোমেনা বেগম তদন্ত কর্মকর্তাদের দেয়া তার প্রথম জবানবন্দিতেও কাদের মোল্লার নাম বলেননি। ” কথা বলতে বলতে অশ্রুসিক্ত হয়ে যায় কদের মোল্লার স্ত্রী দুই চোখ।  টেলিভিশন সাংবাদিকরা চলে যাচ্ছিলেন। সানোয়ারা বেগমকে ঘিরে ধরলেন ফটো সাংবাদিকরা। ক্লিক ক্লিক শব্দে শত আলোর ঝিলিক। চশমা খুলে চোখ মুছতে মুছতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেন তিনি।

আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম ঠিক তার পেছন বরাবর। তিনি আক্ষেপ করে বললেন, “আক্ষেপ; কি বলব। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের এ হাতেই রুটি খাইয়েছিলাম । আমার মা রুটি বানিয়ে দিতেন আর আমি বাটি ভরে তাদেরকে পাঠাতাম। আর আজ ...............।” বলতে বলতেই প্রায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়লেন সানোয়ারা জাহান।ডুকরে কেঁদে উঠলেন আবারো।
http://www.sheershanews.com/2013/12/13/17038