Monday, 23 December 2013

মহাজোটের 'গাড়িখেকো' মন্ত্রী-এমপিরা

23 Dec, 2013
মহাজোট সরকারের পাঁচ বছরে সংসদ সদস্যদের উপার্জন শুধু ফুলেফেঁপেই ওঠেনি, শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি আর কর ফাঁকির নতুন রেকর্ডও গড়েছেন তারা। অষ্টম সংসদের রেকর্ড ছাড়িয়ে নবম জাতীয় সংসদের এমপি ও মন্ত্রীরা শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি করেছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক।এ সরকারের আমলে গত অক্টোবর পর্যন্ত ৩৫০ সংসদ সদস্যের মধ্যে বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি করেছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৩৩৯ জন। চড়া দামের বিলাসবহুল এই গাড়িগুলোকে শুল্ক থেকে 'মুক্তি' দেয়া হয়েছে ২ থেকে ৪ কোটি টাকা করে। ফলে সরকার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে এ সময়ে।

নিজেরা ব্যবহারকরার নাম করে এনে গাড়ি বিক্রি করে দিয়েছেন অনেকেই। এ কারণে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এমপিদের 'গাড়িখেকো' আখ্যা দিয়েছেন।

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে ঐকমত্য না থাকলেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আনার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে আছে দারুণ সমঝোতা! নবম জাতীয় সংসদ শেষ হওয়ার দিনকয়েক আগে গাড়ি আমদানির ব্যাপারে আইন সংশোধন হলেও নীরব আছেন বিরোধী দলের এমপিরা।

এমপিদের শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আনার সুযোগ দিয়ে ২০১০ সালের ২৯ জুন ১১টি শর্ত যুক্ত করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি পরিপত্র (নং-২৩৮) জারি করে। শর্তের কারণে উপনির্বাচনে বিজয়ী এমপিদের গাড়ি আনার ক্ষেত্রে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছিল। কারণ এ পরিপত্রে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর ন্যূনতম দুই বছর সংসদের মেয়াদ থাকার বাধ্যবাধকতা ছিল। এবার পাল্টে ফেলা হয়েছে এনবিআরের সেই আইন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর এনবিআর জারি করে নতুন একটি এসআরও। এই এসআরও অনুযায়ী এখন একদিনের সংসদ সদস্যও আনতে পারবেন শুল্কমুক্ত সুবিধার গাড়ি!

১৯৮৮ সালের সংসদ সদস্যদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা দেওয়ার পর এ পর্যন্ত সুবিধার অধীনে প্রায় দেড় হাজারের মতো গাড়ি আমদানি করা হয়েছে। অষ্টম জাতীয় সংসদের জনপ্রতিনিধিরা ২৭৫টি বিলাশবহুল গাড়ি আমদানি করেন আর নবম জাতীয় সংসদে গত অক্টোবর পর্যন্ত ৩৫০ সসদ সদস্যর মধ্যে বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি করেছেন ৩৩৯ জন। এসব গাড়ির বেশির ভাগই ৪ হাজার সিসি বা তারও বেশি যার বর্তমান সম্পুরক শুল্ক (গাড়ির ব্রান্ড বিশেষে) ৩৫০ থেকে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংসদ গোলাম মাওলা রনি পরিবর্তনকে বলেন, “সারা পৃথিবীতেই সংসদ সদস্যরা এই ধরণের সুবিধা ভোগ করে থাকেন। বাংলাদেশের সংসদ সদস্যরাও এর ব্যতিক্রম নন। তবে আমরা যেহেতু একটি গরীব রাষ্ট্র তাই এই সুবিধাটি নিজে উপভোগ না করে কেউ কেউ অন্যকে সুবিধা করে দেন। এটা অন্যায়।”

জাতীয় তেল গ্যাস রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ পরিবর্তনকে বলেন, “এই দেশে সবকিছু উজাড় হচ্ছে। খাল-বিল-নদী-বন সবকিছু দখল হচ্ছে। এটা অসম্ভব কিছু নয়, আমি এ বিষয়ে আর কিছু বলতে আগ্রহী নই।”

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেক এমপি ও মন্ত্রী তাদের সম্পদ বিবরনীতে কোটি টাকার মালিক হওয়ার কথা উল্লেখ করলেও বিলাসবহুল গাড়ির কথা উল্লেখ করেননি। সাংসদদের গড় সম্পদের পরিমাণ প্রায় কয়েক কোটি টাকা। অনেকের মাসিক আয়ও কোটি টাকার ওপর।

এক অর্থনীতি বিশ্লেষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যাদের মাসিক আয় কোটি টাকার ওপরে তাদের এভাবে শুল্ক না দিয়ে গাড়ি আমদানির বিষয়টি অযৌক্তিক।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এমপি পদটি এখন গাড়ি ব্যবসার হাতিয়ার। অভিযোগ আছে, সাংসদরা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সর্বাধুনিক মডেলের গাড়ি আমদানি করবেন এবং সেই গাড়ি কিছুদিন নিজের হেফাজতে রেখে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করেন। তবে এরআগে ৮ম জাতীয় সংসদে অর্থাৎ বিএনপি সরকারের আমলে শুল্কমুক্ত গাড়ি বিক্রির খবর আমরা জানতে পেরেছিলাম বিএনপির ক্ষমতাচ্যুতির পর।

তথ্যনুযায়ী বর্তমান সরকারের শুল্কমুক্ত গাড়ি কেনার সুবিধা নেননি আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধিদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ এ দুই দলের ৯ জন সংসদ সদস্য।

ব্যতিক্রম 'ওঁরা' ৩৫ জন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো মহাজোট সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের মধ্যে যারা শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আনেননি তারা হচ্ছেন_ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত (সিলেট-১), কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী (শেরপুর-২), স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম (কিশোরগঞ্জ-১), শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ (সিলেট-৬), সমাজকল্যাণমন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ (হবিগঞ্জ-৪), বেসামরিক বিমান ও পরিবহন মন্ত্রী মো. ফারুক খান (গোপালগঞ্জ-১), বাণিজ্যমন্ত্রী গোলাম মোহাম্মদ কাদের (লালমনিরহাট-৩), বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১), স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক (ঢাকা-১৩), স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মজিবুর রহমান ফকির (ময়মনসিংহ-৩), ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. শাহজাহান মিয়া (পটুয়াখালী-১), খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক (টাঙ্গাইল-১), ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা (জামালপুর-৫), মো. জাকির হোসেন (কুড়িগ্রাম-৪), ইসহাক হোসেন তালুকদার (সিরাজগঞ্জ-৩), এস কে আবু বাকের (নড়াইল-২), নারায়ণচন্দ্র চন্দ (খুলনা-৫), শওকত মোমেন শাহজাহান (টাঙ্গাইল-৮), আবদুস সালাম (ময়মনসিংহ-৯), রেবেকা মোমেন (নেত্রকোনা-৪), নাজমুল হাসান পাপন (কিশোরগঞ্জ-৬), সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ (বর্তমানে সদস্য নন), সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন (মাদারীপুর-৩), শফিকুর রহমান চৌধুরী (সিলেট-২), সৈয়দ মহসীন আলী (মৌলভীবাজার-৩), জোবেদা খাতুন (মহিলা আসন-১২), সাধনা হালদার (মহিলা আসন-৩২), নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী (মহিলা আসন-৪৩), হাসিনা মান্নান (মহিলা আসন-৪৮), পিনু খান (মহিলা আসন-৪৯), পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দীপু মনি (চাঁদপুর-৩)। বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া ছাড়াও বিএনপির যেসব এমপি শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আনেননি তাদের মধ্যে আছেন_ শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ (কুমিল্লা-৩), বরকত উল্লাহ বুলু (নোয়াখালী-৩) ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী (চট্টগ্রাম-২)।

বেশি দামের গাড়ি এনেছেন যারা
জাপানে তৈরি টয়োটা ল্যান্ডক্রুজার স্টেশন ওয়াগন ব্র্যান্ডের প্রাডো টিএক্স ও ডিজেলচালিত ভিএক্স মডেলের প্রতিটি গাড়ির দাম বাংলাদেশে পাঁচ কোটি টাকারও বেশি। এ ধরনের গাড়িকে নিরুৎসাহিত করতে ক্রয়মূল্যের চেয়ে ৮ থেকে ১০ গুণ বেশি শুল্ক নির্ধারণ করেছে এনবিআর। ৫০ থেকে ৭০ লাখ টাকার এসব গাড়িতে তাই শুল্কই আসে সাড়ে চার থেকে পাঁচ কোটি টাকা। কিন্তু শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে বাংলাদেশের সাংসদরা বেশি আনছেন বিলাসবহুল এ গাড়ি।

বিলাসবহুল গাড়ি এনেছেন ঝালকাঠি-১ আসনের বজলুল হক হারুন, নরসিংদী-৩ আসনের জহিরুল হক ভূঁইয়া মোহন, কুমিল্লা-৭ আসনের অধ্যাপক আলী আশ্রাফ, রংপুর-৪ আসনের টিপু মুন্সী, ময়মনসিংহ-৭ আসনের রেজা আলী, বরগুনা-২ আসনের গোলাম সবুর, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের নাসিম ওসমান, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ঝালকাঠি-২ আসনের আমির হোসেন আমু, বরগুনা-১ আসনের ধীরেন্দ্রচন্দ্র দেবনাথ, মাদারীপুর-১ আসনের নুর-ই-আলম চৌধুরী, বগুড়া-১ আসনের আবদুল মান্নান, যশোর-৫ আসনের খান টিপু সুলতান, চট্টগ্রাম-১২ আসনের প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, পটুয়াখালী-২ আসনের আ স ম ফিরোজ, চট্টগ্রাম-৩ আসনের এবিএম আবুল কাসেম, নাটোর-১ আসনের আবু তালহা, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের মো. মতিউর রহমান, ময়মনসিংহ-১০ আসনের গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম-৮ আসনের নুরুল ইসলাম বিএসসি, রাজশাহী-৪ আসনের এনামুল হক, বরিশাল-৬ আসনের এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার, ঢাকা-১০ আসনের একেএম রহমত উল্লাহ, ভোলা-৪ আসনের আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, কুমিল্লা-৬ আসনের আ ক ম বাহাউদ্দিন, বরিশাল-৩ আসনের গোলাম কিবরিয়া টিপু, সাতক্ষীরা-২ আসনের এমএ জব্বার, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের এমএ মান্নান, ভোলা-২ আসনের তোফায়েল আহমেদ, লক্ষ্মীপুর-১ আসনের নাজিম উদ্দিন আহমেদ, নওগাঁ-৩ আসনের আকরাম হোসেন চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১ আসনের ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পঞ্চগড়-২ আসনের নুরুল ইসলাম সুজন, নোয়াখালী-২ আসনের জয়নাল আবেদীন ফারুক, ঝিনাইদহ-২ আসনের মো. শফিকুল ইসলাম, গাজীপুর-৩ আসনের অ্যাডভোকেট মো. রহমত আলী, নেত্রকোনা-১ আসনের মোস্তাক আহমেদ রুহী, রাজশাহী-৬ আসনের শাহরিয়ার আলম, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সারাহ বেগম কবরী, ফরিদপুর-১ এর আবদুর রহমান, সিলেট-২ আসনের শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিরাজগঞ্জ-২ আসনের বেগম রুমানা মাহমুদ, নওগাঁ-৫ আসনের আবদুল জলিল, সিলেট-৩ আসনের মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী, নাটোর-৪ আসনের এমএ কুদ্দুস, বগুড়া-৫ আসনের হাবিবুর রহমান, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের একেএম মায়দুল ইসলাম, খাগড়াছড়ির যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, মাগুরা-২ আসনের বিরেন শিকদার, গাজীপুর-৫ আসনের বেগম মেহের আফরোজ, ঢাকা-১৬ আসনের ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা, দিনাজপুর-২ আসনের খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দিনাজপুর-৬ আসনের আজিজুল হক চৌধুরী, ফরিদপুর-৩ আসনের সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, চাঁদপুর-৪ আসনের হারুনুর রশীদ, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, বরিশাল-৫ আসনের অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান সরোয়ার, চট্টগ্রাম-৫ আসনের এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, কক্সবাজার-১ আসনের হাসিনা আহমেদ, শরীয়তপুর-৩ আসনের মো. আবদুর রাজ্জাক, ভোলা-১ আসনের আন্দালিব রহমান, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের জাহিদ মালিক, যশোর-১ আসনের শেখ আফিল উদ্দিন, টাঙ্গাইল-৫ আসনের আবুল কাশেম, চট্টগ্রাম-১১ আসনের সামশুল হক চৌধুরী, রাজশাহী-১ আসনের ওমর ফারুক চৌধুরী, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সাগুফতা ইয়াসমিন, কুষ্টিয়া-১৬ আসনের কেএইচ রশিদুজ্জামান, যশোর-৪ আসনের রঞ্জিত কুমার রায়, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সাংসদ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, পার্বত্য রাঙ্গামাটি আসনের দীপংকর তালুকদার, ঢাকা-১৪ আসনের আসলামুল হক, রাজশাহী-৫ আসনের আবদুল ওয়াদুদ, ঢাকা-১৯ আসনের তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদ, টাঙ্গাইল-৩ আসনের মতিউর রহমান, মৌলভীবাজার-২ আসনের নওয়াব আলী আব্বাস খান, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের মো. মজিবুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের এবি তাজুল ইসলাম, টাঙ্গাইল-৪ আসনের আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সুনামগঞ্জ-১ আসনের মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, পিরোজপুর-৩ আসনের আনোয়ার হোসেন, ফরিদপুর-৩ আসনের খন্দকার মোশাররফ হোসেন, কুড়িগ্রাম-১ আসনের একেএম মোস্তাফিজুর রহমান, লালমনিরহাট-১ আসনের মোতাহার হোসেন, চট্টগ্রাম-৬ আসনের ড. হাছান মাহমুদ, জয়পুরহাট-২ আসনের ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, গাজীপুর-২ আসনের জাহিদ আহসান রাসেল, চট্টগ্রাম-৪ আসনের আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, রংপুর-৫ আসনের এইচএন আশিকুর রহমান, জামালপুর-৪ আসনের মো. মুরাদ হাসান, কক্সবাজার-৪ আসনের আবদুর রহমান বদি, কুমিল্লা-৮ আসনের নাসিমুল আলম চৌধুরী, ঢাকা-৩ আসনের নসরুল হামিদ, মানিকগঞ্জ-২ আসনের এসএম আবদুল মান্নান, বাগেরহাট-১ আসনের শেখ হেলাল উদ্দিন, কুমিল্লা-৫ আসনের আবদুল মতিন খসরু, সুনামগঞ্জ-২ আসনের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, নরসিংদী-১ আসনের মো. নজরুল ইসলাম, জামালপুর-৩ আসনের মির্জা আজম প্রমুখ। আর সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদদের মধ্যে মমতাজ বেগম, বেগম নাসরিন জাহান, বেগম পারভীন তালুকদার, রাশেদা বেগম হীরা, অপু উকিল, বেগম তহুরা আলী, বেগম ফরিদুন্নাহার লাইলী, সালমা ইসলাম, বেগম নাজমা আক্তার, সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়া।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৭ সালের ২৪ মে পাস করা হয় সংসদ সদস্যদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির আইন। এরপর এই আইনের সুবিধা নিয়েছেন পরবর্তীকালে নির্বাচিত এমপিরা। সামরিক স্বৈরাচারের আমলে করা অনেক আইনই পরবর্তীকালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বাতিল করলেও নিজেদের স্বার্থে এটা বাতিল করেননি।

শুল্কমুক্ত গাড়ি আনার পক্ষে যুক্তি ছিল, এর মাধ্যমে এমপিরা নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারবেন। এমপিরা কথা রাখেননি। একজন এমপি বিনা শুল্কে যে গাড়ি ৫০-৬০ লাখ টাকায় আমদানি করেন, সেই গাড়িই একজন অ-সাংসদ বা সাধারণ নাগরিককে আমদানি করতে হবে আড়াই থেকে তিন কোটি টাকায়। একই দেশে দুই আইন। এ জন্যই ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি দেওয়ার কোনো বিধান নেই। সংসদ অধিবেশন চলাকালে তাঁরা সরকারি পুল থেকে গাড়ি ব্যবহার করেন। অনেকে বলেন, যে দেশে হাসপাতালে রোগীরা না খেয়ে মারা যায়, সে দেশে এমপিরা কীভাবে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি করেন?http://www.bdtomorrow.com/newsdetail/detail/200/59662