Saturday, 28 December 2013

যাত্রীসহ বাসটি ঢোকানো হলো থানায়

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসার পথে মহানন্দা স্পেশাল নামে যাত্রীবোঝাই এই বাসটি থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে বাসটি ছেড়ে দেওয়া হয়।  ছবি: শহীদুল ইসলাম।চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসার পথে মহানন্দা স্পেশাল নামে যাত্রীবোঝাই এই বাসটি থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে বাসটি ছেড়ে দেওয়া হয়। ছবি: শহীদুল ইসলাম।চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবোঝাই বাস মহানন্দা স্পেশালকে আজ শনিবার দুপুরে রাজশাহী নগরের বোয়ালিয়া থানার ঢোকানো হয়। বাসের ৩০ জন যাত্রীকে থানায় নামিয়ে নিয়ে বাসটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ বলছে, বিরোধী দলের ‘ঢাকা অভিযাত্রা’ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য বাসটি রিজার্ভ করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বাসে রাজশাহী পর্যন্ত গিয়ে ট্রেনে ঢাকায় যাওয়ার জন্য তারা এসেছিল। খবর পেয়ে পুলিশ নগরের বর্ণালীর মোড় থেকে বাসটিকে আটক করে।


আটক কয়েকজন যাত্রী জানান, তাঁরা ঢাকায় যাওয়ার জন্য নয়, রাজশাহীতে আসার জন্য বাসে উঠেছিলেন। এখন তাঁদের ঢাকার যাত্রী বলে আটক করা হয়েছে। বাসের এ রকম যাত্রী ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর এলাকার রবি লাল। তাঁর হাতে বাফার গোডাউনের চালান রয়েছে। তিনি চালান দেখিয়ে বলেন, তিনি রাজশাহী গোডাউনের ইউরিয়া সারের চালান জমা দেওয়া জন্য রাজশাহীতে যাচ্ছিলেন। এখন তাঁর চালানটা কেউ দেখছে না। হামিদুল হক ওষুধ কোম্পানিতে কাজ করেন। রাতে রাজশাহীতে একটি আবাসিক হোটেলে ছিলেন। সকালে উঠে চাঁপাইনবাবগঞ্জ গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই রাজশাহীতে যাওয়ার জন্য বাসে উঠেছিলেন। পরে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। যাত্রী মুকুল হোসেনের বাড়ি গাজীপুরে। মুকুল বলেন, তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে তাঁর শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলেন। সেখান থেকে গাজীপুর যাওয়ার জন্য তিনি এই বাসে উঠেছিলেন। তাঁরা আরও বলেন, টিকিট কেটেই বাসে উঠেছিলেন। বাসের মধ্যেই কন্ডাক্টর তাঁদের টিকিট নিয়ে নিয়েছেন।
দুপুরে বোয়ালিয়া থানায় গিয়ে দেখা যায় ৩০ জন যাত্রীকে থানার দর্শনার্থীদের কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। জানালা দিয়ে কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলতেই একজন পুলিশ কনস্টেবল এসে জানালা বন্ধ করে দিলেন। তিনি প্রতিবেদকের নোটবুকে লেখা যাত্রীদের নাম কয়টি নিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করেন।
বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য তাঁরা কাজ করছেন। তারই অংশ হিসেবে এই বাসের যাত্রীদের আটক করেছেন। তবে বাসে আটজন সাধারণ যাত্রী ছিল। তাঁদের তিনি ছেড়ে দিয়েছেন। যাঁদের আটক করা হয়েছে তাঁরা ঢাকায় যাবেন। বাসসহ কেন থানায় এনেছিলেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়ে আসার সুবিধার জন্য করেছিলেন। এঁদের নামে কী মামলা দেওয়া হবে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এঁদের ধরা হয়েছে। সকালে ছেড়ে দেওয়া হবে।

তল্লাশির নামে বাড়ি তছনছ করার অভিযোগ
এদিকে তল্লাশির নামে নগরের বিএনপির নেতাদের বাড়িঘর তছনছ করার অভিযোগ করছেন বিএনপি নেতারা। পবার কাটাখালী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, কাটাখালী পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে গত শুক্রবার দিবাগত রাত একটার পর থেকে তল্লাশির নামে যৌথ বাহিনীর লোকেরা ভাঙচুর ও লুটপাট করেছেন।
নগরের মতিহার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম বলেন, যৌথ বাহিনী সিরাজুলকে গ্রেপ্তারের জন্য তল্লাশি করেছে। পুলিশ তাদের সহযোগিতা করেছে। এখানে ভাঙচুর বা লুটপাটের কোনো ঘটনা ঘটেনি