Saturday, 12 October 2013

সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড জাতিসংঘ পদক নয়’- জাতিসংঘ। সাউথ সাউথ পাননি হাসিনা

কাউসার মুমিন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে: সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড জাতিসংঘ প্রদত্ত পদক নয় কিংবা এটি জাতিসংঘের পক্ষ থেকে অন্য কোন সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত কোন পুরস্কারও নয় বলে নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘ সদর দপ্তর। এছাড়া, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এ বছরের সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড পাননি বলেও জানিয়েছে এই পুরস্কারের দুই উদ্যোক্তা সংগঠন সাউথ সাউথ নিউজ ও ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর সাউথ সাউথ  কো-অপারেশন (আইওএসএসসি)। জাতিসংঘ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিত করার প্রয়াসে এমডিজি বাস্তবায়নে সাফল্য অর্জনকারী দেশগুলোকে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে তাদের সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘের কয়েকটি অঙ্গ সংস্থার সহযোগিতায় সাউথ সাউথ নিউজ নামের নিউ ইয়র্কের একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে এই পুরস্কারটি দেয়া হয় বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তিকে সরকারের অনেক বড় অর্জন বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের অব্যাহত প্রচারণা এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এ বছরের সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তি নিয়ে বাংলাদেশের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় এমনকি ব্লগ টুইটার ও ফেসবুকে বিপুল উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনার পাশাপাশি এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল বিতর্ক ও আমূল সন্দেহ প্রকাশের প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে মানবজমিন-এর পক্ষ থেকে গতকাল জাতিসংঘ সদর দপ্তর ও সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড-এর আয়োজক ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য জানা যায়।
‘সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড’-এর সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা কি? এটা কি জাতিসংঘ প্রদত্ত কোন পদক?’ Ñএমন প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘের মুখপাত্র  মোরানা সং গতকাল এক লিখিত বার্তায় এই প্রতিনিধিকে বলেন, ‘সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড জাতিসংঘ পদক নয় কিংবা এটি জাতিসংঘের পক্ষ থেকে প্রদত্ত কোন পুরস্কার নয়।’ উল্লেখ্য, জাতিসংঘ মহাসচিবের নিয়মিত মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মার্টিন নেসার্কি’র অনুপস্থিতিতে গতকাল প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নেন পাঁচজন সহযোগী মুখপাত্রের মধ্যে সিনিয়র ফারহান হক। জাতিসংঘ মহাসচিবের অপর সহযোগী মুখপাত্র এবং এশিয়ার দেশগুলোর বিষয়ে দায়িত্ব পালনকারী মোরানা সং আরও বলেন, সাউথ সাউথ নিউজ এই পুরস্কার দিয়ে থাকে। এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজনে জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) অন্য আরও কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে মিলে সাউথ সাউথ নিউজকে সাহায্য করে থাকে।   এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল  টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ)-এর নিউ ইয়র্কস্থ লিয়াজোঁ অফিসের প্রধান গ্যারি ফাউলি গতকাল এক লিখিত বার্তায় এই প্রতিনিধিকে জানান, প্রথমেই বলে রাখা ভাল ‘সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড’ জাতিসংঘের কোন পদক নয়। এর উদ্যোক্তা সাউথ সাউথ নিউজ।  জাতিসংঘ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিত করার প্রয়াসে এমডিজি বাস্তবায়নে সাফল্য অর্জনকারী দেশগুলোকে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে তাদের সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ সাউথ সাউথ নিউজের পক্ষ থেকে এই অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। অন্য অনেক ক্যাটিগরির সঙ্গে এই পুরস্কার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অর্জনকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তাই নিউ ইয়র্কের অন্য অনেকগুলো সংগঠনের সঙ্গে মিলে জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) এই পুরস্কার অনুষ্ঠান আয়োজনে সমর্থন দিয়ে থাকে।’
এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছরের সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড পাননি। ২০১৩ সালের সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হননি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে এ বছরের সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড আয়োজনকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে দুই উদোক্তা সংগঠন সাউথ সাউথ নিউজ এবং ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর সাউথ সাউথ কো-অপারেশন (আইওএসএসসি)-এর ডাইরেক্টর  জেনারেল অ্যাম্বাসেডর আলেকজান্দ্রার কুজবা এই প্রতিনিধিকে টেলিফোনে বলেন, এ বছর আনুষ্ঠানিকভাবে যাদেরকে সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়েছে সেই তালিকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। তাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড-২০১৩’ দেয়া হয়নি। তিনি সাউথ সাউথ নিউজের পক্ষ থেকে যে পুরস্কারটি গ্রহণ করেছেন তার  লোগোতে সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড কথাটি লেখা থাকলেও এটি এ বছরের মূল সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড নয়। এটি একটি লিডারশিপ রিকগ্নিশন ক্রেস্ট। ২০১১ সালে সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অব্যাহত প্রয়াসের স্বীকৃতিস্বরূপ সাউথ সাউথ নিউজের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে এই রিকগনিশন ক্রেস্ট দেয়া হয়, কিন্তু এটি এ বছরের মূল সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড নয়। এ বিষয়ে মানবজমিন প্রতিবেদকের পাঠানো কয়েকটি প্রশ্নের একটি লিখিত উত্তর পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলে জবাবে অ্যাম্বাসেডর আলেকজান্দ্রার কুজবা এই প্রতিনিধিকে বলেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বাংলাদেশের মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এছাড়া সাউথ সাউথ নিউজের প্রেসিডেন্ট  ফ্রান্সিস  লোরেঞ্জো এখন বিদেশ সফরে আছেন। তিনি ফিরে আসা পর্যন্ত আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে। এদিকে সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ডের এ বছরের মূল অনুষ্ঠানটি বিগত ২২শে  সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ম্যানহাটনের ওয়াল্ডরফ এস্টোরিয়া হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। এর একদিন পর ২৩শে  সেপ্টেম্বর ফ্লাইট বিলম্বের কারণে নির্ধারিত সময়ের আড়াই ঘণ্টা দেরিতে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় নিউ ইয়র্কে পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিন রাত ৯টায়  ম্যানহাটনের সেকেন্ড এভিনিউতে অবস্থিত সাউথ সাউথ নিউজ ও ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর সাউথ সাউথ কো-অপারেশন (আইওএসএসসি)-এর যৌথ কার্যালয়  থেকে এচিভমেন্ট ইন ফাইটিং  পোভার্টি ক্যাটিগরিতে একটি রিকগনিশন ক্রেস্ট গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর হাতে এই রিকগনিশন  ক্রেস্ট তুলে দেন ওই দু’টি প্রতিষ্ঠানের  প্রেসিডেন্ট অ্যাম্বাসেডর ফ্রান্সিস  লোরেঞ্জ। সাউথ সাউথ নিউজের মতে ওই রাতের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও জাতিসংঘে  যোগদানকারী বাংলাদেশ  ডেলিগেশনের ৩৫ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের হাইলেভেল কমিটি অন সাউথ সাউথ  কো-অপারেশন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একটি সাব-কমিটি। প্রতি দুই বছর অন্তর অন্তর জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষে ইউএনডিপি’র প্রশাসক সাউথ সাউথ  কো-অপারেশনের বৈঠক আহ্বান করে থাকেন। এই কমিটি দক্ষিণের  দেশগুলোর জাতিসংঘ সিস্টেমের অধীন যত সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তার আন্তঃসরকার সহযোগিতার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে থাকে।  জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন ত্বরান্বিতকরণের লক্ষ্যে জাতিসংঘের হাইলেভেল কমিটি অন সাউথ সাউথ কো-অপারেশনের ১৬তম বৈঠকে ২০১০ সালের  ফেব্রুয়ারি মাসে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর সাউথ সাউথ  কো-অপারেশন (আইওএসএসসি) এবং সাউথ সাউথ নিউজ গঠিত হয় । আইওএসএসসি’র কাজ হলো সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন গতিশীল করতে সদস্য দেশগুলোর সরকার ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী সংস্থা সমূহের বহুপক্ষীয় উদ্যোগগুলোকে সমন্বিত করা। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দক্ষিণের  দেশগুলোর সরকার, প্রাইভেট সেক্টর, সিভিল সোসাইটি, বুদ্ধিজীবী সমাজ, এবং পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, পর্যটন, সংস্কৃতি, অধিক হারে প্রযুক্তি হস্তান্তর ইত্যাদি বিষয়ে কর্মসূচি প্রণয়ন এবং তা সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সরবরাহ করাও আইওএসএসসি’র কাজ।  এর বাইরে  আইওএসএসসি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে দক্ষিণের  দেশগুলোর মধ্যে ডিজিটাল ডিভাইড কমিয়ে আনার জন্যও একই সঙ্গে কাজ করে থাকে। অপরদিকে  সাউথ সাউথ নিউজ-এর কাজ হলো জাতিসংঘ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বিষয়ক দক্ষিণের দেশগুলোর সাফল্যের  সংবাদ এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পিছিয়ে পড়ার কারণ অতিগুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা।  আফ্রিকা, এশিয়া প্যাসিফিক, মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব ইউরোপ, ল্যাটিন আমেরিকা ও  ক্যারিবিয়া অঞ্চলের ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সাউথ সাউথ নিউজ কাজ করে থাকে। এছাড়া দক্ষিণের উন্নয়নশীল দেশগুলো তাদের জাতীয় উন্নয়ন নীতিমালায় প্রযুক্তিকে কিভাবে উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে সে বিষয়ে সাউথ সাউথ নিউজ এডভোকেসি করে। আইওএসএসসি সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড প্রদানের প্রধান সমন্বয়ক। আর ইভেন্ট বাস্তবায়নে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট কাজগুলো করে থাকে এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান সাউথ সাউথ নিউজ। পুরস্কার প্রদানের অনুষ্ঠান আয়োজনে সহায়তা করে থাকে জাতিসংঘে তৃতীয় বিশ্বের কয়েকটি দেশের স্থায়ী মিশন। এর মধ্যে রয়েছে মালাউই, ডমিনিকান প্রজাতন্ত্র, জাম্বিয়া, তাজিকিস্তান, এল সালভাদর ও হন্ডুরাস।
এই পুরস্কার সূচনার বছর ২০১১ সালে। পুরস্কারের থিম সাবজেক্ট ছিল ‘ডিজিটাল হেলথ ফর ডিজিটাল  ডেভেলপমেন্ট’। এই থিমের আওতায় ২০১১ সালে বিভিন্ন ক্যাটিগরিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং বেসরকারি সংস্থা প্রধান মিলিয়ে ১৫ জনকে সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়।  এ বছরই  ‘গ্লোবাল উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেনস  হেলথ’ ক্যাটিগরিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড’ দেয়া হয়। ওই বছর একই ক্যাটিগরিতে  ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট লিওনেল ফার্নান্দেজ রেইনাকেও সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। ‘ইনোভেশন অ্যান্ড টেকনোলজি ফর সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ থিমে অনুষ্ঠিত ২০১৩ সালের সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড-এর মূল অনুষ্ঠানটি দুই উদ্যোক্তা সংগঠন সাউথ সাউথ নিউজ ও ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর সাউথ সাউথ  কো-অপারেশন (আইওএসএসসি)- এর সঙ্গে কো-অর্গানাইজার হিসেবে ছিল জাতিসংঘে এন্টিগুয়া ও বারমুদা’র স্থায়ী মিশন, ইন্টারন্যাশনাল  টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন এবং ইউনাইটেড নেশনস্ পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন নেটওয়ার্ক। এবারে পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ছিলেন দক্ষিণ  আফ্রিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান বিশ্বের জীবন্ত কিংবদন্তি  নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা, কোস্টারিকার  প্রেসিডেন্ট লোরা মিরান্ডা, বাহরাইনের প্রধানমন্ত্রী খলিফা বিন সালমান আল খলিফা ও ফিজির প্রধানমন্ত্রী হোসে  বোর্গে বাইনিমারামা। নেলসন ম্যান্ডেলার পক্ষে তার কন্যা জিন্দি ম্যান্ডেলা এ পুরস্কার গ্রহণ করেন। এ উপলক্ষে সাউথ সাউথ নিউজের প্রেস রিলিজ কিংবা পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় কোথাও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নাম নেই। অবশ্য মূল অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তৃতায় সাউথ সাউথ নিউজের প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সিস  লোরেনজো দারিদ্র্যবিমোচনে  ডোমিনিকান রিপাবলিকের ফার্স্ট  লেডি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অব্যাহত ভূমিকার প্রশংসা করেন।
সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তি নিয়ে ২০১১ সাল  থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই পুরস্কার প্রাপ্তিকে সরকারের বিরাট সাফল্য হিসেবে ব্যাপক প্রচারণা চালালেও এটি যে জাতিসংঘের নিজস্ব  কোন পদক নয় সে বিষয়টি তারা কখনওই জাতিকে খোলাসা করে বলেননি।