Sunday, 6 October 2013

গোবিন্দগঞ্জে ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে থানায় কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানা হেফাজতে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ১৭ বছর বয়সী মেয়েটির বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায়। তাকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে গত শুক্রবার রাতে মেয়েটিকে বাদী করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। তবে মেয়েটি ওই পুলিশ সদস্যদের নাম বলতে পারেনি। এ ঘটনা তদন্তে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি শেখ দেলোয়ার হোসেন বলেন, গোবিন্দগঞ্জের সিনিয়র বিচারিক হাকিম আদালতের আদেশে এ মামলা করা হয়েছে। মামলাটির তদন্তের ভার দেয়া হয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আহসানকে।
এছাড়া আদালত ওই কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে গাইবান্ধার সিভিল সার্জনকে।
ওসি আরও জানান, ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শহরের অদূরে মাস্তা এলাকায় ওই কিশোরীকে কান্নাকাটি করতে দেখে থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক আকমল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওইদিন রাতেই তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পর দিন সকালে এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
তিনি বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর পুলিশ ওই কিশোরীকে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র বিচারিক হাকিম মো. তারিক হোসেনের আদালতে হাজির করে। আদালত ওইদিন তাকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। কারাগারের যাওয়ার পর মেয়েটি জেল সুপার শহীদুল ইসলামকে থানা হেফাজতে ধর্ষিত হওয়ার কথা জানায়। তবে ধর্ষণকারী পাঁচ পুলিশের নাম জানাতে পারেনি।
জেল সুপার শহীদুল ইসলাম জানান, মেয়েটি তাকে ধর্ষিত হওয়ার বিষয়টি জানানোর পর এবং কিছুটা অসুস্থ লাগায় তাকে ২ অক্টোবর আবার গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করে তার জবানবন্দি নেয়া হয়। এ জবানবন্দি এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ৩ অক্টোবর পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়। ওই কিশোরীকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আহসান হাবিব বলেন, গতকাল রোববার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছি। তদন্ত কাজও শুরু করা হয়েছে।
গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) হানিফ বলেন, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর গতকাল রোববার কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। দ্রুত প্রতিবেদন দেয়া হবে। তবে পরীক্ষায় কী পাওয়া গেছে তা বলতে রাজি হননি তিনি।
জেলা পুলিশ সুপার সাজিদ হোসেন বলেন, এ ঘটনা তদন্তের জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দু’জন হলেন এএসপি (হেড কোর্য়াটার) আব্দুল কুদ্দুস ও এএসপি (বি সার্কেল) মাহবুব হোসেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোশারফ বলেন, কিশোরীর জবানবন্দিতে পাঁচ পুলিশ সদস্যের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সে পাঁচ পুলিশ কনস্টেবলের নাম জানাতে পারেনি। তাই আদালতের অনুমতি নিয়ে কিশোরীর মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
মানববন্ধন পালিত : গোবিন্দগঞ্জ থানায় আশ্রিত কিশোরী সীমা ধর্ষণকারী পুলিশ সদস্যদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গতকাল বিকালে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সামাজিক বিপ্লবী পরিষদ ও নাগরিক কমিটির যৌথ উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ৩টা থেকে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী পালিত এ মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য রাখেন সামাজিক বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আ.ফ.ম মজিবুর রহমান সরকার ফুলমিয়া, নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক এম.এ মতিন মোল্লা, মুক্তিযোদ্ধা এন্তাজুর রহমান প্রধান, অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক আব্দুল ওয়ারেছ প্রধান, এম মোজাম্মেল হক, রফিকুল ইসলাম রফিক, মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, উপজেলার ফাঁসিতলা বাজার থেকে পরিচয়হীন সীমা নামের এক কিশোরীকে ক্রন্দনরত অবস্থায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত ৩টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে সুযোগ বুঝে থানা হেফাজতে থাকা সীমাকে কয়েক পুলিশ সদস্য রাতভর ধর্ষণ করে বলে বক্তারা অভিযোগ করেন। বর্তমানে সীমা গাইবান্ধা জেলহাজতে নিরাপত্তা হেফাজতে রয়েছে।