Sunday, 6 October 2013

যশোরের শার্শা সীমান্তে বিএসএফের নির্যাতনে বাংলাদেশী তরুণের মৃত্যু

যশোরের শার্শা সীমান্তে বিএসএফের নির্যাতনে তৌহিদুর রহমান শিকদার নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে তার মৃত্যু যে বিএসএফের নির্যাতনে হয়েছে, বিজিবি কর্মকর্তারা তা নিশ্চিত করতে পারেননি।
নিহত তৌহিদুর রহমান শার্শা উপজেলার গোগা গ্রামের লিয়াকত আলী শিকদারের ছেলে। তার স্বজনরা জানায়, শনিবার রাতে তৌহিদুরসহ একদল ব্যবসায়ী ভারতে যায় গরু আনতে। গভীর রাতে দলটি ফিরে আসার সময় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ঝাউডাঙ্গা ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের তাড়া করে। অন্যরা নিরাপদে দেশে ফিরতে পারলেও তৌহিদকে ধরে ফেলে বিএসএফ সদস্যরা। তারা তৌহিদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালিয়ে মৃতপ্রায় অবস্থায় ফেলে যায় বাংলাদেশ ভূখণ্ডে। পরে গ্রামবাসী তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাগআঁচড়ার একটি ক্লিনিকে এবং পরে রাত সোয়া ২টায় যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। গতকাল রোববার বিকালে তৌহিদ চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যায়।
বিজিবি ২৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল তায়েফ উল হক তৌহিদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেও কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে সে ব্যাপারে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তিনি বলেন, তৌহিদ নামে এক তরুণের মৃত্যুর খবর জেনে তিনি বিজিবি ২৬ ব্যাটালিয়নের অপারেশনাল অফিসার এ কে এম রায়হান হাফিজকে গতকাল সন্ধ্যায় যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। কর্নেল তায়েফ জানান, মৃত তৌহিদের মুখমণ্ডলসহ শরীরের অন্যান্য স্থানে আঘাত রয়েছে। এগুলো যদি ছররা গুলির দাগ হয়, তাহলে তার জন্য বিএসএফ দায়ী।
বিজিবি ২৬ ব্যাটালিয়নের অপারেশনাল অফিসার মেজর রায়হানও একই ধরনের তথ্য দেন। তিনি বলেন, তৌহিদের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পরই তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহতের স্বজনদের দাবি, তৌহিদের মুখে কলম বা অন্য কোনো সুচালো বস্তু দিয়ে আঘাত করেছে বিএসএফ। এছাড়া তার সারা শরীর পিটিয়ে থেঁতলে দেয়া হয়েছে বলে তাদের দাবি।