Tuesday, 29 October 2013

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার নেপথ্যের অন্যতম নায়ক প্রথমআলো সম্পাদক কী ধরাছোঁয়ার বাইরেই থাকবেন?


২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার নেপথ্য নায়কদের অন্যতম হিসেবে বার বার বিভিন্ন পর্যায়ে নাম উঠে আসলেও দৈনিক প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বর্বরোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অন্যতম হোতা বলে চিহ্নিত জঙ্গি নেতা মাওলানা তাজউদ্দিনকে যে র‍্যাব খুঁজছে, তা তাকে আগেভাগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ও একই পত্রিকার সাংবাদিক টিপু সুলতান। তাজউদ্দিনকে তাঁরা ওই তথ্য জানান দিয়ে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, বিএনপিকে সহায়তা করার জন্য তাজউদ্দিনকে দিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক দল করার ব্যাপারেও মতিউর রহমান তার সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন।
নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) নেতা তাজউদ্দিনের সঙ্গে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের এই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অন্যতম আসামি সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর(জঙ্গি নেতা তাজউদ্দিনের বড় ভাই) জবানবন্দি থেকে।
গোয়েন্দা পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে পিন্টু আরো বলেছেন, "মতিউর রহমান ও সাংবাদিক টিপুর সঙ্গে তাঁর ও তাঁর ভাই তাজউদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাঁরা প্রায়ই মতিউর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যেতেন।"
আব্দুস সালাম পিন্টুর জবানবন্দি থেকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার নেপথ্যের আরো অনেক অজানা তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এই জবানবন্দি ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের খোঁজার সময় তাজউদ্দিনকে প্রথম আলোর মতিউর রহমান ও টিপ সুলতান সতর্ক করে দেওয়ার পর প্রভাবশালী একটি মহল তাকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়। বিদেশে যাওয়ার আগে মতিউর রহমানের সঙ্গে তাজউদ্দিন একাধিকবার বৈঠক করেছে। ঢাকার কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে মধ্যস্থতা করেন টিপু সুলতান।
 তদন্তসংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আরো মনে করেন, ২১ আগস্টের মাধ্যমে তাজউদ্দিন-হান্নানদের দিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে টার্গেট করা হয়। কারণ শেখ হাসিনাকে মৌলবাদীরা তাদের চলার পথে একমাত্র হুমকি মনে করেছিল। প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানসহ অপর গোষ্ঠীটির টার্গেট ছিল শেখ হাসিনা ও গণতন্ত্র। ফলে উদ্দেশ্যে ভিন্নতা থাকলেও দুই পক্ষেরই টার্গেট ছিল এক। প্রথম আলো পত্রিকা ও এর সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে দেশে জরুরি অবস্থা জারির পেছনে হাত থাকার অভিযোগও আছে বিভিন্ন মহলের। জরুরি অবস্থা জারির পর দেশের শীর্ষ দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে সরানোর চেষ্টাও করেছিলেন তিনি।

গোয়েন্দা পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে আব্দুস সালাম পিন্টু আরো বলেন, 'আমার ভাইকে যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিষয়ে র‌্যাব খুঁজছে, তা আমাকে প্রথমে মতিউর রহমান সাহেবের বরাত দিয়ে সাংবাদিক টিপুই জানায়। সে বলে যে, তারা তাজউদ্দিনকে সতর্ক করেছে। আমিও যেন তাকে সাবধানে থাকতে বলি।'

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও সামরিক বিষয়ক উপদেষ্টা সংবাদ সম্মেলন ডেকে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ হাজির করার পরও কোনো এক অজানা শক্তিবলে ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছেন তিনি।
অভিযোগ উঠেছে, সংবাদপত্রের সম্পাদক হওয়ার প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে মতিউর রহমান তার এজেন্ডা বাস্তবায়নে এখনো কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (র‍্যাব) বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সেটি বিলুপ্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তার জঙ্গি সম্পৃক্ততা এবং এই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে র‍্যাবের সফল অভিযানই তাকে র‍্যাববিরোধী করে তুলেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর র‍্যাবসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই বললেই চলে। আর সেটাই হয়তো এই সম্পাদকের মনঃপুত নয়, এমনটাই মন্তব্য অনেকের।
উল্লেখ্য, বিগত জোট সরকারের আমলেই এ হামলার তদন্ত শুরু হয়। ঘটনার পরপরই জোট সরকার তার তদন্তের মধ্য দিয়ে জজমিয়া নামের একটি চরিত্র দ্বার করিয়ে তার স্বীকারোক্তি আদায় করে। যাতে ওই হামলার জন্য আওয়ামী লীগ কর্মীদেরই দায়ী করা হয়। তবে এ বক্তব্য ভুল প্রমাণিত হয় ওই হামলার মূলনায়ক মুফতি হান্নানের জবানবন্দির মধ্য দিয়ে। তবে ইন্ধনদাতাদের নাম থেকে যায় আবারো আড়ালে। তদন্তে এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে অন্তর্ভূক্ত করা সম্ভব হচ্ছে কী না তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী ওই সম্পাদকদের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ তা হলো, এক. তার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।  দুই. তার জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।  তিন. তিনি আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে র‌্যাবকে বিলুপ্ত করার চক্রান্তকারী।
এসব অভিযোগগুলো অবশ্যই গুরুতর। ২১ আগস্ট হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায় যার বিরুদ্ধে তিনি কেন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবেন। দেশের আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর  চক্রান্তে লিপ্ত থাকার অভিযোগ রাষ্ট্রদ্রোহের পর্যায়ে পড়ে। আর জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ যার বিরুদ্ধে তাঁকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে সোপর্দ করা যায়। তাহলে কেন আইনের হাতে ওই সম্পাদককে সোপর্দ করা হচ্ছে না। একটি বহুল প্রচারিত পত্রিকার সম্পাদক বলেই কি তিনি আইনের উর্ধ্বে উঠে গেলেন? এ প্রশ্ন এখন অনেকের।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতির নানা বাঁকে ওই সম্পাদক ও তার সম্পাদিত পত্রিকাটির অবস্থান ছিল অস্বচ্ছ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দেশকে অকার্যকর ও ব্যর্থ তত্ত্ব দিয়ে অসাংবিধানিক শক্তিকে ক্ষমতারোহণে উৎসাহ জুগিয়েছেন তিনি ও তার পত্রিকা। ২০০৭ সালের ১৫ জানুয়ারি এটিএন বাংলার ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েদেশে জরুরি অবস্থার পক্ষে তিনি সাফাই গান, সশস্ত্র বাহিনীকে সরাসরি ভূমিকা রাখার উসকানি দেন। এমনকি বিদেশি রাষ্ট্র, বিশেষ করে দাতা দেশগুলোর ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পত্রিকাটির ভূমিকা ছিল কোনো এক ষড়যন্ত্রকারী নেপথ্যশক্তির তল্পিবাহক হিসেবে। ২০০৭ সালের ১৫ জুলাই ‘ সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই’ এই শিরোনামে তিনি এক মন্তব্য প্রতিবেদনে লেখেন, ‘দেশের সব পরিবর্তনের পেছনে একটি বিষয় লক্ষণীয়, তা হলো সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থিত তত্ত্ববধায়ক সরকারের উদ্যোগই এখন পর্যন্ত প্রধান। এসব পরিবর্তনের পেছনে রাজনৈতিক শক্তি বা নাগরিক সমাজের ভূমিক বড় নয়।’ এ প্রতিবেদনে তার সব মন্তব্য প্রতিবেদনরই সারবস্তু ছিল অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক শক্তিকে উসকে দেওয়া। 
বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে তত্ত্ব প্রথম প্রকাশ করেন এই সম্পাদক। ২০০৮ সালর ১০ মে ‘নির্বাচন চাই’, ১১ জানুয়ারিতে আগের অবস্থায় ফিরতে চাই না’ শিরোনামে এক মন্তব্য প্রতিবেদনে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর ও ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরার প্রয়াস চালান।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ওই পত্রিকার রম্য ম্যাগাজিন-এ হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে ব্যঙ্গ কার্টুন প্রকাশ করে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেন। এক পর্যায়ে পত্রিকাটি এই কার্টুন প্রকাশের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ও ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়।

ডিজিটাল বাংলাদেশ ফোরামের পক্ষ থেকে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানানো হয়
ডিজিটাল বাংলাদেশ ফোরামের পক্ষ থেকে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানানো হয়

পরিবর্তন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানানো হয়
পরিবর্তন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানানো হয়
সর্বশেষ ওয়ান ইলেভেনের পর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিতর্কিত ভূমিকার জন্য ভুল স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন ওই সম্পাদক। গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সংবাদপত্র মালিক সমিতির (নোয়াব) নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ওই সম্পাদক বলেন, ‘ওয়ান ইলেভেন-পরবর্তী আমাদের কিছূ কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, এজন্য আমরা দুঃখিত। পরবির্তিত পরিস্থিতিতে এটা করা ছাড়া তখন আমাদের উপায় ছিল না। তবে ওই ভূমিকা ভুল ছিল।’

সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, এভাবে দুঃখ প্রকাশেই কী তার যাবতীয় বড় বড় অপরাধ মার্জনা পেয়ে যাবে?

Source:
ডিজিটাল বাংলাদেশ ফোরামের পক্ষ থেকে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানানো হয়
ডিজিটাল বাংলাদেশ ফোরামের পক্ষ থেকে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানানো হয়
পরিবর্তন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানানো হয়
পরিবর্তন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানানো হয়

CONSPIRACY THEORIES in 2008 Election & 21 August Graned attack
ডিজিটাল বাংলাদেশ ফোরামের পক্ষ থেকে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানানো হয়
ডিজিটাল বাংলাদেশ ফোরামের পক্ষ থেকে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানানো হয়
পরিবর্তন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানানো হয়
পরিবর্তন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানানো হয়
ডিজিটাল বাংলাদেশ ফোরামের পক্ষ থেকে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানানো হয়
ডিজিটাল বাংলাদেশ ফোরামের পক্ষ থেকে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানানো হয়
পরিবর্তন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানানো হয়
পরিবর্তন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানানো হয়