Wednesday, 13 November 2013

সাড়ে পাঁচ হাজার গড় উত্পাদন ক্ষমতা নিয়ে দশ হাজার মেগাওয়াটের উত্সব

বিদ্যুত্ উত্পাদন নিয়ে ভিত্তিহীন ও হাস্যকর উত্সবে মেতে উঠেছে সরকার। দশ হাজার মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতা অর্জনের নামে লেজার শোসহ ব্যয়বহুল আনন্দ উত্সব করা হলেও বাস্তবে বিদ্যুতের নির্ভরযোগ্য উত্পাদন ক্ষমতা এখনও ৬ হাজারের মধ্যে। গত সর্বোচ্চ উত্পাদনও সাড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগওয়াটের মধ্যে রয়েছে। তবুও জনগণকে বোকা বানিয়ে সরকার দশ হাজার মেগওয়াটের উদ্ভট দাবি করছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর সর্বোচ্চ চাহিদার সময় খোদ পিডিবির হিসাবেই দেশে বিদ্যুত্ উত্পাদন করা গেছে ৫ হাজার ৭৫০ মেগাওয়াট। তার আগের দিন সোমবার উত্পাদন হয়েছে ৫ হাজার ৭৪৯ মেগাওয়াট। একই তারিখে দিনের বেলা সর্বোচ্চ চাহিদার সময় বিদ্যুত্ উত্পাদন হয়েছে ৪ হাজার ৭৫ মেগাওয়াট। ১০ নভেম্বর রোববার সান্ধ্য পিক আওয়ারে উত্পাদন হয়েছে আরও কম; ৫ হাজার ৭০৩ মেগাওয়াট।
আবার নভেম্বরের প্রথম দিনে সান্ধ্য পিক আওয়ারে আরও কম ৫ হাজার ৪৮৩ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করতে পেরেছে সরকার। পিডিবির ওয়েবসাইটেই এ হিসাব দেয়া আছে। যদিও বিদ্যুত্ বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকে বলছেন, সরকারের মিথ্যা দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য পিডিবি বিদ্যুতের উত্পাদন বেশি করে দেখাচ্ছে।
এদিকে সরকার তাদের বর্তমান আমলে অর্ধশতাধিক কেন্দ্র স্থাপনের দাবি করছে। অথচ বিদ্যুত্ উত্সবের দিন অর্থাত্ ১২ নভেম্বর দিনের বেলা ৪২টি বিদ্যুেকন্দ্র বন্ধ ছিল। একই দিন সান্ধ্য পিক আওয়ারে বেশ কিছু কেন্দ্র নামেমাত্র চালু রেখে ৫-৭ মেগাওয়াট করে উত্পাদন করলেও সান্ধ্য পিক আওয়ারে ১৬ কেন্দ্র অচল পড়ে ছিল।
এখানে উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে দেশে বিদ্যুত্ উত্পাদনের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ৪ হাজার ১৮০ মেগাওয়াটের। আর এখন সর্বোচ্চ উত্পাদনের রেকর্ড আছে ৬ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের। অর্থাত্ গত ৫ বছরে ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি ও বিদ্যুতের দাম ৭ দফা বাড়িয়ে কয়েকগুণ করে উত্পাদন বৃদ্ধির পরিমাণ ২ হাজার মেগাওয়াটের মতো। অথচ প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই দাবি করছেন তারা ৭ হাজার মেগাওয়াট উত্পাদন বাড়িয়েছেন।