Monday, 25 November 2013

গৌরনদীতে যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে হিন্দু বাড়িতে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর


জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বরিশালের  পৌর কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে এক হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।

গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় গৌরনদী পৌরসভার দক্ষিণ  বিজয়পুর এলাকার অধিবাসী রতন ভৌমিকের বাড়িতে এই হামলার ঘ্টনা ঘটে। হামলাকারীরা এ সময় ওই বাড়িতে মনসা মন্দিরের নির্মাণাধীন মনসা প্রতিমা ভাঙচুর ও ২ নারীকে আহত করে বাড়িতে তিনটি সাইন বোর্ড টাঙ্গিয়ে দেয়।

রতন ভৌমিক জানান. গৌরনদী পৌরসভার দক্ষিণ  বিজয়পুর এলাকায় তার পৈত্রিক বাড়ির ২ একর ৭৭ শতক জমি স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ফিরোজ আহম্মেদ ও তার স্বজনরা  দাবি করে আসছেন। এ নিয়ে বরিশাল আদালতে দেওয়ানি  মোকদ্দমা  বিচারাধীন রয়েছে।

রবিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাড়ির জমিজমা দখলের উদ্দেশ্যে পৌর কাউন্সিলর ফিরোজের নেতৃত্বে ৮/১০ জনের একটি দল তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে শাশুরি তুলসী সাহা. ফুপু মায়া পোদ্দারকে মারধর করে। এ সময় হামলাকারীরা মনসা মন্দিরে নির্মাণাধীন মনসা প্রতিমাও ভাঙচুর করে। হামলাকারীরা বাড়ির জমি দাবি করে গাছের সঙ্গে তিনটি সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে দেয়।

হামলা ও ভাঙচুরের খবর পেয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে  গৌরনদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পালিয়ে যান  হামলাকারীরা। পরে গৌরনদী পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারিছুর রহমান, ওসি আবুল কালাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। খবর পেয়ে ওইদিন রাতেই জেলা পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ ব্যাপারে হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে পৌর কাউন্সিলর যুবলীগ নেতা ফিরোজ আহম্মেদ বলেন. আমার পিতা নিলাম সূত্রে ওই সম্পত্তির মালিক। আমাদের হয়রানি করার জন্য রতন ভৌমিক এ নাটক সাজিয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম জানান, এ ঘটনায় রতন ভৌমিক বাদি হয়ে ফিরোজ রহমানের সহোদর নজরুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলামের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৮ জনকে আসামি করে ওই রাতেই গৌরনদী থানায় মামলা দায়ের করেন।

জেলা পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্লাহ জানান, হামলাকারী যেই হোক না কেন প্রকৃত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
  - See more at: http://www.kalerkantho.com/online/country-news/2013/11/25/24569#sthash.lb6EnvUS.dpuf