Friday, 1 November 2013

বিডিনিউজের সম্পাদক সুবীর ভৌমিকের নিবন্ধ : আ.লীগকে ক্ষমতায় আনতে ভারতের সামরিক হস্তক্ষেপের সুপারিশ

‘ভারতের বন্ধু’ আওয়ামী লীগকে ফের ক্ষমতায় আনতে ‘অবশ্যই সবকিছু করার’ সুপারিশ করেছে আওয়ামীপন্থি অনলাইন নিউজপোর্টাল বিডিনিউজের সিনিয়র এডিটর ও বিবিসির সাবেক সংবাদদাতা সুবীর ভৌমিক। বাংলাদেশ আবার ১৯৭১ সাল পূর্ব অবস্থায় ফিরে যেতে পারে আশঙ্কা করে তিনি প্রয়োজনে ভারতীয় ‘সামরিক হস্তক্ষেপের’ সুপারিশ করেছেন।
গতকাল টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এসব মন্তব্য করেছেন।
‘বাংলাদেশ ইন এ ভায়োলেন্ট ফেস অ্যান্ড ইন্ডিয়া মাস্ট ডু অল ইট ক্যান টু সি এ ফ্রেন্ডলি রেজিউম রিটার্ন টু পাওয়ার (সহিংস ধাপে বাংলাদেশ এবং বন্ধু সরকারকে ক্ষমতায় ফেরাতে ভারতের যা করা সম্ভব তার সবকিছুই করতে হবে)’ শিরোনামে প্রকাশিত নিবন্ধে আরও বলা হয়, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মতো আচরণ করছেন।

ভারতীয় নাগরিক সুবীর ভৌমিকের ওই নিবন্ধে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ যেহেতু বিশৃঙ্খলায় নিপতিত হয়েছে তাই ভারত তার পূর্ব ও উত্তর পূর্বাঞ্চল নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। ভারতের এই অঞ্চলগুলোতে স্বাধীনতা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছে। কাজেই ভারত চায় না ঢাকায় কোনো বৈরি সরকার থাকুক। অবস্থা কার্যত ১৯৭১ সাল পূর্ব সময়ের দিকে গড়াচ্ছে যখন বাঙালি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থনে ভারতে পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছিল।’
এরপর নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, ‘(১৯৭১ সাল থেকে) এখন একমাত্র পার্থক্য যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে চীনের বন্ধুসুলভ আচরণ এবং এটাই ভারতের পক্ষে বাস্তবভিত্তিক বিকল্প। দিল্লি দেখাতে চাইছে যে তারা কারও প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবে না এবং সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে চীনের সঙ্গে ভারসাম্যমূলক নীতি নিয়ে এগোবে।’
ভারতে ড্যান মজীনার সম্প্রতি সফরের কথা উল্লেখ করে নিবন্ধে বলা হয়, ‘ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় ভারতীয় কূটনীতিকরা সাংবাদিকদের বলছেন যে, ‘মজীনা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মতো আচরণ করছেন।’
ভারতীয় কূটনীতিকরা বলছেন, তিনি (মজীনা) বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে সবকিছুই করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের উত্সাহে চরমপন্থি জামায়াতকে নিয়ে খালেদা জিয়া রাজপথে সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে হাসিনার পতন ঘটাতে চান।’
নিবন্ধে বলা হয়, কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় এবং চীনকে ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। বিএনপির ব্যাপারে ভারতের বিতৃষ্ণা রয়েছে। দিল্লির আসল মাথাব্যথা জামায়াত ও হেফাজতে ইসলামকে নিয়ে।
ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে দিল্লির শঙ্কিত হওয়ার যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে। ভারতের ধারণ, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকার সময় বাংলাদেশে যে ইসলামী মৌলবাদের বিস্তার ঘটেছিল সে ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র উদাসীন এবং এভাবে দেশটি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নিশানা দুর্বল করে ফেলেছে।
নিবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের পথ ভিন্ন হয়ে গেলেও চীনের অবস্থানকে ‘গঠনমূলক’ হিসেবে দেখছে দিল্লি। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জুন তিনবার বিবৃতি দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চীন সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করতে চাইলে ভারত তাকে স্বাগত জানাচ্ছে।