Tuesday, 12 November 2013

১০ হাজার মেগাওয়াটের হিসাব মিলছে না

সরকার ‘১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জন’-এর সাফল্য উদ্যাপন করলেও তার হিসাব মিলছে না। সরকারি হিসাবপত্র অনুযায়ী ১০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা অর্জন এখনো অনেক দূরের ব্যাপার। এমনকি এখন পর্যন্ত ১০ হাজার মেগাওয়াটের স্থাপিত ক্ষমতাও অর্জিত হয়নি।
বিদ্যুৎ উৎপাদন বিষয়ে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের কয়েকজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ১০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা অর্জনের অর্থ—প্রয়োজনে এই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। কিন্তু সে ক্ষমতা অর্জিত হয়নি। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে গত ১২ জুলাই রাত আটটায়—ছয় হাজার ৬৭৫ মেগাওয়াট। এরপর চাহিদা বেশি থাকলেও সর্বোচ্চ উৎপাদন ছয় হাজার মেগাওয়াটের মধ্যেই সীমিত ছিল। এমনকি ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হওয়ার পরও।

এরপর আসে দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর স্থাপিত ক্ষমতার হিসাব। স্থাপিত ক্ষমতা হলো, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সময় সেটির সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা। প্রতিটি কেন্দ্রের স্থাপিত ক্ষমতা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে। প্রতিবছর বা কয়েক বছর পর পর কমে গিয়ে একেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের যে সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা থাকে তাকে বলা হয় ‘ডিরেটেড ক্যাপাসিটি’।
বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের আমলে স্থাপিত ৫৭টিসহ দেশে এখন বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ৮৪টি। এই কেন্দ্রগুলোর সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়িয়েছে নয় হাজার ৭১৩ মেগাওয়াট। এর সঙ্গে ভারত থেকে আমদানি করা ৫০০ মেগাওয়াট যুক্ত করলে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দাঁড়ায় ১০ হাজার ২১৩ মেগাওয়াট। কিন্তু ভারত থেকে গতকাল পর্যন্ত প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি হয়েছে। কাজেই বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাবটি চূড়ান্ত ধরলেও সর্বোচ্চ ক্ষমতা দাঁড়ায় নয় হাজার ৮৮৩ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের হিসাবে বর্তমানে স্থাপিত কেন্দ্রগুলোর ‘ডিরেটেড ক্যাপাসিটি’ নয় হাজার ৫৯৯ মেগাওয়াট। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন কখনোই সম্ভব হয় না। কারিগরি কারণে সব সময়ই কোনো না কোনো কেন্দ্র বন্ধ থাকে। কিছু কেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতেও রাখতে হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় না নিলেও নয় হাজার ৫৯৯ মেগাওয়াটের সঙ্গে ভারত থেকে আমদানি করা ১৭০ মেগাওয়াট যুক্ত করলে মোট ক্ষমতা দাঁড়ায় নয় হাজার ৭৬৯ মেগাওয়াট।
তবে পিডিবি কিংবা বিদ্যুৎ বিভাগ উৎপাদন ক্ষমতার যে হিসাব দেখাচ্ছে, তাতে ভাড়াভিত্তিক খুলনা ৪০ ও ঠাকুরগাঁও ৪৭ মেগাওয়াট এবং দ্রুত ভাড়াভিত্তিক খুলনা ৫৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রগুলোও ধরা হয়েছে। কিন্তু এই কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সরকারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং কেন্দ্রগুলো বর্তমানে বন্ধ আছে। তাই এগুলো হিসাবে নেওয়া সমীচীন নয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বর্তমান সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতে রেকর্ড পরিমাণ অগ্রগতি হয়েছে। মোট চার হাজার ৭৭১ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫৭টি নতুন কেন্দ্র উৎপাদনে এসেছে। আরও ছয় হাজার ৪৭১ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩৩টি কেন্দ্র নির্মাণাধীন আছে।
এই বছরের মধ্যে আরও প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। কাজেই ১০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা উদ্যাপনে তাড়াহুড়া করার কোনো দরকার ছিল না বলে কর্মকর্তাদের অভিমত।