Monday, 4 November 2013

চট্টগ্রামে পুলিশ খুন : ১১ যুবলীগ ক্যাডারের বিরুদ্ধে মামলা ৪ জনকে গ্রেফতারের পর ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ

চট্টগ্রামে পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ১১ যুবলীগ ক্যাডারের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার ২ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে ঘটনার পর জিলাপির পাহাড়ে ব্লক রেইড দিয়ে চার যুবলীগ ক্যাডারকে আটক করা হলেও গত রোববার রাতেই সরকারের শীর্ষ মহলের চাপে পুলিশ তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। 
উল্লেখ্য, গত রোববার সকালে বাটালি হিল ও জিলাপির পাহাড় এলাকায় ডিআইজির বাংলোর পাশে পিডব্লিউ কলোনির মাঠে চার পুলিশ কনস্টেবলের ওপর হামলা চালায় যুবলীগ আশ্রিত একদল সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসীরা পুলিশ সদস্যদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। ঘটনাস্থলেই কনস্টেবল মো. আবদুল কাইয়ুম (২৬) মারা যায়। সালাহউদ্দিন, আরিফুল ইসলাম ও সাহাব উদ্দিনকে মারাত্মক আহত অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনার পর গত রোববার রাতে ১১ যুবলীগ ক্যাডারের নাম উল্লেখ করে মামলা করে পুলিশ।
ডিআইজির বাসভবনের গার্ড ইনচার্জ আর্মড এএসআই মো. আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
খুলশি থানা পুলিশ জানায়, পুলিশ কনস্টেবলদের ওপর হামলা ও একজনকে খুনের ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারে আমবাগন ও টাইগারপাস এলাকায় যুবলীগের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত সুমন, রাসেল, মিন্টু ওরফে মিল্টন, বাবলু ওরফে বাবুল, হাসান, নিজাম, সোহেল, তপন চন্দ্র নাথ, নুরুল আলম, জাহেদ এবং হারুনুর রশিদের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্তরা সবাই টাইগারপাস, আমবাগান রেলওয়ে কলোনিসহ আশপাশের এলাকায় দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী এবং যুবলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত। নগর যুবলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণও করে থাকে। তবে মামলার এজাহারে আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় লেখা নেই।
সূত্র জানায়, ঘটনার পর গত রোববার দুপুরে এবং গভীর রাত পর্যন্ত বাটালি পাহাড়, জিলাপির পাহাড় তত্সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহাভুক্ত চার সন্ত্রাসীকে আটক করা হলেও রাতেই তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারের দুই মন্ত্রী ও নগর আওয়ামী লীগের এক শীর্ষনেতার চাপে পুলিশ তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। আটক চারজনকে ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে খুলশি থানার ওসি মাঈনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, অপরাধীরা পালিয়ে থাকতে পারবে না। তাদের অবস্থানের বিষয়ে কিছু তথ্য আমরা পেয়েছি। তারা দ্রুত গ্রেফতার হবে।