Monday, 10 June 2013

শুল্ক ছাড়াই বাংলাদেশ দিয়ে পণ্য পরিবহন শুরু করল ভারত


ভারতের অভ্যন্তরীণ নৌপথ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বিশ্বপতি ত্রিবেদী গত শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গে বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্সের এক সেমিনারে বলেন, বাংলাদেশের ওপর দিয়ে পণ্য পরিবহন দুই দেশের জন্যই উইন-উইন অবস্থান সৃষ্টি করবে। এর মাধ্যমে দুর্গম উত্তর-পূর্বাঞ্চলে খাদ্যশস্য সরবরাহে ভারতের খরচ অনেক কমে আসবে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ খাত এ পণ্য পরিবহন করে অর্থ আয় করতে পারবে। কারণ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশী সব বাহনেই এ পণ্য পরিবহন করা হবে। প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য পরিবহনের পরিকল্পনার কথাও সেমিনারে জানান ত্রিবেদী।বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ত্রিপুরা রাজ্যে পণ্য পরিবহন শুরু করেছে ভারত। বাংলাদেশের কাছ থেকে অনুমতি পেয়ে কলকাতার হলদিয়া বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে একটি জাহাজ রওনা হয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নদীপথ হয়ে জাহাজটি আশুগঞ্জ বন্দরে এসে পৌঁছবে। এরপর ট্রাকে তা আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে চলে যাবে।
এদিকে গত মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করেই ভারতকে খাদ্যপণ্য পরিবহনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। তবে এজন্য বেশকিছু শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে, যা পরে জানানো হবে।
এটি ট্রানজিটের আওতায় পণ্য পরিবহন কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগের কর্মকর্তা জানান, এটি ট্রানজিটের আওতায় পণ্য পরিবহন নয়। মানবিক দিক বিবেচনা করেই একবারের জন্য ১০ হাজার টন পণ্য পরিবহনের অনুমতি দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।
এক্ষেত্রে বাংলাদেশের নৌপথ দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পণ্য পরিবহন করবে দেশটি। পণ্য পরিবহন হবে বাংলাদেশের লাইটারেজ বা উপকূলীয় জাহাজের মাধ্যমে। এসব জাহাজ জ্বালানি সংগ্রহ করবে বাংলাদেশ থেকে। এর মাধ্যমে জ্বালানিতে দেয়া সরকারের ভর্তুকির পরোক্ষ সুবিধা পাবে ভারত।
বিষয়টিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেন, ‘নৌ-প্রটোকল চুক্তির আওতায় পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বেশি দেখানো হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের পরিবহন খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। কিন্তু এ চুক্তি করার সময় জ্বালানিতে ভর্তুকির বিষয়টি মাথায় রাখা হয়নি। এছাড়া অবকাঠামোগত দিক বিবেচনা করলেও ট্রানজিটের জন্য এখনো প্রস্তুত নই আমরা।’
এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিশেষ বিবেচনায় পণ্য পরিবহনের অনুমতি না দিয়ে উচিত হবে সবকিছু নির্ধারণ করে একটি চুক্তির মাধ্যমে বিষয়টি নির্ধারণ করা। এতে পণ্য পরিবহনে ভারতকেও কোনো অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হবে না। বাংলাদেশও তার ন্যায্য দাবি করতে পারবে। ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্টের যাবতীয় জটিলতা নিরসনে সব ইস্যু টেনে একটি রেল, সড়ক ও নৌপথের সমন্বিত চুক্তি দরকার। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার পুরো সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ই লাভবান হতে পারবে।
২০১২ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার নৌ-প্রটোকলে কিছু পরিবর্তন এনে তা নবায়ন করা হয়। বাংলাদেশের নৌপথে অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আগে ৫ কোটি টাকা  দেয়া হলেও এখন দেয়া হবে ১০ কোটি। নৌ-বাণিজ্য প্রটোকলের মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে ২০১৪ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের জুন থেকেই ত্রিপুরা রাজ্যে খাদ্য পাঠানোর অনুমতি চেয়ে আসছে ফুড করপোরেশন অব ইন্ডিয়া (এফসিএ)।