Wednesday, 22 May 2013

লেজুড়বৃত্তির মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে গ্রাস করছে কমিউনিস্টরা


দেশের বামপন্থীরা এখন আওয়ামী লীগের চাটুকারিতা এবং লেজুড়বৃত্তিতে ব্যস্ত। ক্ষমতাসীন মহাজোটের শরিক ১৪ দলের নেতাদের পাশাপাশি এই লেজুড়বৃত্তিতে যোগ দিয়েছেন জোটের বাইরের বাম দলগুলোর নেতারাও। অন্যদিকে বামপন্থীদের একটি বড় অংশ সরাসরি আওয়ামী লীগে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীন মহাজোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন শেখ হাসিনার বিগত শাসনামলকে ‘দুঃশাসন’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। বর্তমানে তিনি সেই আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের একজন অংশীদার এবং তিনি এখন বর্তমান সরকার ও আওয়ামী লীগের ‘আম’ আর ‘ছালা’ রক্ষায় ব্যস্ত। নিজ দল ওয়ার্কার্স পার্টির কথা তার মুখে এখন আর বড় বেশি শোনা যায় না। আওয়ামী লীগের চাটুকারিতায় পিছিয়ে নেই ক্ষমতাসীন মহাজোটের আরেক শরিক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। স্বাধীনতা-পরবর্তী শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার উত্খাতে গঠিত গণবাহিনীর প্রধান ছিলেন এই হাসানুল হক ইনু। আর গত মঙ্গলবার এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত সবাইকে ধানের শীষ বাক্সবন্দি করে নৌকা আরও সচল করার আহ্বান জানিয়েছেন। ভাবখানা এমন যে, তার চেয়ে বড় আওয়ামী লীগার আর নেই। তিনি যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি এবং তাদের দলীয় প্রতীক যে ‘মশাল’—এ কথাটি এখন হয়তো ভুলেই গেছেন। মহাজোটের আরেক শরিক সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার কথা বলাই বাহুল্য। ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছিল দিলীপ বড়ুয়ার সাম্যবাদী দল। সেই দিলীপ বড়ুয়া এখন অবিরাম গেয়ে চলেছেন ‘শেখ মুজিবুর রহমান’ এবং ‘শেখ হাসিনা’র গুণগান।
তবে নানারকম চাটুকারিতা ও লেজুড়বৃত্তির মাধ্যমের সুকৌশলে আওয়ামী লীগের কাঁধে ভর করে মহাজোটের বাইরের বামপন্থী, মহাজোটবদ্ধ বামপন্থী এবং আওয়ামী লীগ দলীয় বামরা তাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির নাস্তিক্যবাদী এবং অশ্লীলতাবাদী দর্শন গোটা দেশ ও জাতির কাঁধে চাপিয়ে দিচ্ছে এবং আওয়ামী লীগকে গ্রাস করছে। কমিউনিস্ট ভূতদের জন্যই সংবিধান থেকে সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহপাকের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস বাক্যাবলী উঠে গেছে। বামপন্থী শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষানীতিকে সম্পূর্ণ পবিত্র দীনইসলামবিরোধী করেছেন। বামপন্থীদের কারণে দেশে পবিত্র দীনইসলামবিরোধী সংস্কৃতি আধিপত্য লাভ করেছে। বর্তমানে দেশের সার্বিক রাজনীতিতে যে জটিল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, এর জন্যও দায়ী আওয়ামী লীগের চালিকাশক্তি কমিউনিস্টরা। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী শ্রতিশ্রুতি ছিল—‘পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন পাস হবে না’। মহাজোট মন্ত্রিসভায় বাম নেতাদেরই আধিক্য দেয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোও তাদের কব্জায়। বামপন্থীদের ভাষায় ‘কক্ষচ্যুত’ সাবেক বাম নেতারা দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও শরীর থেকে ‘বামপন্থী’ খোলস খসাতে পারেননি। এসব নেতা এখনও আওয়ামী লীগের মূলস্রোতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে একাকার হতে পারেননি।
শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া বামপন্থীরা হলেন—আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, দফতরবিহীন মন্ত্রী (সাবেক রেলমন্ত্রী) সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ.ফ.ম. রুুহুল হক, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, পূর্তমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনিসহ আরও ক’জন মন্ত্রী ছাত্রজীবনে বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও শোনা যায়।
আবুল মাল আবদুল মুহিত : আবুল মাল আবদুল মুহিত ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এক সময়ের বামপন্থী আবুল মাল আবদুল মুহিত এখন মহাজোট সরকারের অর্থমন্ত্রী। কর্মজীবনে তিনি বিদেশে বড় বড় প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি করলেও সামরিক স্বৈরাচার হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে তিনি পুনরায় রাজনীতিতে ফিরে আসেন এবং এরশাদের মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান। সামরিক স্বৈরাচারী এরশাদের মন্ত্রিসভা থেকে বিদায়ের পর আবার বিদেশ চলে যান। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর আওয়ামী লীগে যোগদান করে নবম জাতীয় সংসদে সিলেট-১ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। বয়সের ভারে ন্যুব্জ আবুল মাল আবদুল মুহিত মহাজোট সরকারের অর্থমন্ত্রী হন। অপ্রীতিকর কথাবার্তা বলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা এবং বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি। শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির পর তিনি শেয়ারবাজারকে ‘ফটকাবাজার’ এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ‘ফড়িয়া’ হিসেবে অভিহিত করে বিতর্কের সৃষ্টি করেন। সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারি নিয়ে সরকার যখন প্রচণ্ড চাপের মুখে, তখন অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি ‘চার হাজার কোটি টাকা’ কোনো টাকাই নয় বলে মন্তব্য করেন। পদ্মা সেতু নিয়ে একেক সময় একেক ধরনের কথা বললেও ঢাকায় অবস্থানরত বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধির একটি মন্তব্যকে ‘ফোপড় দালালি’ হিসেবে অভিহিত করে সমালোচনার ঝড় তোলেন।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত : ন্যাপের সুরঞ্জিত হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বর্তমান সরকারের দফতরবিহীন মন্ত্রী (সাবেক রেলমন্ত্রী)। ’৯০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি গণতন্ত্রী পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ’৯৬ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও বিএনপির বর্জনের মধ্যে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে বিজয়ী হন তিনি। অতঃপর তাকে প্রধানমন্ত্রীর সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়। বর্তমানে দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত তখন সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে সংসদীয় বিশেষ কমিটির প্রো-চেয়ারম্যান ছিলেন। তার আগে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালের শেষদিকে মন্ত্রী হয়ে রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর ঘোষণা দেন তিনি রেলের ‘কালো বিড়াল’ ধরবেন। কালো বিড়াল রেলে বাসা বেঁধে থাকায় দুর্নীতি হচ্ছে এবং রেল ধীরে ধীরে সঙ্কুচিত হচ্ছে। ঘোষণার ৫ মাস পর ৯ এপ্রিল পিলখানা এলাকায় মধ্যরাতে ৭০ লাখ টাকাসহ সুরঞ্জিতের পিএস ফারুক ধরা পড়েন বিজিবির হাতে। ঘটনার পর সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। বর্তমানে তিনি দলের মধ্যে ‘চোর দাদা’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। কিন্তু তাতে তিনি দমে যাননি। দলের পক্ষে অবিরাম চাটুকারী করে যাচ্ছেন।
দিলীপ বড়ুয়া : প্রথম জীবনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছিল বর্তমান শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার। আর পরবর্তীকালে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পেয়েছিলেন ২৫২টি ভোট। সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক চীনপন্থী দিলীপ বড়ুয়াকে এবারের সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হয়নি। ১৪ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে অন্যরা যখন মনোনয়ন নিয়ে ব্যস্ত, তখন দিলীপ বড়ুয়া নীরব ছিলেন। নির্বাচনে মহাজোটের বিজয়ের পর তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। দিলীপ বড়ুয়ার সাম্যবাদী দল বাংলাদেশের স্থপতি রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিব হত্যাকে স্বাগত জানিয়েছিল। জেনারেল জিয়াকে সমর্থন দিয়ে দিলীপ বড়ুয়ার নেতা মোহাম্মদ তোয়াহাও এমপি হয়েছিলেন।
নুরুল ইসলাম নাহিদ : ’৭০-এর দশকে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। ’৯০ দশকের প্রথমার্ধে ইলিয়েত্ সিনের পেরেসত্রোইকা গ্লাসনস্ত থিউরি কার্যকরের সময় বিশ্বব্যাপী কমিউনিস্ট পতনের ঢেউ ওঠে। সে ঢেউ এ জনপদে এসে পৌঁছলে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিও (সিপিবি) বিভক্ত হয়ে পড়ে। সে সঙ্কটের মুখে সিপিবি কয়েকভাবে বিভক্ত হয়ে যায়। একেকজন একেক দলে গেলেও সিপিবি’র তত্কালীন সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নাহিদ আওয়ামী লীগে ঠাঁই নেন। আওয়ামী লীগের শিক্ষা সম্পাদক নুরুল ইসলাম নাহিদ ’৯৬ সালের নির্বাচনে এমপি হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর মহাজোট সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তার ব্যক্তিগত থেকে শুরু করে সরকারি পিএস-এপিএসও ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী বলে জানা যায়— সবকিছুতেই তিনি ছাত্র ইউনিয়ন খোঁজেন । মহাজোট সরকারের ‘সফল’ মন্ত্রীদের তালিকায় সবার আগে তার নাম রয়েছে।
বেগম মতিয়া চৌধুরী : আওয়ামী লীগ বিরোধী বক্তব্যের কারণে মতিয়া চৌধুরী এক সময় অগ্নিকন্যা নামে খ্যাতি লাভ করেন। এক সময় ‘শেখ মুজিবুর রহমানের চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বানানোর’ স্লোগান দিয়ে রাজপথ কাঁপিয়েছেন তিনি। ন্যাপ নেত্রী মতিয়া আওয়ামী লীগের বাইরে কখনোই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝুঁকি নেননি। নৌকায় চড়ার কারণেই তিনি এমপি-মন্ত্রী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। শুধু তাই নয়, বামদের রাজত্ব কায়েমে তার পুরনো সহকর্মী মিত্রদের আওয়ামী লীগে ও সরকারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পাইয়ে দিতেও কার্পণ্য করেননি। মতিয়া চৌধুরী বর্তমানে আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সরকারের কৃষিমন্ত্রী। ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম আবদুর রাজ্জাকের হাত ধরে আওয়ামী লীগে প্রবেশের পর রাতারাতি শেখ হাসিনা বন্দনায় নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন বেগম মতিয়া চৌধুরী। পাশাপাশি বাম ধারা থেকে কক্ষচ্যুত নেতাদের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান করে দেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। আর ওয়ান-ইলেভেন সংঘটিত হলে এই মতিয়াই শেখ হাসিনার অবর্তমানে বিশেষ মহলের ইন্ধনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাসানুল হক ইনু : জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ছাত্রলীগের রাজনীতি করলেও শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে জাসদ প্রতিষ্ঠা হলে তিনি জাসদে যোগ দেন। ওই সময় মুজিব সরকার উত্খাতে গঠিত গণবাহিনীর প্রধান ছিলেন হাসানুল হক ইনু। দীর্ঘদিন জাসদের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করার পর গত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকায় চড়ে এমপি হয়েছেন। প্রায় সাড়ে তিন বছর সরকারের বাইরে থাকলেও তিনি সরকারের শেষ সময়ে মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি মহাজোট সরকারের তথ্যমন্ত্রী।
ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ : ছাত্র ইউনিয়নের নেতা আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত। ১/১১ পর আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর মামলাগুলো আইনজীবী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর মামলা পরিচালনার পুরস্কার হিসেবে তাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। তারই কারণে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি’ ইস্যুর সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের রায়ের পর সরকার সংবিধান সংশোধনের জন্য যে কমিটি গঠন করে— ওই কমিটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী, আইন বিশেষজ্ঞ এবং প্রবীণ আইনজীবীদের সঙ্গে সংলাপ করেন। সবাই আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আরও দুটি জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার ব্যাপারে অভিমত দেন। সেভাবেই ওই কমিটি একটি প্রস্তাবনা রিপোর্ট জমা দেয়। কিন্তু হঠাত্ করে সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করার জন্য সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেয়। সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাদ দিয়ে বর্তমান বিতর্কের পেছনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের রয়েছে বিশেষ ভূমিকা।
আ ফ ম রুহুল হক : ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক সরকারি চাকরি করতেন। চাকরি চলে যাওয়ার পর নিজেই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘদিন রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও ১/১১ পর তার ভাগ্য খুলে যায়। আওয়ামী লীগের নমিনেশন পেয়ে সাতক্ষীরা থেকে এমপি নির্বাচিত হন এবং মন্ত্রিসভায় যোগ দেন।
শাজাহান খান : এক সময়ে ছাত্রলীগ করলেও শ্রমিক নেতা হিসেবে বেশ পরিচিত শাজাহান খান। শেখ মুজিবুর রহমানে সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণার মাধ্যমে জাসদ প্রতিষ্ঠা হলে তিনি জাসদে যোদ দেন। রাজনীতির কারণে নিজের বাবার সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়া শাজাহান খান দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত। ২০০১ সালের নির্বাচনের সময় দলীয় নমিনেশন পেতে ব্যর্থ হয়ে বিএনপিতে যোগদানের জন্য খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গেলে পথ থেকেই আওয়ামী লীগের এক নেতা তাকে ফিরিয়ে এনে দলীয় নমিনেশন দেন। তারপর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নবম জাতীয় সংসদে এমপি হওয়ার পর মহাজোট সরকারের শাসনামলের প্রথম দুই বছর সরকারের বাইরে ছিলেন। তারপর মন্ত্রী হিসেবে যোগদান করে ব্যাপক আলোচনার ঝড় তোলেন। মন্ত্রী হয়েও শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের মতো আচরণ করেন। তিনি দুর্ঘটনা ঠেকাতে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বাসের ড্রাইভারদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সমালোচিত হন। গত দুই বছরে তিনি অপ্রীতিকর কথাবার্তার কারণে সমালোচিত হন। সম্প্রতি টেলিভিশনের লাইভ শোতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যরিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার চোখ তুলে নেয়ার হুমকি দিয়ে বিতর্কের ঝড় তোলেন। বর্তমানে তিনি মহাজোট সরকারের নৌমন্ত্রী।
অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান : স্বাধীনতা-উত্তর ছাত্র ইউনিয়নের আরেক সভাপতি আবদুল মান্নান খান বর্তমানে সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক। বাম নেতা হিসেবে পরিচিত আবদুল মান্নান আওয়ামী লীগে যোগদান করে দীর্ঘদিন দলের দফতর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ’৯০ এর পর প্রতিটি নির্বাচনে পরাজিত হলেও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন।
ইফাফেস ওসমান : প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন নেতা ইয়াফেস ওসমান বর্তমান সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী । পেশায় স্থপতি ইয়াফেস ওসমান একজন ছড়াকার। তিনি মরহুম সাহিত্যিক শওকত ওসমানের ছেলে।
নূহ উল আলম লেনিন : স্বাধীনতা-উত্তর ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূহ উল আলম লেনিন বর্তমানে আওয়ামী লীগে প্রেসিডিয়াম সদস্য। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ভাগ হওয়ার পর আওয়ামী লীগে যোগ দেন তিনি। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক ছিলেন। দলীয় নমিনেশন না পেলেও মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার জমিদার যদুনাথ রায়ের ভাগ্যকূল, রাঢ়িখাল ও শ্যামসিদ্ধ ইউনিয়নের বিপুল পরিমাণ জমি দখল করেন বলে তার বিরুদ্ধে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল হয়। এ নিয়ে পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলাও করেন। ব্যাপকভাবে আলোচিত-সমালোচিত হলেও আওয়ামী লীগের এবারের জাতীয় কাউন্সিলে তিনি প্রেসিডিয়ামের সদস্য নির্বাচিত হন।