Wednesday, 15 May 2013

৬ মে রাতের প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা : কোরআন পোড়ানো ও বইয়ের দোকানে আগুন দেয় আ.লীগ ক্যাডাররা

৬ মে রাত আনুমানিক দেড়টা থেকে ২টা। মতিঝিল এলাকায় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের ওপর চলছিল আইনশৃঙ্খলা ক্ষাকারী বাহিনীর বিক্ষিপ্ত অ্যাকশন। প্রাণভয়ে ছোটাছুটি করছিলেন নিরীহ আলেম ও ধর্মপ্রাণ মানুষ। ঠিক সে সময় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটের কর্নারে আওয়ামী লীগের শত শত কর্মী জড়ো হয়ে হেফাজতবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিল। একপর্যায়ে তাদের হাতে থাকা পেট্রল ও মশালের মতো লম্বা লাঠির মাথায় আগুনের কুণ্ডলী দিয়ে বায়তুল মোকাররম মার্কেটের ফুটপাতের দোকানগুলোয় আগুন লাগানো শুরু করে। মার্কেটের দক্ষিণ কর্নার থেকে শুরু করে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পল্টনের সিপিবির অফিস পর্যন্ত বই ও অন্যান্য ছোট দোকানগুলোয় আগুন লাগিয়ে উত্সব করতে থাকে। এমনই বর্ণনা দেন ওই স্থানে থাকা হেফাজত-সমর্থক এক প্রত্যক্ষদর্শী।
রুহুল আমীন নামের ৪০ বছর বয়সী ওই হেফাজত-সমর্থক জানান, মতিঝিলে হেফাজতের সমাবেশে র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির অ্যাকশনের খবর পেয়ে সেখানে থাকা তার এক ছোট ভাইকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। মোবাইলে যোগাযোগ করে তিনি তাকে সাউথইস্ট ব্যাংকের কাছে আসতে বলে সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। হঠাত্ সেখানে পুলিশি অ্যাকশন শুরু হয়। দৌড়ে তিনি একটি গলিতে ঢুকে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। পুলিশ ও র্যাবের মুহুর্মুহু গুলির শব্দে তার প্রাণ যায় যায় অবস্থা। কিছুক্ষণ পর অ্যাকশন শেষ হলে সেখান থেকে বেরিয়ে দেখেন অসংখ্য হেফাজতকর্মীর নিথর দেহ পড়ে আছে। ওই অবস্থা থেকে দ্রুত তিনি গলির মধ্য থেকে বের হয়ে শিল্প ব্যাংকের পাশ দিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে চলে যাওয়া চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানেও শত শত পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তিনি পল্টন ময়দানের প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে যান। ১০-১৫ মিনিট পর পুলিশ সরে যাওয়ায় নিরাপদ মনে করে সেখান থেকে বেরিয়ে কিছু দূর যাওয়ার পরই তিন-চারজন পুলিশের কবলে পড়েন তিনি। অনিশ্চয়তার মধ্যেও প্রাণ বাঁচাতে পুলিশ সদস্যদের কাছে করুণার সুরে তিনি বলেন, তার ছোট ভাইকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, কোনো সাহায্য করতে পারবেন কি না। পুলিশ তাকে ছোট ভাইয়ের খোঁজ বাদ দিয়ে দ্রুত এই এলাকা থেকে চলে যেতে বলে। কোন দিকে যাব, এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ তাকে জানায়, বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটের দিকে পুলিশ নেই, ওই দিকে চলে যেতে। পুলিশের কথামতো তিনি সেদিকে যান। কিছু দূর যাওয়ার পর দেখতে পান, মসজিদের দক্ষিণ গেটের কর্নারে কয়েকশ আওয়ামী লীগের কর্মী অবস্থান নিয়ে জয়বাংলা স্লোগান দিচ্ছে। সেখান থেকেই ফুটপাতের দোকানগুলোয় আগুন দেয়া শুরু হয়। তাদের রোষানলে পড়ার ভয়ে ওই আওয়ামী কর্মীদের জটলার মধ্যেই হাঁটতে হাঁটতে সিপিবির অফিস মোড়ে চলে আসেন তিনি। পল্টন মোড়ের দিকে কোনো পুলিশ না দেখে তিনি দ্রুত ওই এলাকা দিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে সক্ষম হন।
আমার দেশকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে রুহুল আমীন আরও জানান, ওই রাতের কথা মনে হলেই অনেকটা বাকরুদ্ধ হয়ে যান তিনি। একপর্যায় বলেন, ঘটনার পর থেকে বেশ কিছুদিন স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারিনি। ঈমানি দাবি আদায়ে অবস্থানরত হেফাজতকর্মীদের ওপর সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারদলীয় ক্যাডারদের এ ধরনের বর্বর হামলা কল্পনাও করা যায় না। তিনি বলেন, ৬ মে রাতের ঘটনা নিজ চোখে কিছুটা দেখার পর সরকার ও মিডিয়ার অপপ্রচার দেখে আরও অবাক হই। কারণ, যে বইয়ের দোকান, কোরআন শরিফ ও অন্য জিনিসপত্র সরকারদলীয় কাড্যাররাই আগুন দিয়ে পুড়িয়ে উল্লাস করল, পরে সেই আগুনের দায় মজলুম হেফাজতকর্মীদের ওপরই চাপানো হয়েছে। এর চেয়ে জুলুম ও মিথ্যাচার আর কী হতে পারে? এসব অপপ্রচার দেখেই বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে সঠিক ঘটনা পত্রিকায় তুলে ধরতেই তিনি এই স্বেচ্ছায় এই সাক্ষাত্কার দেন বলেও উল্লেখ করেন।

http://www.amardeshonline.com/pages/details/2013/05/16/200280#.UZVIU6Jwqdw