Monday, 22 July 2013

বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ : ন্যায়বিচার নাকি নির্যাতন নিপীড়ন?

 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদকে অবশ্যই নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে যে, যুদ্ধাপরাধের বিচার থেকে প্রকৃতপক্ষে কি অর্জিত হবে। এই বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে বাংলাদেশের বিরোধী নেতারা ও মানবাধিকার কর্মীরা এরই মধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন। দ্য স্টেটসম্যান।
গত সপ্তাহে একটি আদালত (আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত) জামায়াতের একজন নেতাকে (সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ) মৃত্যুদ- দিয়েছে। এর দুইদিন আগে দলটির সাবেক প্রধানকে (গোলাম আযম) বুদ্ধিজীবী নির্যাতন থেকে শুরু করে গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে আজীবন কারাদ- দেয়া হয়।
জামায়াত ইসলামীর সাবেক প্রধান গোলাম আযমকে অভিযুক্ত করার পর ইসলামপন্থী দলটির সমর্থকদের প্রতিবাদ বিক্ষোভের সময় সংঘটিত সর্বশেষ সহিংসতায় কমপক্ষে ৫ জন নিহত হয়। বিচার কার্যক্রম এগিয়ে চলার সাথে সাথে এ রকম ধারণা এড়ানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে যে, বিচার প্রক্রিয়া একটি দলীয় চরিত্রের রূপ লাভ করেছে। যাদের বিচার চলছে তাদের মধ্যে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতারাও রয়েছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধের বিচারকে প্রহসন বলে উল্লেখ করেছেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, মূলত শাসক দল আওয়ামী লীগ বিরোধীদের হয়রানির জন্য আদালতকে ব্যবহার করছে।
আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনের ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধের বিচারকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। এতে সন্দেহ নেই নির্বাচনে জয়ী হতে তাদেরকে বিষয়টি অবশ্যই সহায়তা করেছে। কিন্তু এমন একটা সময় পুরনো ক্ষতকে নতুন করে খোঁচা দেয়া হলো যখন এমনিতেই দেশটি বেশ কিছু রাজনৈতিক সহিংসতার আবর্তে আটকে আছে। আর এসব সহিংসতায় বহু সংখ্যক মানুষ নিহত হলেও কারো মধ্যে রাজনৈতিক বোধোদয় হয়নি। ইসলামপন্থী এবং তাদের বিরোধীদের মধ্যকার মেরুকরণ খুব দ্রুত চরম নৈরাজ্যে রূপ নিতে পারে। আর শাহবাগ বিক্ষোভ যে এ রকম নৈরাজ্যে ইন্ধন যুগিয়েছে সেটা এতটাই সাম্প্রতিক যে কেউ ভুলে যায়নি। ১৯৭১ সালের গৃহযুদ্ধ ও সংঘটিত বর্বরতা নিঃসন্দেহে বেদনাদায়ক ঘটনা, তবে আওয়ামী লীগ সরকারের উচিত রাজনীতি ও আইনের অদ্ভুত মিশ্রণ ঘটিয়ে ঐ দুঃখজনক ঘটনা কাজে লাগানোর পরিবর্তে পুরনো ক্ষত সারিয়ে তোলা অভ্যন্তরীণ সমঝোতা অর্জনের চেষ্টা করা। বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে বাংলাদেশ নৈরাজ্যে নিমজ্জিত হতে পারে।