Saturday, 13 July 2013

অর্থমন্ত্রী আবুল মালের রাবিশ বোগাস ননসেন্স মন্তব্য সমূহ

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার বেফাঁস মন্তব্যের জন্য মশহুর। নিজ দলেই তিনি মহা বিড়ম্বনার কারণ। তার রাবিশ, বোগাস ও ননসেন্স প্রভৃতি মন্তব্য সারা দেশেই তুলেছিল আলোচনা ও কৌতুকের ঝড়। এজন্য দলের নেতাকর্মীরাও একদম ফেড আপ। শেয়ারবাজার থেকে যখন লাখ লাখ বিনিয়োগকারী সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব, অনেকেই আত্মহত্যা করছেন, তখন শেয়ারবাজার নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য—‘শেয়ার মার্কেটে কোনো ইনভেস্টর নেই, সব জুয়াড়ি, ফটকাবাজ,’ ‘অ্যাই অ্যাম একদম ফেডাপ...।’
শেয়ারবাজার থেকে যখন এক লাখ কোটি টাকারও বেশি কারসাজির মাধ্যমে লুট করে নেয়া হয়েছে, ওই সময় এমনই মন্তব্যকে বিনিয়োগকারীরা দেখেন নির্মম পরিহাস ও তুচ্ছতাচ্ছিল্যের ভাষা হিসেবে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরই অর্থমন্ত্রীর কাছ থেকে রাবিশ, বোগাস প্রভৃতি চটুল অনেক মন্তব্য শোনা গেছে। দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়েও তিনি উড়িয়ে দিয়েছেন ‘রাবিশ, বোগাস আর ননসেন্স’ বলে।
দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের ইতিহাসে সর্ববৃহত্ আর্থিক কেলেঙ্কারি সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারি সম্পর্কে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘চার হাজার কোটি টাকার জালিয়াতি বড় ঘটনা নয়।’ উল্টো হলমার্ককে আরও ঋণ দেয়ার পক্ষে ওকালতি করেন তিনি। হলমার্ক নিয়ে বেফাঁস মন্তব্যের জের হিসেবে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করেন। ওই পর্যায়ে তিনি তার ভুল স্বীকার করে বলেন, এ মুহূর্তে বোধ হয় আমি দেশের সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি। ২০১০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘নয় মাস ধরে সরকার থেকে পালানোর চেষ্টা করছি। চেষ্টা করছি সরকার থেকে বের হয়ে যাওয়ার। যদিও সেটা হলমার্ক বা ব্যর্থতার কারণে নয়, সেটা ছিল স্বাস্থ্যগত কারণে।’
এর পরই অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগের গুজব ওঠে। নিজের পদত্যাগ গুজব সম্পর্কে অপর এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, অনেকদিন থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি, কিন্তু চাইলে তো আর হয় না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেও আর মন্ত্রী হবেন না বলেও পরে অন্য এক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন তিনি।’
গত বছরের ১৩ জুন শেয়ারবাজারের দুষ্টচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আই অ্যাম একদম ফেড আপ। এর দু’দিন আগে জাতীয় সংসদে মন্ত্রী বলেন, শেয়ারবাজার দুষ্ট বাজার এবং এখানকার সবাই দুষ্ট। না হলে নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার পরও এই বাজারে মানুষজন কেন রয়েছে?
শেয়ারবাজার ধসের শুরুতে সংসদে অর্থমন্ত্রী শেয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের ফটকাবাজ শেয়ার ব্যবসাকে ফটকাবাজির কারবার বলেছিলেন। তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আমি শেয়ারবাজার বুঝি না।’ শেয়ার ব্যবসায়ীদের ফটকাবাজ বলা এবং আমি শেয়ার ব্যবসা বুঝি না, অর্থমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ দলীয় বেশ কয়েকজন এমপি প্রতিবাদ জানান ও বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান। আর গণমাধ্যমের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, অল আর রাবিশ।
গত বছরের ৮ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে তিনি নোবেলবিজয়ী ড. ইউনূসের সমালোচনা করে বলেন, দেশের একমাত্র সমস্যা ড. ইউনূস। তার কথায় সততা নেই। পরে তিনি আবার বলেছিলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংক সরকার দখল করে নিয়েছে’ বলে ড. ইউনূস যে মন্তব্য করেছেন, তা ‘টোটালি রাবিশ।’ নোবেলবিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন খোদ আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরাও। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলতে বাধ্য হয়েছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য দলের নয়, এটি তার ব্যক্তিগত বক্তব্য। এর আগে ২০১২ সালের ১১ নভেম্বর শহীদ নূর হোসেন দিবস পালন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত সভায় দলের নেতারা অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, মুহিত সাহেব এখন মহাজোট সরকারের ‘মহা বিড়ম্বনায়’ পরিণত হয়েছেন। এরপর গত ১০ নভেম্বর এক বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অমর্ত্য সেনের কাছে ক্ষমা চাই। ইউনূস বাংলাদেশের নয়নের মণি।’ ওই বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই তাকে (ইউনূস) নিয়ে গর্ববোধ করি। ব্যক্তিগতভাবে তাকে সম্মান করি। এর মাত্র দু’দিন আগে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘বহির্বিশ্বে দেশবিরোধী প্রচার চালাচ্ছেন ইউনূস।’
গত বছরের ৮ ডিসেম্বর পদ্মা সেতুর ঋণচুক্তি প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সম্পর্কে বিষোদ্গার করে তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের লোকজন ফোপর দালাল। তাদের কারণে ঋণচুক্তি বাতিল হয়েছে।’ গত ২৩ ডিসেম্বর বলেন, তিনি অর্থনীতির বিষয়ে সাংবাদিকদের ক্লাস নেবেন। এছাড়া সৈয়দ আবুল হোসেনকে বাদ দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা দায়ের করায় এর সমালোচনা করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিশেষজ্ঞরাই দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাদের চোখে দেশের কোনো উন্নতি হয়নি।’
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের ত্রাহি অবস্থা, বাজারে গিয়ে যখন মানুষের নাভিশ্বাস, ঠিক ওই সময় অর্থমন্ত্রী সাধারণ মানুষের সঙ্গে পরিহাস করে দ্রব্যমূল্য কমানোর ফর্মুলা হিসেবে বলেন, ‘এক দিন বাজারে না গেলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। সপ্তাহে এক দিন কম বাজারে যাবেন।’ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সম্পর্কে মানুষের সঙ্গে মসকরা করে তিনি আরও বলেছিলেন, জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও সমস্যা নেই, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে।
২০১০ সালের ২৪ জুলাই জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বাজেট বাস্তবায়ন ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল—ভারত থেকে ৮৫ শতাংশ পণ্য এবং সেবা ক্রয় করার শর্তে এক বিলিয়ন ডলার ঋণচুক্তির যৌক্তিকতা কী? জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা রাবিশ প্রশ্ন। তার পরও আমি বলছি, অতীতে পণ্য ও সেবা ক্রয় করার শর্তে বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশ ঋণ নিয়েছে।’ একই অনুষ্ঠানে খাদ্যদ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে জনসাধারণকে এক দিন বাজারে না যাওয়ার পরামর্শ দেন অর্থমন্ত্রী। ২০১০ সালের ৫ জুলাই উত্তেজিত কণ্ঠে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সিপিডির বক্তব্য রাবিশ, টোটালি রাবিশ। আমি খুবই দুঃখিত।’ একই বছর ১৭ আগস্ট অর্থমন্ত্রী এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘ট্রানজিটের বিরোধিতা যারা করে তারা ননসেন্স।’
এর আগে তিনি বাসাবাড়িতে গ্যাস সমস্যা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, ‘বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া উচিত। গত ২ জানুয়ারি অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থা নিয়ে জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদকে তিনি বলেন, ‘ইট বিলংস টু আবর্জনা।’
এদিকে দেশের গার্মেন্ট শিল্পের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ নির্মম ট্র্যাজেডি রানা প্লাজা ধস সম্পর্কেও বিরূপ মন্তব্য করেছেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি রানা প্লাজা ধসের পর গত ৩ মে দিল্লি সফর করে বলেন, সাভারের ভবন ধস ‘তেমন কিছু নয়।’ রানা প্লাজা ধসকে ‘সত্যিকারভাবে সিরিয়াস’ কিছু বলে মনে করেন না তিনি। মন্ত্রী আরও বলেন, এ বিপর্যয়ের কারণে দেশের রফতানি আয়ের সবচেয়ে বড় মাধ্যম গার্মেন্ট শিল্পের কোনো ক্ষতি হবে না। উল্লেখ্য, রানা প্লাজা ভবন ধসে নিহত হয়েছিল ১২০০-র বেশি শ্রমিক। ওই সময় মুহিত বলেন, বর্তমান অবস্থা একটু কঠিন, তবে আমার মনে হয় না, এটি সত্যিকারের মারাত্মক কোনো ব্যাপার। এটা একটা দুর্ঘটনা মাত্র। আমরা এমন দুর্ঘটনা না ঘটার জন্য যেসব পদক্ষেপ নিয়েছি, সেগুলো খুবই পর্যাপ্ত। আমি বিশ্বাস করি, এসব পদক্ষেপকে সবাই স্বাগত জানাবে।
অর্থমন্ত্রীর এসব মন্তব্যের কারণে খোদ সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ। বর্তমান সরকারের সাড়ে চার বছরেও পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করতে না পেরে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছেন, ‘এককথায় বলতে পারি, অর্থমন্ত্রীর অবাস্তব অবস্থানই সময়মতো পদ্মার সেতুর মূল কাজ শুরু করার ব্যাপারে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি শুক্রবার ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায়, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক ও বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, অর্থমন্ত্রী মাঝে মাঝেই কিছু কথা সুয়িপিং রিমার্কস করেন। যেটা দেশের মানুষকে হতাশ করে। আমাদের মতো ব্যক্তিদের ভেবেচিন্তে দায়িত্বশীল মন্তব্য করা উচিত। পদ্মা সেতুতে রাশিয়া ও চীনের প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, তাদের প্রস্তাব দেয়ার এক দিন যেতে না যেতে অর্থমন্ত্রীর এ ধরনের মন্তব্য জনগণকে হতাশ করেছে। আমাদের মতো ব্যক্তিদের আগেপিছে ভেবে দায়িত্বশীল মন্তব্য করা উচিত। অর্থমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে যোগাযোগমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি লেখাপড়া জানা মানুষ। এক দিন যখন তিনি আত্মজীবনী লিখবেন, তখন তিনি স্বীকার করবেন তার অবাস্তব অবস্থানের কারণেই পদ্মার মূল সেতুর কাজ সময়মতো শুরু করা যায়নি।
চলতি বছরের ২৯ মার্চ হলমার্ক সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী ফের বলেন, ‘হলমার্কের ঘটনা ভয়ঙ্কর কিছু ছিল না। বিষয়টি নিয়ে বুদ্ধিজীবী ও ব্যাংকাররা হৈচৈ শুরু করেছেন। বুদ্ধিজীবী ও ব্যাংকারদের কথা রাবিশ ও বোগাস।’ এর আগে ২৫ মার্চ সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, হলমার্কের এমডির জামিনের ব্যবস্থা হচ্ছে। ২৬ মার্চ সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে সন্ত্রাসীদের নেত্রী হিসেবে অভিহিত করেন।
২০১০ সালের ২ নভেম্বর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, বাংলাদেশকে ট্রানজিট কান্ট্রি বানাব। ট্রানজিটের বিনিময়ে ভারতের কাছ থেকে শুল্ক নয়, কিছু একটা নেব। যারা ট্রানজিটের বিরোধিতা করে তারা বোকা। ২০১১ সালের ৯ জুন জাতীয় সংসদে তার বাজেট বক্তৃতায় ‘ট্রানজিট দিয়ে বাংলাদেশকে সুইজারল্যান্ড বানানোর স্বপ্ন দেখান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
গত ৯ জুলাই ‘রাবিশ ও বোগাস’ উপাধি পাওয়া অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আমার দেশ-এর মজলুম সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা শুরু করেন। সিলেটে এক অনুষ্ঠানে তিনি মাহমুদুর রহমানকে ‘অসত্ লোক’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি মক্কা শরিফে গিলাফ পরিবর্তনের ছবিকে সাঈদীর জন্য মানববন্ধনের ছবি বলে ছাপিয়ে দেশবাসীকে ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তার হাতে তথ্যপ্রযুক্তি অত্যন্ত বিপজ্জনক।’ উল্লেখ্য, গিলাফ পরিবর্তন নিয়ে আওয়ামী মিথ্যাচারের জবাব আমার দেশ একাধিকবার দিলেও সেসব যুক্তির ধার ধারছেন না দলটির নেতারা। এ নিয়ে দলটি ধর্মব্যবসা করতেও চাইলেও দেশের মানুষ তাতে সাড়া দেয়নি। আওয়ামী লীগের নেতারা দফায় দফায় বিষয়টি বলে ব্যর্থ হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত আবুল মাল আবদুল মুহিতও আমার দেশ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার শুরু করেছেন।