Sunday, 21 July 2013

ভুয়া সনদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় এএসপি!


সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের প্রভাষক শাহিনুর রহমান তার পিতার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে সহকারী পুলিশ কমিশনারের (এএসপি) চাকরি বাগিয়ে নিয়েছেন।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি)জমা দেওয়া তার মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সনদ ভুয়া বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত শাহীনুর ঢাকার প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধ‍া নেতাদের টাকা দিয়ে  তদন্ত রিপোর্ট  বদলে নেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।  শাহিনুরের এই ভুয়া সনদ তৈরিতে সাতক্ষীরার  প্রভাবশালী এক মুক্তিযোদ্ধ‍া ও আওয়ামী লীগ নেতা সহায়তা করেছেন বলেও অনুসন্ধানে জানা গেছে।
আর ওই ভুয়া সনদ পিএসসিতে জমা দিয়েই বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি বাগিয়েছেন শাহিনুর।  
তার ভুয়া সনদ প্রসঙ্গে পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক কেবিনেট সচিব ড. সাদত হোসেন বলেন, কোন সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় বয়স থাকলে যে কেউ অন্য কোন সরকারি চাকরির জন্য পরীক্ষা দিতে পারেন। তবে কোন পরিস্থিতিতেই তথ্য গোপন করা ঠিক নয়। মিথ্যা তথ্য দিয়ে কেউ চাকরির চেষ্টা করলে তা সরকারি চাকরি বিধিমালার সুস্পষ্ট লংঘন হিসেবি বিবেচিত হবে।
প্রসঙ্গত, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজে ইসলামের ইতিহাস বিভাগে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে প্রভাষকের চাকরি করতেন শাহিনুর রহমান। তিনি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মুড়াকলিয়া গ্রামের কৃষক মোবারক আলী সরদারের ছেলে।
৩১তম বিসিএস-এর মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সহকারী পুলিশ সুপার পদে চাকরি পাওয়ার পর তার ভুয়া সনদের বিষয়টি বেরিয়ে পড়ে।
গত জুনের প্রথম সপ্তাহে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বিষয়টি তদন্তের  নির্দেশ দেওয়া হয় সাতক্ষীরার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ( সদর সার্কেল) গোলাম মোস্তফাকে।  
১৬ জুন ১৩২৪ নম্বর স্মারকে তালা থানার  প্রাক্তণ ইউনিয়ন কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা শেখ আয়ুব আলী, প্রাক্তণ থানা কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা জিএম সবুর, যুদ্ধকালীন কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সোবহান, মুক্তিযোদ্ধা সন্তোষ কুমার, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মইজুদ্দীন ও যুদ্ধকালীন কমান্ডার এরফান আলী সার্কেল অফিসে উপস্থিত হয়ে শাহিনুর রহমানের ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদের বিষয়টি লিখিত সাক্ষ্যে নিশ্চিত করেন।
সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোল্লাহ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি, প্রাথামিক তদন্তে সনদের বিষয়টি ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে। আমরা শিগগিরই একটি তদন্ত প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠাবো।