Monday, 1 July 2013

অধিকার-এর অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদন : ছয় মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার ১৮৪

দেশের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন অধিকার জানিয়েছে, ২০১৩ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) ১৮৪ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। অর্থাত্ প্রতি মাসে গড়ে ৩০ জন অথবা দৈনিক একজন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এর বাইরে ৬ মে ভোররাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতের ওপর বর্বরোচিত হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬১ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে হেফাজতে ইসলাম জানিয়েছে, তাদের কাছে দুই শতাধিক কর্মী নিহত হওয়ার খবর আছে। এছাড়া বহু হেফাজতকর্মী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
গতকাল অধিকার প্রকাশিত ষাণ্মাসিক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই ছয় মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৩২২ জন নিহত এবং ১০ হাজার ৭৩০ জন আহত হয়েছেন। এই ছয় মাসে বিএসএফ ১৫ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে। এ সময় ৮৬ জনকে যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয়েছে, ৫১৬ জন নারী ও মেয়ে শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন যাদের মধ্যে ৭৮ জন গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ভয়াবহ তথ্য হচ্ছে, ওই সময় ৯২ জন মেয়ে শিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছে।
এ সময়ের মধ্যে সরকার দেশের বহুল প্রচারিত দৈনিক আমার দেশ বেআইনিভাবে বন্ধ করে দিয়েছে এবং সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে তার ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এছাড়া সরকার দিগন্ত ও ইসলামিক টিভিও বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে অধিকার-এর কণ্ঠরোধ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে সরকার।
প্রতি মাসে গড়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ৩০ জন : অধিকার-এর তথ্যানুযায়ী জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ১৮৪ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। অর্থাত্ প্রতি মাসে গড়ে ৩০ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে ৩১ জন ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে র্যাবের হাতে ১৫ জন ও পুলিশের হাতে ১৬ জন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিহতদের মধ্যে ১৪২ জন গুলিতে মারা গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে পুলিশের গুলিতে ১০৪ জন, পুলিশ-বিজিবির গুলিতে ২৮ জন, বিজিবির গুলিতে সাতজন, র্যাবের গুলিতে দুজন এবং র্যাব-কোস্টগার্ডের হাতে একজন নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে ৬১ জন জামায়াত-শিবির সমর্থক, ১০ জন বিএনপির নেতাকর্মী, সাতজন হেফাজতে ইসলামের সদস্য, একজন মাদরাসা শিক্ষক, একজন আওয়ামী লীগ কর্মী, একজন ইসলামিক শ্রমিক আন্দোলনের সদস্য, একজন পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল জনযুদ্ধ) নেতা, একজন গণমুক্তি ফৌজের সদস্য, দুজন ব্যবসায়ী, একজন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্য, একজন দর্জি, তিনজন মাদক ব্যবসায়ী, একজন জেলে, একজন মাছ ব্যবসায়ী, একজন জমির দালাল, একজন ইলেকট্রিশিয়ান, একজন সবজি ব্যবসায়ী, একজন চা দোকানের সহকারী, একজন বাস হেলপার, দুজন পোশাক শ্রমিক, পাঁচজন ছাত্র, একজন তুস ব্যবসায়ী, একজন দিনমজুর, চারজন কৃষক, একজন হকার, দুজন গাড়ির ড্রাইভার, দুজন ভ্যানচালক, একজন ইটভাটার শ্রমিক রয়েছেন।
অধিকার জানায়, ২৯ এপ্রিল জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে অনুষ্ঠিত ইউনিভার্সল পিরিওডিক রিভিউ (ইউপিআর) সেশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি অস্বীকার করেন। অথচ বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০১৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত ৬১৯ জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ থাকলেও একটি হত্যাকাণ্ডেরও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি
কারা হেফাজতে মৃত্যু : এই ছয় মাসে ৩১ জন কারা হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানা গেছে।
গণপিটুনিতে মৃত্যু : এই ছয় মাসে ৬১ ব্যক্তি গণপিটুনিতে মারা গেছেন বলে জানা যায়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে গুম : গত ২৯ এপ্রিল জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে অনুষ্ঠিত ইউপিআর সেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি গুমের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে প্রকৃত বাস্তবতা হলো বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গুমের ঘটনাগুলো ঘটছে। ভিকটিমদের পরিবারগুলো দাবি করে আসছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে ভিকটিমদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত ৮৯ ব্যক্তি গুমের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই বিরোধীদলের বা ভিন্ন মতের ব্যক্তি।
সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ : আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার এবং রিমান্ডে নিয়ে তার ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়। এছাড়া কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হয়।
এছাড়া ৬ মে ভোররাতে শাপলা চত্বরে অবস্থানরত অনেক ঘুমন্ত এবং নিরস্ত্র হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের ওপর গুলি, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের অনেককে হতাহত করে। সেই রাতে দিগন্ত ও ইসলামিক টিভি নামে দুটি বিরোধীদল সমর্থক টিভি চ্যানেল সরাসরি এই ঘটনা প্রচার করছিল। অভিযান শুরু হওয়ার পর ভোররাত ২টা ৩০ মিনিটের সময় ইসলামিক টিভি এবং ভোররাত ৪টা ২৭ মিনিটের সময় দিগন্ত টিভি চ্যানেল সরকার বন্ধ করে দেয়, যে দুটি চ্যানেল এখনও পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে।
এছাড়া এ ছয় মাসে ৯৪ জন সাংবাদিক আহত, ২৪ জন হুমকির সম্মুখীন, সাতজন আক্রমণের শিকার, ৩০ জন লাঞ্ছিত, পাঁচজন গ্রেফতার, একজন নির্যাতনের শিকার ও ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অধিকার সরকার কর্তৃক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার, আটকাবস্থায় নির্যাতন, আমার দেশ বন্ধ করে দেয়া এবং দিগন্ত ও ইসলামিক টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়াসহ সংবাদ মাধ্যম এবং সাংবাকিদের ওপর হামলার ব্যাপারে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। অধিকার অবিলম্বে মাহমুদুর রহমানের মুক্তি, আমার দেশ প্রেস খুলে দেয়া এবং দিগন্ত ও ইসলামিক টিভি বন্ধের সরকারি অন্যায় আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
রাজনৈতিক সহিংসতা : অধিকার-এর তথ্য অনুযায়ী এই ছয় মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৩২২ জন নিহত এবং ১০ হাজার ৭৩০ জন আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ১৫৫টি এবং বিএনপির ৪৪টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ১৫ জন নিহত ও ১৭৯২ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘাতে দুজন নিহত ও ৫০১ জন আহত হয়েছেন।
হেফাজতে ইসলামের ওপর গণহত্যা : আল্লাহ ও মহানবী (সা.) সম্পর্কে কটূক্তি এবং ইসলাম ধর্মকে বিকৃত করে বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখির সঙ্গে জড়িত ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিতে ৬ মে ভোররাত যৌথবাহিনীর প্রায় ১০ হাজার সশস্ত্র সদস্য রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে হেফাজত কর্মীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং শাপলা চত্বর ও এর আশপাশে থাকা নিরস্ত্র এবং ঘুমন্ত হেফাজত কর্মীদের ওপর নির্বিচারে গরম পানি, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড এবং গুলি ছুড়তে থাকে। এই ঘটনায় অধিকার-এর সর্বশেষ পাওয়া তথ্যমতে এ পর্যন্ত সেই ভোররাতের অভিযানে ৬১ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন।
অধিকার সমাজকে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে বের করে আনার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করার দাবি জানিয়ে ওই দিনের ঘটনায় মোট নিহত ও আহত মানুষের সংখ্যা এবং তাদের অবস্থান সরকারকে নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে এবং কোথায় নিহতদের কবর দেয়া হয়েছে তাও সরকারকে জানানোর আহ্বান জানাচ্ছে।
বিএসএফ কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘন : গত ১২ জুন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে বলেন, ‘সীমান্তে হত্যাকাণ্ড কমেছে। আমার জানামতে, গত ছয় মাসে সীমান্তে একটিও হত্যাকাণ্ড হয়নি।’ অথচ গত ছয় মাসেও এই সহিংসতা চরমভাবে বিরাজ করছে। অধিকার-এর তথ্য অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসে বিএসএফ ১৫ বাংলাদেশীকে হত্যা করে। এদের মধ্যে ১১ জনকে গুলিতে, দু’জনকে নির্যাতন করে, একজনকে স্পিডবোট দিয়ে ধাক্কা দিয়ে আহত করে ও একজনকে ধাওয়া দিয়ে পানিতে ফেলে মারা হয়েছে। এছাড়া ৫৩ বাংলাদেশীকে আহত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে ৩৬ জন বিএসএফের গুলিতে, ১৫ জন নির্যাতনে ও দু’জন ককটেল বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন। এ সময়ে বিএসএফ কর্তৃক অপহৃত হন ৬০ বাংলাদেশী।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি সহিংসতা : ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলায় প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তায় এবং সরকারি দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের প্রত্যক্ষ মদতে দুর্বৃত্তরা বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের শত বছরের পুরনো ১২টি বৌদ্ধবিহার ও মন্দিরে অগ্নিসংযোগ করে এবং বৌদ্ধপল্লীর ৪০টির মতো বসতবাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় ১৯টি মামলায় ১৫ হাজার ১৮২ জনকে আসামি করা হয়। স্থানীয় বৌদ্ধধর্মীয় নেতাদের অভিযোগ, যারা মন্দিরে হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে, মিছিল-মিটিং করেছে, তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর নিরীহ লোকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, এই হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। পরে ২০১৩ সালে সঙ্কটজনক রাজনৈতিক অবস্থার সুযোগে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাগরিকদের সম্পদের ওপর হামলা করছে এবং তাদের মন্দিরগুলোতে পরিকল্পিতভাবে আগুন দিচ্ছে অথবা ভেঙে ফেলছে।
শ্রমিকদের অধিকার : গত ২৬ জানুয়ারি ২০১৩ স্মার্ট গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে ৮ শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত হন। এরপর গত ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে এক হাজার ১৩১ শ্রমিক নিহত ও প্রায় তিন হাজার শ্রমিক আহত হন।
১৪৪ ধারা : জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসে প্রশাসন কর্তৃক ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে বিরোধী রাজনৈতিক দলের অনেক সভা-সমাবেশ বন্ধ করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে ২৭টি ক্ষেত্রে সভা-সমাবেশ বন্ধ করে দিয়েছে।
নারীর প্রতি সহিংসতা : নারীর প্রতি সহিংসতা চরম আকার ধারণ করেছে। এই ছয় মাসে ২৫৫ নারী যৌতুক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে ৮৬ জনকে যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয়েছে এবং ১৬৩ জন বিভিন্নভাবে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ছয় মাসে মোট ৫১৬ নারী ও মেয়ে শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে ২২১ নারী ও ২৮৪ মেয়েশিশু। এই ২২১ নারীর মধ্যে ১৬ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে, ৭৮ জন গণধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং দুই নারী আত্মহত্যা করেছে। ২৮৪ মেয়েশিশুর মধ্যে ১৮ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এবং ৯২ জন গণধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং তিন শিশু আত্মহত্যা করেছে।
এসিড সহিংসতা : এই ছয় মাসে ১৮ জন এসিডদগ্ধ হয়েছেন। এদের মধ্যে ১২ নারী, চার পুরুষ, এক বালিকা এবং এক বালক।
লিমন প্রসঙ্গ : ঝালকাঠি জেলায় র্যাবের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে পা-হারানো লিমন তার চিকিত্সার জন্য ঢাকায় এসে গত ২৩ জুন তার মা হেনোয়ারা বেগম ও বাবা তোফাজ্জেল হোসেনকে নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানের সঙ্গে দেখা করতে গেলে ড. মিজানুর রহমান লিমনকে রাষ্ট্র অথবা সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করে অর্থনৈতিক দিক এবং নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে র্যাবের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে তার মায়ের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের জন্য পরামর্শ দেন। এ ব্যাপারে লিমনের বাবা তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘মনে করেছিলাম লিমনের পা হারানোর বিচার হয়তো একদিন পাব। মিজানুর রহমান স্যারের প্রস্তাবের পর বুঝলাম, এদেশে গরিবের জন্য বিচার নেই।’
অধিকার এর তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছে। অধিকার মনে করে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান, যার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল ভিক্টিমদের পক্ষে দাঁড়ানো এবং রাষ্ট্রের নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া, তিনি তা না করে নির্যাতনকারীদের পক্ষে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। উল্লেখ্য, ড. মিজানুর রহমানের কাজে সন্তুষ্ট হয়ে সরকার গত ২৩ জুন থেকে তাঁকে আরও তিন বছরের জন্য নিয়োগ দিয়েছে।
অধিকারসহ এনজিও নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ : প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনস্থ এনজিওবিষয়ক ব্যুরো ‘বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম) রেগুলেশন আইন’ নামের একটি খসড়া আইন প্রস্তুত করেছে। এই প্রস্তাবিত আইন মানবাধিকার সংগঠন ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে আরও বেশি মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ এবং বিশেষ করে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সংগঠিত হওয়ার এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করবে।
এছাড়া সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক অধিকার প্রতিনিয়ত হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছে। সরকারি সংস্থা এনজিওবিষয়ক ব্যুরো অধিকার-এর একটি মানবাধিকার সংক্রান্ত প্রকল্প ছাড় না দিয়ে দুই মাস ২৬ দিন ধরে আটকে রেখেছে। এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর ‘পরিপত্র’ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সংস্থা কর্তৃক প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য প্রাপ্তির ৪৫ দিনের মধ্যেই প্রকল্প ছাড় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এনজিওবিষয়ক ব্যুরোকে দিতে হয়। অধিকার ৪ এপ্রিল ২০১০ ‘জেন্ডার অ্যান্ড ইলেকশন ভায়োলেন্স’সংক্রান্ত প্রকল্পের অনুমোদন চেয়ে চিঠি ও এ সংক্রান্ত তথ্য এনজিওবিষয়ক ব্যুরোতে জমা দিয়েছে, কিন্তু দুই মাস ২৬ দিন পার হয়ে গেলেও এনজিওবিষয়ক ব্যুরো এখন পর্যন্ত প্রকল্পটির ছাড় দেয়নি।